ডিসেম্বর নাগাদ চালু হবে শিবচরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিট
আগামী ডিসেম্বর নাগদ মাদারীপুরে বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে তৈরি হবে জৈব সার। স্বল্প মূল্যে সেই সার ব্যবহার করে বাড়বে স্থানীয় উৎপাদন।
এ লক্ষ্যেই শিবচর পৌরসভার চরশাম্যাইল ও শ্যামাইল মৌজায় ২ দশমিক ৬৮ একর জমিতে স্থাপিত হয়েছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিট। প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২৩ সালে এটি নির্মাণ শুরু করে টার্ন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
সূত্রমতে, নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। এখন শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষা। আধুনিক শিবচর পৌরসভা গড়ার লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এটি পুরোপুরি চালুর কথা বলছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের মাদারীপুরের শিবচরের প্রকৌশলী শামীমা নাসরিন বলেন, এটি চালুর মাধ্যমে শিবচর পৌরসভার চিত্র পাল্টে যাবে। সড়কে কোনো ময়লা থাকবে না। বাসাবাড়ির নোংরা ও আবর্জনা সংগ্রহ করে এই প্রকল্পে নিয়ে আসা হবে। পরে তৈরি হবে জৈব সার। এখান থেকে থেকে সাধারণ কৃষকরা কম খরচে সার কিনে জমিতে দিতে পারবেন। এছাড়া এটি চালু হলে বেকারদের কর্মসংস্থানেরও তৈরি হবে। সবকিছু মিলিয়ে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রার মানের ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।
প্রকল্প সূত্রে প্রকাশ, শিবচর পৌরসভার বাসাবাড়ি থেকে প্রতিদিন ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করে এই ইউনিটের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করে উৎপাদন হবে জৈব সার। যা স্বল্প দামে এখান থেকে কিনে জমিতে ব্যবহার করলে ফসল উৎপাদন বাড়ার আশা প্রান্তিক চাষিরা। এতে প্রতি বছর সাশ্রয় হবে কোটি কোটি টাকা। আর এটি চালু হলে তৈরি হবে কর্মসংস্থান, বলছেন স্থানীয়রা। এছাড়া সুপেয় পানি সরবরাহও করা হবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে।।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর সূত্র জানায়, বায়ু দূষণরোধ ও পরিবেশবান্ধব পৌর শহর গড়ে তুলতেই এই প্রকল্প ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে জানান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও কর্তৃপক্ষ। উপজেলার নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পটিতে নিজেদের অর্থায়নে দুই বছর জৈব সার উৎপাদন করবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এরপর থেকে সরকারিভাবে তৈরি হবে জৈব সার। এটি জেলার প্রথম সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিট।
এই ইউনটি আশা জাগিয়েছে কৃষক সোহবার মাতবরের। তিনি বলেন, আমাদের বাড়ির পাশে তৈরি হয়েছে জৈব ফ্যাক্টরি। এখান থেকে সার কিনে জমিতে দিতে পারব। বাজার থেকে আর বেশি দামে সার কিনতে হবে। এতে আমাদের ফসলও ভালো হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ওহিদুর রহমান বলেন, এই আধুনিক বর্জ্য নিষ্কাশন প্রকল্প চালু হলে আমাদের মতো বেকার যুবকেরা কাজ পাবে। এখান থেকে তৈরি জৈব সার ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা চালু হলে এলাকার মানুষও উপকৃত হবেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টার্ন এর প্রতিনিধি মিলন মিয়া বলেন, আমাদের প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ। এখন হস্তান্তর প্রক্রিয়া বাকি। এটিও শিগ্গিরই সম্পন্ন হবে। আগামী দুই বছর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজেরাই ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করে জৈব সার তৈরি করবে। এরপর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর নিজেদের জনবল দিয়ে তৈরি করবে সার।
ডিবিটেক/ডিএমও/ইকে







