মাইক্রোসফট সিইও’র ৭টি অনুগল্প

১ জুন, ২০২৩ ০০:৩৮  

লিংকড ইন প্রোফাইলে ১৪টি অনুগল্প শেয়ার হচ্ছে মাইক্রোসফটের সিইও সত্য নাদেলার। প্রতিটি গল্পই জীবনের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টিয়ে দিতে পারে। তবে এর মধ্যে ৭টি গল্প হৃদয়স্পর্শী। গল্পগুলো তিনি নিউইয়র্কের ইকোনোমিক ক্লাবে ২০১৮ সালে বলেছিলেন। সেই ভিডিওটি প্রকাশ করে সিএনবিসি।

প্রথম গল্প: ফিরে দেখা
আমি আমার সাইকোলজি ক্লাসে একটি গবেষণা পত্রের জন্য আমার দাদির সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম। তাকে তার নিজের ভাষায় সাফল্যের সংজ্ঞা দিতে বললে তিনি বলেছিলেন, "সফলতা হচ্ছে, যখন আপনি আপনার জীবনের দিকে ফিরে তাকান এবং স্মৃতিগুলো আপনাকে হাসায়।"

দ্বিতীয় গল্প: ভালোবাসা
আমি আমার কুকুরটিকে একটি গাড়ির ধাক্কায় মৃতপ্রায় হতে দেখে ওর দেহটি কোলে করে রাস্তার পাশে বসে কাঁদছিলাম। এবং আমার আদরের কুকুরটি মারা যাওয়ার ঠিক আগে সে আমার চোখ থেকে গড়িয়ে পড়া অশ্রু আমার গাল থেকে চেটে নিলো।

তৃতীয় গল্প: পরিবার
হাসপাতালে আমার বাবা, আমরা তিন ভাই এবং দুই বোন মায়ের বেডের চারপাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম। মা মারা যাওয়ার আগে তার শেষ শব্দগুলি উচ্চারণ করেছিলেন। তিনি খুব সহজভাবে বললেন, এই একত্রিত পরিবারকে আমি খুব ভালোবাসি, প্রায়ই আরও অনেকবার এভাবে আমাদের একত্রিত হওয়া উচিত ছিল।

চতুর্থ গল্প: বেদনা
একটি ছোট হাসপাতালের বিছানায় আমার বাবা পরপারে চলে গিয়েছিলেন। মৃত্যুর মুহূর্তে বাবার কষ্ট দেখে আমি তার কপালে চুমু খেলাম। তিনি চলে যাওয়ার প্রায় পাঁচ সেকেন্ড পরে আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, আমার ছোটবেলা থেকে জীবনে এই প্রথম একবার বাবাকে চুমু দিয়েছি।

পঞ্চম গল্প: জীবন
হাসপাতালে আমি একজন সাতাশ বছর বয়সী ক্যান্সার রোগী যাকে ডাক্তার জবাব দিয়ে গেছেন, তাকে দেখতে গিয়েছিলাম। তিনি তার দুই বছর বয়সী মেয়ের দুষ্টামি ও দুরন্তপনা দেখে হাসছিলেন হা হা করে। ঠিক তখন আমি হঠাৎ বুঝতে পেরেছিলাম যে আমাকে আমার জীবন সম্পর্কে অভিযোগ করা বন্ধ করতে হবে এবং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে আবার উদযাপন করতে হবে যেকোনো অবস্থায়।

ষষ্ঠ গল্প: উদারতা
আমার পা ভেঙে গেলে আমাকে ক্রাচের উপর হাটতে হয়েছিলো। আমার ভাঙা পা নিয়ে মরিয়া হয়ে লড়াই করতে দেখে হুইলচেয়ারে বসে থাকা একটি ছেলে আমার ব্যাকপ্যাক এবং বই বহন করার প্রস্তাব দিলো। তিনি আমাকে পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে আমার ক্লাসগুলিতে সাহায্য করেছিলেন। তিনি চলে যাওয়ার সময় আমাকে বলেছিলেন, "আমি আশা করি আপনি শীঘ্রই ভালো বোধ করবেন।"

সপ্তম গল্প: শেয়ারিং
আমি কেনিয়া ভ্রমন করতে গেলে জিম্বাবুয়ে থেকে আসা একজন শরণার্থীর সাথে দেখা হয়। তিনি বলেছিলেন যে গত তিন দিন সে কিছু খায়নি। এবং তাকে অত্যন্ত চর্মসার এবং অস্বাস্থ্যকর দেখাচ্ছিলো। আমার সঙ্গের বন্ধু নিজের স্যান্ডউইচটি মুখে নিতে যেয়ে থেমে গেলো এবং তাকে তা অফার করল। জিম্বাবুয়ের লোকটি হাতে স্যান্ডউইচটি নিয়ে প্রথম যা বলেছিল তা হল, "আমরা এটি ভাগ করে খেতে পারি।"