শুল্ক নীতি ইস্যুতে ট্রাম্প সরকারের বিরুদ্ধে মামলা নিনটেন্ডোর
জাপানি ভিডিও গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিনটেন্ডো মার্কিন সরকারের শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতে দায়ের করা এই মামলায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে আদায় করা শুল্ক ফেরত চাওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি ওই শুল্ক আরোপকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। খবর এনগ্যাজেট।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের (আইইইপিএ) আওতায় বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ শুরু করে। নিনটেন্ডো যুক্তি দিয়েছে, এই শুল্ক আরোপের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ‘অবৈধ নির্বাহী আদেশের কারণে যথেষ্ট ক্ষতির’ সম্মুখীন হয়েছে। মামলায় প্রতিষ্ঠানটি ‘সুদসহ দ্রুত ফেরত’ দাবি করেছে ।
এই শুল্ক নীতি নিনটেন্ডোর ব্যবসায় সরাসরি প্রভাব ফেলে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের নতুন কনসোল ‘নিনটেন্ডো সুইচ ২’-এর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রি-অর্ডার বিক্রি স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়। শুল্কের সঠিক প্রভাব বোঝার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। পরে কনসোলটির দাম অপরিবর্তিত রাখা হলেও বিভিন্ন আনুষঙ্গিক পণ্যের দাম বাড়াতে হয় নিনটেন্ডোকে ।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ব্যবধানে রায় দেয় যে, আইইইপিএ-র আওতায় প্রেসিডেন্টের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা নেই। চিফ জাস্টিস জন রবার্টস রায়ে বলেন, সংবিধানের প্রথম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কর আরোপের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত, নির্বাহী বিভাগের হাতে নয়।
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) ঘোষণা দিয়েছে, আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে আইইইপিএ-র আওতায় শুল্ক আদায় বন্ধ করা হবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতের বিচারক রিচার্ড ইটন একটি নির্দেশনায় সব আমদানিকারককে অবৈধ শুল্ক ফেরতের আওতায় আনার পক্ষে মত দিয়েছেন। সিবিপি-র এক কর্মকর্তাও আদালতকে জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী বৈধ ফেরতের ক্ষেত্রে সুদও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক নীতি মূলত ‘লিবারেশন ডে’ নামে ২০২৫ সালের এপ্রিলে ঘোষিত হয়েছিল, যা বিশ্বের প্রায় সব দেশ থেকে আসা পণ্যের ওপর ন্যূনতম ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। এর ফলে নিনটেন্ডোর মতো শত শত প্রতিষ্ঠান বিপুল অঙ্কের শুল্ক পরিশোধে বাধ্য হয়েছিল।
ধারণা করা হচ্ছে, এই মামলার মাধ্যমে নিনটেন্ডো ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি আদায়কৃত শুল্কের একটি অংশ ফেরত পেতে পারে।
ডিবিটেক/বিএমটি







