টেলিগ্রামে কোটি টাকার প্রতারণায় গ্রেফতার সোহেল

টেলিগ্রামে কোটি টাকার প্রতারণায় গ্রেফতার সোহেল
১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৯:৪৬  

অনলাইন প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রামে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ১ কোটিরও বেশি টাকা হাতিয়ে নেয়া চক্রের আরও এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ১১ জানুয়ারি (শনিবার) এক বিজ্ঞপ্তিতে সোহেল মিয়া (৪১) নামের এই অনলাইন প্রতারক চক্রের সদস্যকে গ্রেফতারের কথা জানানো হয়।  গ্রেফতার সোহেল কুমিল্লার মেঘনা থানার ভাওরখোলা ইউনিয়নের বৈদ্যনাথপুর এলাকার মৃত আবদুর রাজ্জাকের ছেলে।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার ধলপুর এলাকা থেকে ১০ জানুয়ারি শুক্রবার তাকে আটক করে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইউনিটের একটি আভিযানিক দল। সিআইডি জানায়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রতারক চক্রটির এক সদস্য অজ্ঞাত একটি হোয়াটস্‌অ্যাপ নম্বর থেকে মামলার বাদীকে অনলাইনে পার্ট-টাইম চাকরির প্রস্তাব দেয়। ওই সময় বাসায় বসে অবসর সময়ে কাজ করে উপার্জন করা যাবে ভেবে বাদী চাকরি করতে রাজি হন এবং চক্রটির নির্দেশনা অনুযায়ী একটি অনলাইন সাইটে ওয়ালেট খুলে নির্ধারিত টাস্ক সম্পন্ন করে প্রথম দফায় ১৫০ টাকা উপার্জন করেন।

এভাবে পর্যায়ক্রমে ২৮টি টাস্ক সম্পন্ন করলে প্রতারক চক্রটি বাদীকে ৩৮ হাজার টাকা দেয়ার প্রস্তাব দেয়। পাশাপাশি তাদের দেখানো পদ্ধতি অনুসরণ করে ১৪টি টাস্ক সম্পন্ন করে ২ হাজার ১০০ টাকা উপার্জন করেন। এরপর প্রতারক চক্র ২ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলে ২৮শ’ টাকা পাবে এমন প্রলোভন দেখিয়ে বাদীকে একটি টাস্ক দেয়। তবে সেই টাস্ক সম্পন্ন করলে বাদীর ওয়ালেটে অর্থ জমা হয়েছে দেখালেও তা উত্তোলনে ব্যর্থ হন তিনি। পরে বিষয়টি প্রতারক চক্রকে জানালে চক্রটি একটি বিকাশ অ্যাকাউন্ট দিয়ে সেখানে টাকা পাঠাতে বলে। সেই সঙ্গে তাকে আরও বলে যে, এমনটা না করলে তিনি জমা হওয়া অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন না।

পরবর্তীতে এভাবে ধাপে ধাপে প্রলোভন দেখিয়ে মোট ৪টি পৃথক বিকাশ অ্যাকাউন্ট ও ৯টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বাদীর কাছ থেকে প্রতারণা করে ১ কোটি ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৩০৫ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। একপর্যায়ে হাতিয়ে নেয়া অর্থ ফেরত চাইলে বাদীকে প্রাণনাশের হুমকিসহ নানা ভয়-ভীতি দেখায় প্রতারক চক্রটি। পরে প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে ২০২৫ সালের ২১ মে ডিএমপির লালবাগ থানায় একটি মামলা করেন ভুক্তভোগী।

মামলার পর বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু করে সিআইডি। একপর্যায়ে গত ৫ ডিসেম্বর প্রতারক চক্রের মূল হোতা নাদিমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হলে নাদিম প্রতারণার বিষয় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সেই সঙ্গে চক্রের অপর সদস্যদের নাম প্রকাশ করেন। সবশেষ শুক্রবার তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ ও আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারক চক্রের অন্যতম হোতা সোহেল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় সোহেলকে আদালতে সোপর্দ করার পাশাপাশি রিমান্ডের আবেদনসহ চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান বলেও জানিয়েছে সিআইডি।

ডিবিটেক/সিটিও/ইকে