পদ্মায় ব্যারেজ ও দ্বিতীয় সেতু বাস্তবায়নে একাট্টা রাজনীতিক-প্রকৌশলীরা

পদ্মায় ব্যারেজ ও দ্বিতীয় সেতু বাস্তবায়নে একাট্টা রাজনীতিক-প্রকৌশলীরা
২৭ জুলাই, ২০২৫ ১৩:১০  
২৭ জুলাই, ২০২৫ ২০:৫৩  

প্রমত্ত পদ্মা এখন মৃত প্রায়। এর বিরূপ প্রভাবে এই নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে কৃষি ও স্বাস্থ্যে সঙ্গে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সমস্যার সমাধানে গড়াই নদী ড্রেজিং করেও সুফল মেলেনি। এজন্য ২০১২ সলে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের সমীক্ষা করা হয়। এতে দেখা যায়, ব্যারেজ নির্মাণের ব্যয় পাঁচ বছরের মধ্যে ব্যয় উঠে আসবে। তাই সীক্ষাটি হালনাগাদ করে জাতীয় দাবি হিসেবে অবিলম্বে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনের দাবি জানানো হয়েছে।

২৭ জুলাই, রবিবার রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত ব্র্যাক সেন্টারে অনুষ্ঠিত সেমিনারে পদ্মা ব্যারেজ ও ২য় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটি।  রাজবাড়ী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়্যামের সঞ্চালনায় উপস্থাপিত এই দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন পিপিআরসি চেয়ারম্যান হোসেন জিল্রুর রহমান, পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ডঃ আইনুন নিশাত, সিপিডি ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচর্য,যুক্তরষ্ট্রের লেবার পার্টির সদস্য রোমেনা মাহমুদ, প্রকৌশলী গিযাস উদ্দিন, গণ সংহতির সদস্য জুনায়েদ সাকি, ওয়র্কাস পার্টির নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আব্দুল হান্নান চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপর্সনের উপদষ্টা শিমুল বিশ্বাস, রজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেযর মিজানুর রহমান মিনু, ‘পদ্মা ব্যারেজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটি’র  প্রধান সমন্বয়ক জাহাঙ্গীর হোসেন খান জালাল প্রমুখ

বক্তারা মনে করেন, বহু দশক ধরে বাংলাদেশ ভারতের পানি আগ্রাসনের শিকার। ফলে এটা নিছক কোনো দাবি নয়। সার্বভৌম অধিকার। আমাদের জাতীয় প্রশ্নে অভিন্ন ঐক্য গড়ে তুলে প্রকৃতির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে ভারতকে বাধ্য করতে হবে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে হবে

অনুষ্ঠান শুরুতেই উত্তরায় বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনায় মাইলস্টোন স্কুলের শিক্ষার্থীসহ বিমানের পাইলট তৌকির ইসলামের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন জাতীয় কমিটির মহাসচিব অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু ওহার মো. হাফিজুল হক।

সেমিনারে ‘ফারাক্কা ব্যারেজ ও বাংলাদেশের সংকট: পদ্মা ব্যারেজ ও বাংলাদেশের সম্ভাবনা’ নিয়ে একটি তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক প্রকৌশলী আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁইয়া। ‘দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর আবশ্যিকতা নিয়ে একটি তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন প্রকৌশলী শহিদুল ইমাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ফারাক্কা ব্যারেজ ও সেতুর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। এ জন্য রাজনৈতিক কমিটমেন্ট দরকার। মাওলানা ভাসানীর মতো অঞ্চলে জন সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। জুলাই অভ্যুত্থানে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্যকে কাজে লাগাতে হবে। এটা শুধু রাজবাড়ী, ফরিদপুরেবিষয় নয়

