দুর্বৃত্তের হামলায় কুয়েটের দুই শিক্ষার্থী হাসপাতালে

দুর্বৃত্তের হামলায় কুয়েটের দুই শিক্ষার্থী হাসপাতালে
২৮ মে, ২০২৫ ০৮:০২  
২৮ মে, ২০২৫ ০৯:০৩  

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) দুই শিক্ষার্থীর ওপর হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সাফওয়ান আহমেদ ইফাজ (২২)।

তিনি নগরীর টুটপাড়া মোল্লা এলাকার বাসিন্দা মহসিন জমাদ্দারের ছেলে এবং অপরজন এনার্জি সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মোহাম্মদ আলসাত রাজিম (২২)।

মঙ্গলবার (২৭ মে) বিকেল আনুমানিক ৪টার দি‌কে কুয়েট সড়কে নি‌রি‌বি‌লি রেস্তরাঁর সাম‌নে এ ঘটনা ঘ‌টে।  

হাসপাতাল সূত্র জানায়, তারা দুই জন কুয়েট রোড নিরিবিলি রেস্তরার সামনে অবস্থান করছিল। বিকেল পৌনে ৪ টার দিকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত এসে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার সময় তাদের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ইফাজের বাম হাতে আঘাত করে এবং তার সাথে থাকা রাজিমকে কিল-ঘুষি মেরে আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসে।

আহত শিক্ষার্থী সাফওয়ান আহমেদ ইফাজ বলেন, ‘যারা আমাদের মেরে আহত করেছে, তাদের আমরা চিনি না। আর আমাদের ওপর কেন এ হামলা, তার হিসাব করতে পারছি না।’

এ বিষয়ে খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, ‘এ রকম ঘটনা শুনেছি। কোথায় এ হামলা হয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। তবে কুয়েট এলাকায় গিয়ে খবর নিচ্ছি। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে আহত দুই শিক্ষার্থী কুয়েট শাখা ছাত্রদলের কর্মী বলে দাবি করা হয়েছে। তাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আগামীকাল বুধবার বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে মহানগর ছাত্রদল। রাত ১০টার দিকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেছেন, ৫ আগস্টের পর ছাত্রদল সর্বোচ্চ ধৈর্য ও আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছে। কিন্তু এই বিষয়টিকে অনেকে দুর্বলতা ভাবছে। যদি প্রয়োজন হয়, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে হত্যা ও গুপ্ত হামলার সমুচিত জবাব দেবে।

এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েটে সংঘর্ষের ঘটনায় ২৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে চলছে অচলাবস্থা। পরে শিক্ষার্থীদের এক দফা আন্দোলন ও আমরণ অনশনের প্রেক্ষিতে গত ২৫ এপ্রিল উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যকে অপসারণ করে সরকার। গত ১ মে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হযরত আলীকে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৪ মে থেকে ক্লাস শুরুর কথা থাকলেও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে ফেরেননি শিক্ষকরা। ছাত্রদের হাতে শিক্ষক লাঞ্ছিতের বিচার না হওয়া পর্যন্ত ক্লাসে ফিরবেন না বলে জানায় কুয়েট শিক্ষক সমিতি। এরপর গত বুধবার (২১ মে) ড. মো. হযরত আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন।