৭ দিনের আল্টিমেটাম
সার্ভার ত্রুটির অভিযোগে জানা গেলো ২০ বছর ধরে লাইসেন্স ছাড়াই চলছে স্টার সিনেপ্লেক্স
ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাগুলো দেখতে রাজধানীবাসী সবচেয়ে বেশি ভিড় জমাচ্ছে স্টার সিনেপ্লেক্সের বিভিন্ন শাখাতে। বহু দর্শক টাকা পরিশোধ করে টিকেট না পাওয়ার অভিযোগ এনেছেন। অনলাইনে পেমেন্ট কেটে নেওয়ার পরও টিকিট কনফার্ম না হওয়ায় দেশের সর্বাধুনিক সিনে থিয়েটার স্টার সিনেপ্লেক্স নিয়ে অভিযোগ তুলেন ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ খ্যাত নির্মাতা কাজল আরেফিন অমি।
সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের ফেসবুক পেজে ‘প্রিয় দর্শক যদি অনলাইন টিকিটিং-এ কোনো সমস্যার সম্মুখীন হন, অনুগ্রহ করে আমাদের ইমেইল করুন [email protected]এ অথবা আপনার কন্টাক্ট নম্বর ও পেমেন্টের স্ক্রিনশটসহ আমাদের ইনবক্স করুন। আপনার সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ’ বার্তা দেয় স্টার সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ। সেই পোস্টের নিচে অনেকেই লেখেন, টিকিট বুকিংয়ের টাকা কেটে নেয়া হলেও টিকিট প্রাপ্তির বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি। আর আগেই লাইসেন্স না থাকার ঘটনায় ভাইরাল হয়েছে প্রযুক্তি নির্ভর প্রেক্ষাগৃহ কর্তৃপক্ষ।
সূত্রমতে, ২৪ মার্চ, মঙ্গলবার রাজধানীর পান্থপথে অবস্থিত দেশের জনপ্রিয় মাল্টিপ্লেক্স ‘স্টার সিনেপ্লেক্স’ এ অভিযান চালায় ভ্রাম্যমান আদালত। সেই অভিযানে প্রায় ২০ বছর ধরে বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা করে আসার তথ্য উঠে আসে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে। তবে লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতার পাশাপাশি গ্রাহকদের টিকিট কেনা নিয়েও ভোগান্তির বিষয়টির প্রমাণও পান আদালত।
এ নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বলেন, ‘অনেক মানুষ টিকিট কাটছেন, কিন্তু এসে টিকিট প্রিন্ট করতে পারছেন না। অথচ তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা উনাদের সঙ্গে কথা বলেছি। উনারা জানিয়েছেন, সাত কর্মদিবসের মধ্যে টাকা রিফান্ড করা হবে।’
সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি তাদের কারিগরি বা সফটওয়্যারজনিত সমস্যা। আদালত এ বিষয়ে বলেন, ‘এটা তাদের সফটওয়্যারের একটা সমস্যা। এটা আমরা যখন অন্যান্য জায়গাতেও পোস্ট দিয়ে কোনো কিছু পারচেজ করতে যাই তখন টাকা কেটে নেয় কিন্তু পেমেন্ট হয় না। এই জিনিসটা হয়। উনারা এটা ইনসিওর করছে, সাত কর্মদিবসের ভিতরে যারা এই প্রবলেম ফেস করতেছেন তাদের টাকা রিফান্ড হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে তারা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে। কিন্তু ভোক্তাদের একটাই সমস্যা যারা অনেক দূর থেকে আসছেন কিন্তু মুভি দেখতে পারছেন না।’
আদালত জানান, ‘এ বিষয়ে আমরা উনাদের সতর্ক করেছি, যেন দ্রুত সফটওয়্যার সমস্যার সমাধান করা হয়। আজকে আমরা কোনো আর্থিক জরিমানা করিনি। অভিযানে এসে আমরা উনাদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় একটি সুযোগ দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে অভিযান শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালতের পক্ষ থেকে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানটি শুধুমাত্র একটি এনওসি (অনাপত্তি পত্র) দিয়ে তাদের ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। ভ্রাম্যমাণ আদালত বলেন, ‘আজকের অভিযানটা দিলেন প্রত্যেকেই দেখলেন আসলে উনাদের যে জিনিসটা হচ্ছে উনারা একটা প্রেক্ষাগৃহ চালাচ্ছে কিন্তু এটাকে আপনার যদি আপনি কোন প্রেক্ষাগৃহ চালান সেক্ষেত্রে আপনাকে লাইসেন্স নিতে হয় জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে বা ডেপুটি কমিশনারের কাছ থেকে।’
‘কিন্তু উনাদের এনওসি নেওয়া আছে তাও ২০০৪ সালে কিন্তু উনারা কোন লাইসেন্স নেননি। এক দিক থেকে চিন্তা করলে উনারা একটা লাইসেন্স গৃহীন ব্যবসা চালাচ্ছেন। আর উনাদের মাদার যে কোম্পানি সেটা হচ্ছে শোমোশন লিমিটেড। কিন্তু উনারা যে স্টার সিনিপ্লেক্স চালাচ্ছেন এটার কোন জায়গাতে মেনশন নাই যে সোমোশন লিমিটেড।’
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ লাইসেন্স ছাড়া এবং কর ফাঁকি দিয়ে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে স্টার সিনেপ্লেক্সের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বড় অঙ্কের জরিমানার ইঙ্গিত দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ডিবিটেক/এমএআর/ইকে