দ্বিতীয় পদ্মা সেতু: খালেদা জিয়ার কমিটমেন্ট আছে’ উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘‘প্রায় আট কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা পদ্মা ব্যারেজ ও পদ্মা সেতুর সঙ্গে জড়িত। দীর্ঘ সাতবার সম্ভাব্যতা যাচাই হলেও এখন পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আজকে ফারাক্কা ব্যারেজ বা ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাবে শুধু ফরিদপুর বা রাজবাড়ীর সমস্যা নয়—এটা আজকে পুরো দক্ষিণাঞ্চলের সমস্যা। আমাদের নাগরিকদের আজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সর্বস্তরের মানুষকে তাদের দাবি নিয়ে দাঁড়াতে হবে। সেটা যে সরকারই আসুক তাদের বলতে হবে এটা আমরা চাই।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘‘দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণে আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনেক আগেই কমিটমেন্ট এবং আমরা রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা মনে করি, এসব অঞ্চলকে যেখানে জীবন-জীবিকার প্রশ্ন জড়িত আছে, মানুষের নিরাপত্তার প্রশ্ন আছে, যে প্রশ্নটা কিছুক্ষণ আগে আইনুন নিশাত সাহেব তুলেছেন—দক্ষিণাঞ্চলের বহু অংশ চলে যাচ্ছে, ছেড়ে যাচ্ছে, এসব এলাকায় মানুষের বসবাস উপযোগী থাকছে না। এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু—এটা শুধু পরবর্তী সরকার নয়, জনগণকেও এ বিষয়ে সজাগ থাকা উচিত।”

ডঃ আইনুন নিশাত বলেন, পদ্মার মতো শক্তশালী পৃথীবিতে আর নেই। এজন্য পদ্মা নদী ফাউন্ডশেন তৈরি করা হয়নি। এতো গভীর নদীর ওপর সেতু করার মতো এমন কোনো প্রযুক্তি এখনো নেই। তাই পুরোনে ডেটা দিয়ে প্রাক্কলিত ব্যয় প্রকাশ করা উচিত নয়। তাই সেতু তৈরির আগে বিশষজ্ঞ মতের পাশাপাশি এর ট্রাফিক আগে বিবেচনায় নিতে হবে

বাধ, ব্যারেজ ও ড্যামের ব্যবহারিক প্রকৌশলের বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, এই মুহুর্তে ৭০ শতাংশ পানি থাকে ব্রহ্মপুত্র নদীতে। তাই ব্যরেজের বিষয়টা টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞদের ওপর ছেড়ে দেয়া উচিত। তবে এজন্য ১৮ আনা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দরকার। এটা করতে হলে ভারতেরও সম্মতি লাগবে তিনি বলেন, ‘‘সেতু নির্মাণ করবেন? এটা হবে কী হবে না… ১৮ আনাই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। আমরা এখানে যারা আছি আমরা কারিগরি বিষয় নিয়ে মাথা ঘামাই। কিন্তু সিদ্ধান্ত আসে রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছ থেকেই।”

জলবায়ু বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত  বলেন, ‘আমি আপনাদের বলতে চাচ্ছি— গঙ্গা ব্যারেজটা না হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ভবিষ্যৎ খুব খারাপ অবস্থায় যাবে। আপনারা নিজের দেশটাকে কতটুকু জানেন? জানেন না। সাতক্ষীরা-খুলনা-বাগেরহাট-বরগুনার দক্ষিণাংশে ইতোমধ্যে জনসংখ্যা গ্রোথ ইজ নেগেটিভ। মানুষ ওখান থেকে পালাচ্ছে? কারণ সেটা বসবাসযোগ্য নেই।”

তিনি আরো বলেন, ‘‘জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টা যোগ করলে এখন থেকে ৩০/৪০ বছরের ওই অংশগুলো বসবাসযোগ্য থাকবে না। কাজেই এখন থেকে যদি চিন্তা করতে হয়, তাহলে দক্ষিণ-পশ্চিমাংশকে পানি দিতে হবে। ভারতের সাথে চুক্তির ফলে ১৯৯৬ সাল থেকে আমরা যতটুকু পানি পাচ্ছি, তার কিছু অংশ ৩৫ হাজার কিউসেক পানি পাওয়ার কথা, তার থেকে ১৫ হাজার… আচ্ছা ১০ হাজার কিউসেক পানি যদি যশোর-খুলনায় দিতে পারি, তাহলে ওই এলাকাটা রক্ষা পাবে। এটা কেন হয়নি? এর একটাই উত্তর—এর পেছনে রাজনৈতিক শক্তি ছিল না। এটা মূলত সিদ্ধান্তটা হবে রাজনৈতিক ভিত্তিতে।”

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, উচ্ছেদকৃত সরকারের বন্ধকরা এই প্রকল্পটি যেন ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। এজন্য জনগণকেই কণ্ঠস্বর হতে হবে। পদচ্যুত যে সরকারের বতিল করা প্রকল্পটি ২০২৬-২৭ অর্থ বছরেই তা অন্তর্ভূক্ত করতে হবে

