সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনি প্রচার যা করতে পারবেন না প্রার্থীরা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনি প্রচার যা করতে পারবেন না প্রার্থীরা
২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:৫৬  
২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৫:৪৮  

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একইদিন অনুষ্ঠিত হবে গণভোটও। এরই প্রেক্ষিতে ২২ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হল নির্বাচনি প্রচারণা। তবে এবার নির্বাচনি প্রচারে পোস্টার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রচারে পরিবেশবান্ধব সামগ্রী ব্যবহারে জোর দেওয়া হয়েছে।

ফলে নির্বাচনি প্রচারণায় এবার ডিজিটাল মঞ্চ তথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে গুরুত্ব দিচ্ছেন ব্যবহারকারীরা। এদিকে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে ৭ কোটি ২৫ লাখের বেশি এবং ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ প্রায় ৫২% পরিবারের ইন্টারনেট সংযুক্ত ছিলেন। সেখখানে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৭ কোটির এবং ইনস্টাগ্রামের ১৭ লাখ ২১ হাজারের বেশি ব্যবহারকারী ছিলো বলে জানিয়েছিল নেপোলিয়নক্যাট। এক বছরে শেষে এসে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৯৯ লাখ।হ্যাশমেটা নামের একটি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারী সাড়ে ৪ কোটির বেশি হতে পারে। টিকটক ব্যবহারকারী দেড় থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ হতে পারে। ইউটিউব ব্যবহারকারী হতে পারে সাড়ে ৩ কোটির মতো। এই ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহারকারীদের  বুঝতে এরই মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় নির্বাচনী আসন ভিত্তিক সেন্টিমন্ট অ্যানালাইসিস নিয়েও কাজ শুরু করেছে দেশী দুই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সোশ্যিয়ান এআই ও লুজলি কাপলড। 

তবে যে সেন্টিমেন্টই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভোটাররা দেখান না কেন, তাদের আকৃষ্ট করতে প্রার্থীদের মানতে হবে সুনির্দিষ্ট নিয়ম। এক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। 

নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রার্থীরা, তাদের নির্বাচনি এজেন্ট বা প্রতিনিধি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালাতে পারলেও  প্রচার শুরুর আগে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে প্রার্থী, দল বা সংশ্লিষ্ট পেজের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি, ই-মেইলসহ সনাক্তকরণ তথ্য জমা দিতে হবে। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না। ঘৃণাত্মক, মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য প্রচার করা যাবে না,  প্রতিপক্ষ, নারী, সংখ্যালঘু বা কোনো জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক, উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহার করা যাবে না, ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতির অপব্যবহার করা যাবে না,  সব প্রচার কনটেন্ট প্রকাশের আগে সত্যতা যাচাই করতে হবে।  মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, অশ্লীল বা মানহানিকর কনটেন্ট তৈরি বা শেয়ার করা যাবে না।

এবার প্রচারণায় প্রতীক ও নিজের ছবি ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তির ছবি বা প্রতীক ব্যবহার করতে পারবেন না। প্রার্থীর ছবি হতে হবে শুধুমাত্র পোর্টেট আকারে। অবশ্য নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীরা শুধুমাত্র দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহার করতে পারবেন। সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবে-যার দৈর্ঘ্য ১৬ ফুট ও প্রস্থ ৯ ফুটের বেশি নয়।

এদিকে গুজব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ঠেকাতে এবার নতুন ধারা যুক্ত করে নির্বাচনি অপরাধ হিসেবে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে বলে ইসির আচরণবিধিতে জানানো হয়েছে। বিধি অনুযায়ী, কোনও প্রার্থী বা দল বিধি ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা দেড় লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডই দেওয়া হতে পারে। দলের ক্ষেত্রেও ১ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এমনকি তদন্তে প্রমাণিত হলে প্রার্থিতাও বাতিল করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের হাতে রয়েছে।

অপরদিকে  জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সব ধরনের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি’কে (এনসিএসএ) দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী ডিজিটাল মাধ্যমে গুজব, কুতথ্য এবং অপতথ্য ঠেকাতে নাগরিকদের কাছ থেকে  অভিযোগ গ্রহণে চারটি ই-মেইল ও একটি হটলাইন নম্বর চালু করেছে আইসিটি বিভাগ। অভিযোগ মেইল ঠিকানা  [email protected]। আর হটলাইন নম্বর ০১৩০৮৩৩২৫৯২। 

ডিবিটেক/আইকে/ এমইউ/