‘কৃষক বন্ধু ডাক সেবা’ উদ্বোধন করলেন টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী
লকডাউনে প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য রাজধানী ঢাকায় পাইকারি বাজারে বিনা মাশুলে পৌঁছে দিতে ‘কৃষক বন্ধু ডাক সেবা’ চালু করেছে ডাক অধিদপ্তর। প্রাথমিকভাবে মানিকগঞ্জ জেলার কৃষকদের উৎপাদিত শাকসবজি বিনা মাশুলে পরিবহনের মধ্য দিয়ে এই সেবাটি চালু করা হয়।
শনিবার ঢাকায় বেইলী রোডের সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা বাজারে সংযুক্ত হয়ে কৃষকবন্ধু ডাক সেবার উদ্বোধন করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।
পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এই সেবা চালু করা হবে জানিয়ে অনলাইন বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, এই সেবার আওতায় ডিজিটাল প্লাটফর্মের মাধ্যমে কৃষক ঘরে বসেই তার বিক্রয়লব্ধ পণ্যের টাকা পেয়ে যাবেন। এর ফলে কোন মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাবেন। দেশব্যাপী ডাক পরিবহনে ব্যবহৃত রাজধানী ফেরৎ ডাক অধিদপ্তরের গাড়ী গুলো কৃষকের উৎপাদিত পণ্য পরিবহনে ব্যবহার করা হবে । এতে সরকারের অতিরিক্ত কোন খরচেরও প্রয়োজন হবে না।
সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে ঝিটকা বাজার প্রান্তে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডাক বিভাগের পরিচালক এসএম হারুনুর রশিদ, হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন , উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: জহিরুল হক ,বাংলাদেশ কৃষক লীগ প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিসহ কৃষিপণ্য উৎপাদনকারি কৃষক প্রতিনিধিবৃন্দ। অনুষ্ঠানে ঢাকা থেকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব নূর-উর-রহমান এবং ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এসএস ভদ্র এই সময় ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে সংযুক্ত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ঝিটকা বাজার থেকে ফ্রি সার্ভিসের আওতায় প্রথম দিন ১২০০ কেজি পিয়াজ, ৬০ কেজি কাঁচামরিচ, ৮০ কেজি বেগুন, ৬০ কেজি করলা, ৬০ কেজি চিচিংগা, ৬০ কেজি ঝিংগা, ৬০ কেজি জিংগা, ৬০ কেজি ঢেঁড়স, ১২০ কেজি শসা এবং ১৮০টি মিষ্টি কুমড়া নিয়ে কৃষক বন্ধু ডাক সেবার গাড়ী ঢাকার উদ্দেশ্যে সকাল ১০ টায় যাত্রা শুরু করে। কৃষিপণ্যগুলো গাবতলী কৃষিবাজার এবং মিনাবাজার ধানমন্ডিতে পৌঁছে দেয়া হবে। মিনাবাজার, চালডাল এবং পার্কিং বাজার কৃষকদের এই সব পণ্য ডিজিটাল প্লাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় করছে।