নিউক্লিয়ার চুল্লি নির্মাণের অনুমতি পেল বিল গেটসের টেরাপাওয়ার
বিল গেটস প্রতিষ্ঠিত পারমাণবিক শক্তি স্টার্টআপ টেরাপাওয়ার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইয়োমিং অঙ্গরাজ্যে একটি নতুন নিউক্লিয়ার চুল্লি (রিঅ্যাক্টর) নির্মাণের অনুমোদন পেয়েছে। মার্কিন নিউক্লিয়ার রেগুলেটরি কমিশন (এনআরসি) এই সপ্তাহে এই অনুমোদন দেয়, যা প্রায় এক দশকের মধ্যে এনআরসি’র প্রথম পারমিট। খবর টেকক্রাঞ্চ।
টেরাপাওয়ারের ‘ন্যাট্রিয়াম’ চুল্লিটি ডিজাইন করা হয়েছে জিই ভের্নোভা হিতাচির সঙ্গে অংশীদারত্বে। এটি ৩৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম, যা আধুনিক পূর্ণ আকারের চুল্লির তুলনায় প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ছোট। তবে অন্যান্য স্টার্টআপের ছোট মডুলার চুল্লির তুলনায় এটি কয়েকগুণ বড়।
ন্যাট্রিয়াম চুল্লিটি গত ৫০ বছরে নির্মিত বেশিরভাগ চুল্লি থেকে ভিন্ন। প্রচলিত চুল্লিগুলো পানি দিয়ে ঠান্ডা করা হলেও ন্যাট্রিয়াম ঠান্ডা করা হবে গলিত সোডিয়াম দিয়ে।
টেরাপাওয়ারের দাবি, এটি নিরাপদতর প্রযুক্তি। এনআরসি ৪০ বছরেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো পানি ছাড়া অন্য মাধ্যমে ঠান্ডা করা বাণিজ্যিক চুল্লি অনুমোদন করল।
চুল্লিটি অতিরিক্ত গলিত সোডিয়াম সঞ্চয়ের মাধ্যমে কাজ করবে। যখন বিদ্যুৎ চাহিদা কম থাকে, তখনও পরমাণু বিভাজন চলতে থাকবে এবং উত্তপ্ত সোডিয়াম সেই শক্তি সঞ্চয় করবে। এই সঞ্চিত শক্তি পরে সৌর ও বায়ু শক্তির ঘাটতি পূরণে ব্যবহার করা যাবে।
এনআরসি’র এই অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ কারণ টেরাপাওয়ার দীর্ঘস্থায়ী পারমিটিং প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে, যা বেসরকারি জমিতে নির্মাণের অনুমতি দেয়। সম্প্রতি জ্বালানি বিভাগ নিরাপত্তা বিধি শিথিল করলেও তা কেবল সংস্থার মালিকানাধীন জমির জন্য প্রযোজ্য।
ডেটা সেন্টারের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদার কারণে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন নিউক্লিয়ার চুল্লি নির্মাণে উৎসাহিত করছে। প্রযুক্তি কোম্পানি ও তাদের প্রতিষ্ঠাতারা পাঁচ ডজনেরও বেশি নিউক্লিয়ার স্টার্টআপে বিনিয়োগ করছে। বিনিয়োগকারীরাও সক্রিয় হয়ে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নিউক্লিয়ার স্টার্টআপগুলোতে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূলধন বিনিয়োগ করেছে। টেরাপাওয়ার একা ২০২৪ সালের জুনে শেষ হওয়া ৬৫০ মিলিয়ন ডলারের রাউন্ডসহ মোট ১.৭ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে।
তবে পারমাণবিক শক্তি এখনো সবচেয়ে ব্যয়বহুল নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি মাধ্যম। সৌর, বায়ু ও ব্যাটারি প্রযুক্তির দাম কমার কারণে এই প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হয়েছে। নিউক্লিয়ার স্টার্টআপগুলো ব্যাপক উৎপাদনের মাধ্যমে খরচ কমানোর আশা করলেও এই তত্ত্ব এখনো প্রমাণিত হয়নি।
ডিবিটেক/বিএমটি







