২ মাসের মধ্যে আইসিটি-টেলিকমের শ্বেতপত্র
আগামী মাস দুয়েকের মধ্যে আইসিটি খাতের দুর্নীতি নিয়ে প্রকাশ করা হবে আলাদা শ্বেতপত্র। এজন্য নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রফেসরিয়াল ফেলো অধ্যাপক ড. নিয়াজ আসাদুল্লাহর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটি কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এদিকে ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আইসিটি ডিভিশন ‘ন্যাশনাল ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন স্ট্র্যাটেজি এবং আইসিটি রিফর্ম রোডম্যাপের’ খসড়ায় আইসিটি খাতের দুর্নীতির আলাদা শ্বেতপত্রের কথা বলা হয়েছে।
খসড়াটি সম্পাদনা করেছেন আইসিটি বিভাগের পলিসি অ্যাডভাইজার (সমন্বয় ও সংস্কার) ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। রোডম্যাপের ২৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘আইসিটি দুর্নীতি নিয়ে একটি শ্বেতপত্র টিম কাজ করবে এবং বিগত সরকারের আমলে আইসিটি খাতে কী ধরনের অবচয়, অনিয়ম এবং প্রতারণামূলক কাজ হয়েছে তা তদন্ত করবে।’
এর আগে নাগরিকদের ভিন্নমত প্রকাশ ও তাদের অধিকার দমনের জন্য গত কয়েক বছরে দেশে কী কী ধরনের সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে সেটির শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানিয়েছিল বাংলাদেশ ২.০ সিভিল রিফর্ম গ্রুপ। প্ল্যাটফরমটির এক সংলাপে বক্তারা বলেন, ‘গত ১০ বছরে আড়িপাতার জন্য কয়েক হাজার কোটি টাকার অত্যাধুনিক সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি কেনা হয়েছে ইসরায়েল এবং বিভিন্ন দেশ থেকে। এ দেশের সাধারণ মানুষের অর্থে কেনা এই সফটওয়্যার কোন বিবেচনায়, কী পদ্ধতিতে কেনা হলো এবং এগুলো কী কাজে ব্যবহার করা হয়েছে তা জানার অধিকার আছে নাগরিকদের।’
এ নিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের পলিসি অ্যাডভাইজার (সমন্বয় ও সংস্কার) ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানিয়েছেন, ‘আইসিটি খাতের দুর্নীতি নিয়ে আলাদা শ্বেতপত্র প্রকাশের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা এ ব্যাপারে এক্সপার্ট খুঁজছি, যাঁরা এই কাজটি ভালোভাবে করতে পারবেন।’
সূত্রমতে, আইসিটি খাতের দুর্নীতি তদন্তে যে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠিত হয়েছিল, সেই প্রতিবেদনকে আমলে নিয়ে কাজ শুরু করবে শ্বেতপত্র প্রকাশ কমিটি। তদন্ত কমিটির হিসাবে গত ১৫ বছরে আইসিটি বিভাগের অধীনে বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার নেওয়া ২৫ হাজার কোটি টাকার ২১ প্রকল্পের অর্ধেকই লুটপাট হয়েছে। ৫ টাকায় যে কাজ করা যেত, সেটি ওই প্রকল্পেই ২০ টাকায় করা হয়েছে। অপরদিকে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১৮ জুলাই থেকে ২৮ জুলাই সারা দেশে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয়ায় ইন্টারনেটের সেবা খাতের বিভিন্ন উপখাতে ক্ষতি হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা।







