ঠাঁই নেই ইয়্যুথ টেক কার্নিভালে

২২ মে, ২০২৪ ১১:৫৩  

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রাজত্বে বাংলাদেশের তরুণদের অবস্থানকে সুসংহত করতে রাজধানীর কেআইবি কেন্দ্র মিলনায়তনে বুধবার সকালে বসেছে দেশের প্রথম ইয়্যুথ টেক সামিট। তারুণ্যের এই বসন্তে উদ্যোক্তাদের গল্প শুনতে অংশ গ্রহণকারীদের ভীড় ছিলো বেশুমার। মিলনায়তনে নেই তিল ধারনের ঠাঁই। অতিরিক্ত চেয়ারে জায়গা দেয়া হয় বক্তাদের। মেঝেতে বসেও ভবিষ্যত ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন তারা। কিন্তু ছিলো না কোনো হট্টগোল। সবাই শুনেছেন মন্ত্রমুগ্ধের মতো। উপস্থিতিদের ৪৫ শতাংশই ছিলো ২৫ বছরের নিচে।

মোটিভেশনাল স্পিকার গোলাম সামদানি ডনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উইন্ড অ্যাপ সহ-প্রতিষ্ঠাতা ফাহাদ আহমেদ গল্প বলতে গিয়ে বলেন, আমাদের প্রজন্মটা আচরণে অস্থির। তবে সফল হতে হলে চার-ছয় হাঁকানোর বদলে এক-দুই করে ক্রিজে থেকে রান করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে মঞ্চে গিয়ে নিজের বলার মতো গল্পের প্রতিষ্ঠাতা ইকবাল বাহার ভালোবাসার কাজ ও সৎসঙ্গ বেছে নেয়ার আহ্বান জানান। দেশের জন্য বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিয়ে উদ্যোক্তা তৈরিতে নিজের উদ্যোগেন কথা তুলে ধরেন তিনি।

এরপরই প্রাণ আর এফ এল গ্রুপ প্রধান নির্বাহী আহসান খান চৌধুরী স্টেজে উঠে বলেন, আমি আজ আপনাদের কাছ থেকে শিখলাম। আজ আমি স্টুডেন্ট। আমি এখন চীনের কুনমিং এ ব্যবসা শুরু করছি। বিশ্বের ১৮০টি দেশে ছড়িয়ে আছে প্রাণ।

এসময় প্রাণকে স্টর্টআপে বিনিয়োগের আহ্বান জানান বিডিজবস প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুর। প্রতি উত্তরে আহসান খান বললেন প্রাণের বিনিয়োগের ঘাটতি নেই, ঘাটতি অছে মেধার। আমরা স্টার্টআপদের সাথে চলতে চাই।

মিত্র ফিনটেক লিমিটেডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও  কিশওয়ার হাসেমী জানলেন যখন দেশে রাইড শেয়ার নিয়ে ধুন্ধুমার, তখন সে কীভাবে ফিনটেক করলো। বললেন, একটা সময় হয়তো একজন উদ্যোক্তা কাজ করবেন বেশ কিছু এআই টুলস দিয়ে।

আরেকটু সহায়তা পেলেই আইএমএফ'র শর্তযুক্ত প্রাপ্ত ঋণ থেকে দেশের স্টার্টআপরাই সামনে আরো বড় বিনিয়োগ আনতে পারবে বলে মনে করেন এয়ারওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও সায়েম ফারুক।

এআই দাপটে চাকরি হারানোর ভীতি উড়িয়ে দিয়ে এডটেক ওস্তাদের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সৌরভ বড়ুয়া জানালেন, ইলার্নিং এ ডোপামিনটাই বড় চ্যলেঞ্জ। তবে এআই এমন কিছু জব সৃষ্টি করবে যার ভ্যালু হবে আরো বেশী।

এআই ও আইসিটি খাতের উদীয়মান ২০ জন উদ্যোক্তা এবং ১২ জন বক্তা এভাবে একে একে ক্যারিয়ারের অলিগলির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন গল্পে গল্পে। আলোচনা হয় উদ্যোক্তা বান্ধব দৃষ্টিভঙ্গী, নীতিমালা নিয়েও।

ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ঘরে বসেই স্বাস্থ্য পরীক্ষার স্টার্টআপ আমার ল্যাব সহপ্রতিষ্ঠাতা সিইও তাহরীম শাহ, ইনোভেসন টেক সিইও মো: মনিরুল আলম, ফিনটেক মিত্র সিইও কিশোর হাসমী, ইন্টার অ্যাক্টিভ কেয়ারস এর প্রতিষ্ঠাতা রেয়ার আল সামির, প্রোগ্রামিং হিরো সিওও আব্দুর রাকিব প্রমুখ নিজেদের উদ্যোগ সম্পর্কে তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে সবচেয়ে কম বয়সী উদ্যোক্তা ডেভস কোর সিইও আশরাফুল ইসলাম (২৪) জানালেন, যুক্তরাষ্ট্রে এআই নিয়ে স্নাতক করার সময় তাকে শুনতে হয়েছে বাংলাদেশে ইন্টারনেট আছে কিনা এমন নেতিবাচক দৃষ্টভঙ্গী। এ থেকে উত্তরণে তরুণদের নিজে থেকে কথা বলা, নেটওয়ার্কিং, কমিউনুকেশন ও সহযোগী মানসিকতার অধিকারী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এছাড়াও ড্রিমজয় ল্যাবের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও তানভির হোসেন খান, ব্যাকস্পেসের প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল রহমান, সিগমাইন্ড সিইও আবু আনাস শোভন,  মার্কোপোলোর সিইও তাসফিয়া তাসবীন, শিখোর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও শাহির চৌধুরী, আইফার্মার সিইও  ফাহাদ ইফাজ, ড. চাষি'র প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মেদিনা আলী, লার্ন উইথ সুমিতের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও সুমিত সাহা সেমিনারে বক্তব্য রাখেন।

অনূর্ধ্ব ৩৫ বয়সী এই উদ্যোক্তারা নতুন প্রযুক্তি, বিশেষ করে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে কৃষি, স্বাস্থ ও শিক্ষা খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিয়ে সফল হয়ে ইতিমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।