রাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক তোফা; সহকারি সায়েম

রাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক তোফা; সহকারি সায়েম
১৭ অক্টোবর, ২০২৫ ০৯:০৭  
১৭ অক্টোবর, ২০২৫ ১০:১৪  

এলইডি পর্দার সামনে প্রায় ২০ ঘণ্টা গণনা শেষে ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত রাকসু নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হলো ১৭ অক্টোবর, শুক্রবার সকালে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অফিসিয়াল ঘোষণা দেয়া ‍শুরু করে নির্বাচন কমিশন। সব কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে  বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ রাকসু, হল সংসদ ও সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করেন  এই ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম।

ঘোষিত ফল অনুযায়ী, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বীতায় ছাত্রশিবির সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট প্রার্থী মোঃ হাচান হাওলাদারকে (৯৭৫৩) পেছনে ফেলে স্বতন্ত্র থেকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন তোফায়েল আহমেদ তোফা (৯৭৮০)। নির্বাচনে অনলাইনে বেশ সরব ছিলেন বিজয়ী তোফা। ইনস্টাগ্রামসহ অন্যান্য সোশ্যাল হ্যান্ডেলে তার ‘বিজ্ঞানে ৮ ইজ ওয়েল’ প্রচারণা নজর কাড়ে তরুণ ভোটারদের। ভোটে তোফার ৮ নম্বর ব্যালেটের কাছে ২৭ ভোটে পিছিয়ে পড়ে ২ নম্বর ব্যালটধারী হাচান। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীতায় থাকলেও এই পদের অপর প্রতিদ্বন্দ্বী নাঈমুল ইসলাম নাঈম পেয়েছেন মাত্র ১৯৫৭ ভোট। 

তবে ৬ নম্বর ব্যালট নিয়ে সহবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে নিজের অবস্থান সুসংহত রেখেছেন সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোটের মোজাহিদুল ইসলাম সায়েম। 

রাকসুর কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের শীর্ষ দুই পদে শিবিরের প্রতিদ্ব্ন্দ্বী ছিলেন ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী শেখ নূর উদ্দীন আবীর এবং এজিএস পদে জাহিন বিশ্বাস এষা। অপরদিকে জিএস পদে শিবিরের প্রার্থী ফজলে রাব্বি মো. ফাহিম রেজা প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুললেও আধিপত্যবিরোধী ঐক্যের প্রার্থীর কাছে হেরে যান। ভোটের ফলে ভিপি হিসেবে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান জাহিদ এবং এজিএস পদে এস এম সালমান সাব্বির জয়ী হয়েছেন। আর জিএস নির্বাচিত হয়েছেন ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেলের সালাহউদ্দিন আম্মার।

ভিপি ও এজিএস পদ ছাড়াও বাকি অধিকাংশ পদেই বিজয়ের হাসি ফুটেছে শিবির সমর্থিত প্রার্থীদের মুখে। নিচের পদগুলোর মধ্যে ক্রীড়া সম্পাদক ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক বাদে বাকি সবগুলোতে  ছাত্রশিবির সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।
 
  • ক্রীড়া সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছেন ছাত্রদল সমর্থিত জাতীয় নারী ফুটবলার নার্গিস খাতুন, আর সহক্রীড়া সম্পাদক হয়েছেন আবু সাঈদ মোহাম্মদ।
  • সাংস্কৃতিক সম্পাদক জাহিদ হাসান, সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম।
  • মহিলা সম্পাদক সাইয়্যেদা হাফসা, সহমহিলা সম্পাদক সামিয়া জাহান।
  • তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বি এন নাজমুস সাকিব, সহতথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সিফাত আবু সালেহ।
  • মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক মোহাম্মদ মোজাহিদ ইসলাম, সহমিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক আসাদুল্লাহ।
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ তোফা (স্বতন্ত্র), সহবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মোজাহিদুল ইসলাম সায়েম।
  • বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান মিয়া লস্কর, সহবিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক মোহাম্মদ নয়ন হোসেন।
  • পরিবেশ ও সমাজসেবা সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মাসুদ, সহপরিবেশ ও সমাজসেবা সম্পাদক মাসুমা ইসলাম মুমু। 
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি আবাসিক হলে মোট ভোট পড়েছে ২০ হাজার ১৮৭। এর মধ্যে শিবির-সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট প্যানেলের ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ পেয়েছেন ১২ হাজার ৫৮৭ ভোট। অন্যদিকে ছাত্রদল-সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম প্যানেলের ভিপি প্রার্থী শেখ নূর উদ্দিন আবীর পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৯৭ ভোট।
ভিপি পদে সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান জাহিদ ১২ হাজার ৬৮৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম প্যানেলের শেখ নূর উদ্দীন আবির পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৯৭ ভোট।
 
জিএস পদে ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেলের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আম্মার পেয়েছেন ১১ হাজার ৫৩৭ ভোট, যেখানে শিবির সমর্থিত প্রার্থী ফজলে রাব্বি মো. ফাহিম রেজা পেয়েছেন ৫ হাজার ৭২৯ ভোট।
 
এজিএস পদে সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থী এস এম সালমান সাব্বির পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৭১ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত জাহিন বিশ্বাস এষা পেয়েছেন ৫ হাজার ৯৪১ ভোট। 
কার্যনির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ দীপ মাহবুব, মোহাম্মদ ইমজিয়াল হক কামালী, সুজন চন্দ্র ও এবি এম খালেদ।
 
এছাড়া সিনেট প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সালাহউদ্দিন আম্মার, মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, ফাহিম রেজা, আকিল বিন তালেব ও সালমান সাব্বির।