বিজ্ঞানে ইউনুস, টেলিকম-প্রযুক্তিতে নাহিদ হলেন অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টা
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী অর্থনীতিবদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ২৬ বছর বয়সী মো. নাহিদ ইসলাম-কে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে স্নাতকত্তর ছাত্র। সেই হিসেবে ফের তরুণ নেতৃত্বে থাকলো মন্ত্রণালয়টি। তবে এই সময়ে ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত হবেন তিনি।
এদিকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বরাবরের মতো বয়জ্যেষ্ঠদের হাতেই থাকলো। নিজ কর্মে বিশ্বময় পরিচিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস (জন্ম: ২৮ জুন, ১৯৪০) একজন সামজিক উদ্যোক্তা, সমাজসেবক ও নোবেল পুরস্কার বিজয়ী। তিনি ২০০৬ সালে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা এবং ক্ষুদ্রঋণ ও ক্ষুদ্রবিত্ত ধারণার প্রবর্তনের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।[তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
নাহিদ ইসলামের জন্ম ১৯৯৮ সালে ঢাকায়। তার ডাকনাম ‘ফাহিম’। নাহিদের বাবা শিক্ষক। সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে। ইতোমধ্যে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। নাহিদের ছোট এক ভাই রয়েছে। এছাড়া ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত।
শুক্রবার (৯ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এই পদবণ্টনের তথ্য মিলেছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ছাড়াও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস।
এছাড়া নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ও প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বে আছে।
উপদেষ্টা পরিষদে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই প্রতিনিধি মো. নাহিদ ইসলাম পেয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া পেয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
উপদেষ্টাদের মধ্যে সালেহ উদ্দিন আহমেদ অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। ড. আসিফ নজরুল পেয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। আদিলুর রহমান খান পেয়েছেন শিল্প মন্ত্রণালয়। হাসান আরিফ পেয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং মো. তৌহিদ হোসেন পেয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, শারমীন এস মুরশিদ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ড. আ. ফ. ম. খালিদ হোসেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ফরিদা আখতার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।
এর বাইরে নুরজাহান বেগম পেয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) রাতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। গতকাল রাতে বঙ্গভবনে ১৭ সদস্যের অন্তর্বর্তী সরকারের ১৪ জন শপথ নেন। শুক্রবার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগের দায়িত্ব বণ্টন করা হলো। তবে তারা কত দিন যাবত দায়িত্ব পালন করবেন তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।







