সচল হলো ১১ জেলার ৯৮ শতাংশ সাইট
চলবাম ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে সপ্তাহধিক সময় টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে দেশের অন্তত ১২ জেলা। বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন থাকায় আক্রান্ত জেলাগুলোর ৮৪ শতাংশের মতো মোবাইল টাওয়ার বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি মোকাবেলায় এমার্জেন্সি রেসপন্স টিম গঠন করে বিটিআরসি। খোলা হয় ২৪ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণ সেল। তবে বন্যার কোপ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে বলতে গেলে টেলিযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ।
এসময় উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ তৎপরতা চালাতে তাই ব্যবহার করা হয় ভিস্যাট। যুক্ত হয় হ্যাম অপারেটররা। মোবাইল অপারেটরদের পাওয়ার ব্যাকআপ ফিরিয়ে আনতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ফেনী জেলার জন্য জ্বালানী সরবরাহ ফ্রি করে দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা। একইসঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দেয়া হয় নৌপথের পরিবহন সুবিধা।
ফলে ধীরে ধীরে ফিরতে শুরু করে মোবাইল নেটওয়ার্ক। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত আক্রান্ত ১১টি জেলার ৯৮ শতাংশ নেটওয়ার্কই ফিরে এসেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি’র নিয়মিত হালনাগাদ মনিটরিং প্রতিবেদন বলছে, টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিক গৃহীত পদক্ষেপের ফলে বন্যাকবলিত নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, কুমিল্লা, ব্রহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, হবিগঞ্জ, মৌলিভীবাজার, সিলেট ও কক্সবাজারে থাকা মোট ১৪ হাজার ৫৫১টি সাইটের মধ্যে মাত্র ৩০০টি সাইট এখনো সচল হয়নি। তবে সচল হওয়া ১৪ হাজার ২৫১টি সাইটের মধ্যে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত ফেনীর ৮৯ শতাংশই নেটওয়ার্কে ফিরেছে। সেখানকার ৬৫৩টি সাইটের মধ্যে অচল রয়েছে মাত্র ৭৩টি।
অবশ্য জেলা হিসেবে চট্টগ্রামের সবচেয়ে বেশি ৪ হাজার ২৫৮টি সাইটের মধ্যে ৪ হাজার ২৩১টি সাইটই সচল রয়েছে। কুমিল্লায় ২ হাজার ৫২৯টি সাইটের মধ্যে সক্রিয় নেই ১৮টি সাইট। একইভাবে নোয়াখালীতে ৬.২ শতাংশ, লক্ষ্মীপুরে ২.৯ শতাংশ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২.৩ শতাংশ, খাগড়াছড়ির ৩ শতাংশ, হবিগঞ্জের ১.৮ শতাংশ, মৌলভী বাজারের ১,৪ শতাংশ, সিলেটের ১.৮ শতাংশ এবং কক্সবাজারের মাত্র ১ শতাংশ সাইট সচল হয়নি। গড় হিসেবে ১১ জেলার মাত্র ২.১ শতাংশ সাইট অচল রয়েছে।
বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারি অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, মোবাইল অপারেটর, টাওয়ারকো অপারেটরদের টেকনিক্যাল লোকবল, নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম, জেনারেটর ও জ্বালানী ইত্যাদি পরিবহনের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত নেটওয়ার্ক সচল করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংককে ১টি করে ট্রাক ও স্পিডবোড দেয়া হয়েছে।







