মেঘনা আলমের ল্যাপটপ, মোবাইল ফরেনসিকের নির্দেশ

মেঘনা আলমের ল্যাপটপ, মোবাইল ফরেনসিকের নির্দেশ
২৯ জুলাই, ২০২৫ ১৩:৪৭  
২৯ জুলাই, ২০২৫ ১৫:৫৫  

ঢাকার ধানমন্ডি থানায় প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জব্দ করা মডেল মেঘনা আলমের ম্যাকবুক, ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনে রাষ্ট্রবিরোধী কোনো উপাদান আছে কি না, তা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এ ছাড়া এসব ডিভাইসের মালিকানা যাচাই করে আগামী ৩১ আগস্ট তদন্তকারী কর্মকর্তাকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

২৯ জুলাই, মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এম এ আজহারুল ইসলামের আদালতে এ আদেশ দেয়।

এদিন সকালে মেঘনা আলমকে আদালতে হাজির করা হলে বেলা ১১টা ৯ মিনিটে শুনানি শুরু হয়। এ সময় মেঘনা আলম হাতে জায়নামাজ নিয়ে আদালতের কাঠগড়ায় ওঠেন। তার আইনজীবী মহসিন রেজা ও মহিমা বাঁধন মেঘনার ম্যাকবুক, ল্যাপটপ, মোবাইল ও পাসপোর্ট ফেরত চাইলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, এটি একটি গুরুতর মামলা, যা এখনও তদন্তাধীন। মেঘনা আলমের ডিভাইসগুলো ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও কূটনীতিকদের ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এ সময় মেঘনা আলম আদালতকে বলেন, তার সঙ্গে বিভিন্ন রাষ্ট্রদূতের পেশাগত সম্পর্ক রয়েছে। তিনি প্রমাণ করতে পারবেন যে তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলা হয়েছিল, নাকি তিনি কাউকে ফাঁদে ফেলেছিলেন। বিচারক তখন তাকে বলেন, এটি এখন আলোচনার বিষয় নয়। মেঘনা আরও বলেন, তিনি ছয়টি মহাদেশের ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে কাজ করেন এবং তার ডিভাইস ও পাসপোর্ট ফেরত চান।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, মেঘনা আলম নারীদের নিয়ে কী ধরনের কাজ করেন, তা মামলার দলিলে স্পষ্ট। তিনি মূলত নারীদের ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত ১০ এপ্রিল বিশেষ ক্ষমতা আইনে মেঘনা আলমকে ৩০ দিনের আটকাদেশ দেওয়া হয়েছিল, যা পরে বাতিল হয়। ১৭ এপ্রিল ধানমন্ডি থানার মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। ২৮ এপ্রিল আদালত তাকে জামিন দেন এবং পরদিন তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, মেঘনা আলম ও দেওয়ান সমিরসহ কয়েকজন একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য। তারা সুন্দরী তরুণীদের দিয়ে বিদেশি কূটনীতিক ও ধনী ব্যবসায়ীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায় করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দেওয়ান সমির কাওয়াই গ্রুপ ও সানজানা ইন্টারন্যাশনাল নামক প্রতিষ্ঠানের মালিক বলে জানা যায়।