তিনি আরো বলেন, ‘ফারাক্কার কারণে বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ, কেউ বলে ৩৭ শতাংশ মানুষ-জমি প্রকটভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—আমরা সবাই বুঝি কী হয়েছে? আমরা কাছে আশ্চর্য লাগছে, আইনুন নিশাত ভাইয়ের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে যে ৩০ বছরের (গঙ্গা চুক্তি) হয়েছিল—সেটি আগামী বছর শেষ হয়ে যাচ্ছে। আপনারা কি কেউ আলোচনা শুনেছেন, এই চুক্তিকে আগামী দিনে আমরা কী ধরনের দরকষাকষি করে আমার পক্ষে রাখার চেষ্টা করবো। সেটার কারিগরি এবং অন্যান্য ধরনের আলোচনা আমি শুনতে পাই না।”

‘‘আমি প্রত্যাশা করছি, আগামী বছর নতুন সরকার এলে পরে একটা যথোপযুক্ত বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষাকারী গঙ্গা চুক্তির আমাদের নিশ্চয়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে—কারিগরি পেশাগত দিক থেকে এবং রাজনৈতিক দিক থেকে যৌক্তিক আলোচনা করার মতো সক্ষমতা ওনাদের তৈরি করতে হবে আজকে থেকে। যাতে আগামী বছর যখনই এই আলোচনাটার সূত্রপাত হবে, আমরা যেন পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে ওখানে যেতে পারি।”

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘যদি ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন হয়, যে সরকার আসবে সে বর্তমানে যেই বাজেটটি চলছে—সেই বাজেটটি তাকে সংশোধন করতে হবে, এটা প্রচলন আছে  মার্চ-এপ্রিল মাসে। আমি আশা করবো, সেই সংশোধনের ভেতরে যেন এই প্রকল্পটিকে হালনাগাদ করার জন্য ব্যবস্থা করা হয়

‘‘নতুন সরকার আসলে পরে তাকে একটা মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। উচ্ছেদকৃত সরকার তারা অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা করেছিল, বর্তমান সরকার এসে ওটাকে স্থগিত করেছে। কিন্তু তারা কোনও মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা করেনি। আগামী সরকার যেটা আসবে, তার প্রথম কাজ হবে একটি মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা করা, বিনিয়োগ-কর্মসংস্থান ইত্যাদি বহুবিধ কাজে। আমি প্রত্যাশা করবো যে নতুন সরকার আসার পরে সংশোধিত বাজেটে যদি এই প্রকল্পটিকে পুনর্মূল্যায়নে আধুনিকায়নের অর্থ দেওয়া হয়—তাহলে প্রকল্প হিসেবে ওই মধ্যমেয়াদি নবম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই প্রকল্পটি যেন প্রকৃত অর্থায়নের জন্য সংযুক্ত হয় তালিকার ভেতরে।”

 

হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, পদ্মা ব্যারেজ নিয়ে এখনি একটা ওয়ার্কিং গ্রুপ তৈরি করা দরকার। রাজনীতির সঙ্গে এর কারিগরি সক্ষমতা যাচাই এবং আঞ্চলিক সৌহার্দ্য গড়ে তুলতে হবে। নতুন সরকার আসর আগেই এ বিষয়ে কাজ করতে উপস্থিত বিএনপি মহাসচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। 

তিনি আরো বলেন, ‘‘বাংলাদেশ রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে আছে। শুধু রাজনৈতিক কাঠামোর বিষয় নয়, আমাদের আগামীর রাজনীতির পথ চলার বৈশিষ্ট্য কী হবে, সেটাই এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেখানে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সুনির্দিষ্ট ও যোগ্য যে ভূমিকা—সেটা গুরুত্বপূর্ণ এবং কোন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে রাজনৈতিক শাসনগুলো পরিচালিত হবে এবং সেটা জনমানুষের মধ্যে তাদের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে মিলিয়ে দৃষ্টি ভঙ্গিগুলো তৈরি হচ্ছে সেটাও দেখার বিষয়।” ‘‘রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে আমরা যে একটা শব্দ ব্যবহার করি সার্বভৌমত্ব, এই সার্বভৌমত্ব শব্দটা সেই অর্থে মিনিংফুল হয়ে ওঠে—এটার জাতীয় জীবনে এর প্রয়োগটা কীভাবে, সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা? এটার অনুপস্থিতি আমরা দেখেছি বিগত বছরগুলোতে। এই যে সার্বভৌমত্বে, দক্ষ ও যোগ্য প্রয়োগটা, এটা সবার মাথার মধ্যে থাকা দরকার”- যোগ করেন হোসেন জিল্লুর রহমান।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পদ্মা ব্যারেজ ও ২য় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটির সেক্রেটারি জেনারেল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) হাফিজুল হক

