প্রযুক্তিকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিতে সৃজনশীলতায় গুরুত্ব দিচ্ছে আইসিটি বিভাগ : পলক

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ২৩:১৩  
প্রিযুক্তি ব্যবহার করে সৃজনশীল ও প্রগতিশীল প্রজন্ম গড়ে তুলতেই কাজ করছে আইসিটি বিভাগ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে আয়োজিত মুজিব অলিম্পিয়াডে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এমনটাই জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি বলেছেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে প্রযুক্তি থেকে জ্ঞানভিত্তিক সৃজনশীল অর্থনীতির দিকে এগিয়ে থেকে বাংলাদেশকে নেতৃত্বের আসনে বসাতে হলে আমাদের তরুণ-তরুণী, শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল ও সৃষ্টিশীল কাজে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। যাতে করে কম্পিউটার যে কাজগুলো করতে পারে না, সেই কাজগুলোই মানুষের ব্রেইন করবে। বাকি কাজগুলো করবে কম্পিউটার ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স। সেজন্য আমরা আইসিটি বিভাগ থেকে আরো সৃষ্টিশীল ও সৃজনশীল কাজগুলোকে উদ্বুদ্ধ করবো। বুধবার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি জানিয়েছেন শিগগিরি শিশু-কিশোরদের জন্য একটি বিশ্বমানের থ্রিডি এনিমেশন ফিল্ম এবং মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ইন্টারঅ্যাক্টিভ গেম তৈরি করতে যাচ্ছে আইসিটি বিভাগ। একইসঙ্গে দেশজুড়ে প্রতিটি হাইটেক পার্কে একটি করে সিনেপ্লেক্স এবং ৬৪টি জেলাতেই ‘এ্যডুট্রেইনমেন্ট’ তৈরি করা হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, দেশের সেরা এনিমেটরদের নিয়ে শিগগিরই আমরা শেখ রাসেলকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর লেখা ‘রাসেল আমার ছোট্ট সোনা’ অবলম্বনে ‘টুমরো’ থ্রিডি এনিমেটেড মতো বিশ্বমানের থ্রিডি এনিমেশন ফিল্ম তৈরি করবো। পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্রকরে ইন্টারঅ্যাক্টিভ গেম ‘মুক্তিযুদ্ধ’ তৈরির কাজ হাতে নেয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের এই শিশু-কিশোর তরুণ ছাত্র-ছাত্রী ভাই-বোনদের একটি সুস্থ্য ধারার বিনোদন দেয়ার জন্য দেশজুড়ে প্রতিটি হাইটেক পার্কে একটি করে সিনেপ্লেক্স নির্মাণ করা হচ্ছে।
এতে করে সিরিয়া-ইরাক ও অফগানস্তানের মতো দেশগুলোর অবস্থা থেকে বাংলাদেশকে সুরক্ষায় দেশে একটি সৃজনশীল ও প্রগতিশীল প্রজন্ম গড়ে তুলতে আইসিটি বিভাগ কাজ করছে জানিয়ে পলক বলেন, “প্রযুক্তিকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিতে, তরুণ প্রজন্ম যেন প্রযুক্তির অপব্যবহার না করে সৃজনশীল ব্যবহার করতে পরে তার জন্য আমরা দেশের ৬৪টি জেলাতেই ‘এ্যডুট্রেইনমেন্ট’তৈরি করবো। এরকম সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী উদ্যোগে আজকের শিশুরা ২০৪১ সাল নাগাদ প্রত্যেকেই একেকজন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সোনার মানুষে পরিণত হয়ে সোনার বাংলা গড়ে তুলবে।”
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব এন এম জিয়াউল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন আইসিটি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজাউল মাকসুদ জাহিদী। অনুষ্ঠানে তিন ক্যাটাগরিতে মোট ৩২ জনকে পুরস্কৃত করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। বিজয়ীদের মধ্যে মোট ৪২ লাখ টাকার ডামি চেকসহ ক্রেস্ট ও সনদ বিতরণ করা হয়। স্বল্পদৈর্ঘ চলচ্চিত্র নির্মাণ করে মোঃ জোবায়েদুর রহমান, আদনান কবির, সুদিপ্ত সহা, মোঃ সামিউল আলম, শাখাওয়াত হোসেন, মোঃ ইমরুল হাসান, সাদীকুর রহমান, শাহেদ শাহরুখ, রুম্মান বিন রেজা এবং ‘কবির বাবু পেয়েছেন ২ লাখ করে টাকা। এছাড়া কুইজ প্রতিযোগিতায় ঢাকা থেকে সিফাত রাব্বি প্রিয়ম ও এস কে মাহের আনসারি মাহিম; বরিশাল থেকে মোঃ নাজিব আলম, রাজলক্ষী মণ্ডল ও আব্দুল্লাহির রাকিব আল হাসান; ময়মনসিংহ থেকে মোঃ মারজু আলম, নেত্রকোনা থেকে মোঃ কামরুজ্জামান জারিফ, ভোলার চরফ্যাশন থেকে মোঃ আতিকুল্লাহ, গাইবান্ধা থেকে সাবিত ইবনে মোয়াজ এবং মাগুরা থেকে তালহা জুবায়ের বিজয়ী হয়েছেন। অপরদিকে আমার বঙ্গবন্ধু প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছেন ঢাকার কেএম আফঈদ নূর, সাইফুল ইসলাম খান, বর্ণিক বৈশ্য, ইসরাত জাহান নূর ইভা, নারায়ণগঞ্জের সিদরাতুল মনতাহা, পিরোজপুরের চন্দ্রিকা মণ্ডল, পটুয়াখালীর এ এম এন আকিব, ঝালকাঠির শতদল বিশ্বাস, জয়পুরহাটের মোছাঃ হাবিবা সুলতানা বৃষ্টি, নরসিংদির মোছাঃ তহুরা আক্তার তন্নী, শরীয়তপুরের দেওয়ান ফারিয়ো তাসনিম এবং গোপালগঞ্জের বিশ্বজিৎ সরকার।