সভাপতির বক্তব্যে রাজবাড়ী- ১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, রাজবাড়ীর পাশ দিয়ে বয়ে চলা পদ্মা এখন শুকিয়ে খড়ার দিকে যাচ্ছে। তাই অবিলম্বে এখানে একটি ব্যারেজ তৈরি ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জরুরী

সেমিনরে একটি উপস্থানা তুলে ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক প্রকৌশলী ওয়াদুদ ভূঁইয়া জানান, আন্তরর্জাতিক নদী গঙ্গায় ফারাক্কা ব্যারেজ স্থাপন করে হাইড্রোলিক স্ট্রাকচারের মাধ্যমে পানি প্রত্যাহার করে নেয়ায় প্রাকৃতিক সম্পদের ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হয়। ফলে ৩০ বছর মেযাদী গঙ্গা পানি বন্টন চুক্তি হয়। ২০২৬ সালের ডিসম্বরে চুক্তির মেয়াদ উত্তীর্ণ হবে

অনুষ্ঠানে অবিলম্বে দিতীয় পদ্মাসেতু করার কারিগরি যৌক্তিকতা তুলে ধরেন প্রকৌকশলী শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, চারটি অঞ্চলে করা জাইকার সমীক্ষায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া প্রথম হলেও দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মাওয়া-জাজিরায় করা হয়। অথচ ওয়াই নকশায় পাটুরিয়া দৌলতদিয়া সেতুটি যমুনাকেও সংযুক্ত করতো

প্রকৌকশলী মাহমুদুর রহমন ফারাক্কা বাধ দিয়ে কলকাতা বন্দরকে সুবিধা দিতে গিয়ে বাংলাদেশের দুই তৃতীয়াংশ স্থানকে বঞ্চিত করা হলো। ২৬টি জেলা এখন ক্ষতির মুখে রয়েছে। ব্যরেজ করার আগে তাই পর্যাপ্ত পানির সংস্থান নিশ্চিত করতে হবে

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কলকাতা বন্দরের নাব্য রক্ষায় গত শতকের ষাট ও সত্তরের দশকে আন্তঃসীমান্ত নদী গঙ্গায় ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ করে ভারত। ওই গঙ্গাই বাংলাদেশে প্রবেশ করে পদ্মা নাম নিয়ে বঙ্গোপসাড়রে পড়েছে।  ১৯৭৫ সালে ফারাক্কা বাঁধ চালুর পর থেকেই বাংলাদেশে পদ্মা ও শাখানদীগুলোতে পানি সংকট শুরু হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এর প্রভাব হয়েছে মারাত্মক।  শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানি প্রত্যাহার করা হলে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সেচ ও নৌচলাচলে সমস্যা হয়। আবার বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দিলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়।  ওই বাঁধের কারণে পদ্মা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে পরিবর্তন আসায় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর প্রভাব পড়েছে।  ফারাক্কার নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে আনার জন্য পদ্মা নদীর বাংলাদেশ অংশকে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ নির্মাণের প্রস্তাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।

দেশের প্রধান এ নদীতে পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে তা সেচ, জীববৈচিত্র্য রক্ষাসহ অন্যান্য কাজে ব্যবহারের জন্য রাজবাড়ীর পাংশায় এই ব্যারেজ তৈরির কথা বলা হয়েছে পরিকল্পনায়।  প্রস্তাবিত এ ব্যারেজে বর্ষা মৌসুমে আসা পদ্মার পানি সংরক্ষণ করতে রাজবাড়ী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পর্যন্ত ১৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ জলাধার নির্মাণ করা হবে। ২.৯ বিলিয়ন কিউবিক লিটার পানি ধারণক্ষম এ জলাধারের গভীরতা হবে ১২.৫ মিটার।  বিগত আওয়ামী লী সরকারের সময়ে বলা হয়েছিল, দুটি চীনা কোম্পানি এবং জাপানের একটি কোম্পানি এই প্রকল্পে অর্থায়ন করতে আগ্রহী। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সে সময় ভারতকেও এ প্রকল্পের অংশীদার হিসেবে চাওয়া হয়েছিল। তবে বিষয়টি পরে আর এগোয়নি।