বাজেটে ‘ইন্টারনেট প্লাস’ নীতিতে গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ

১৯ জুন, ২০২০ ২৩:৩৯  
বাজেটে ‘ইন্টারনেট প্লাস’ নীতিতে গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। একইসঙ্গে ‘বটম-আপ’ অ্যাপ্রোচ গ্রহণের কারণে দেশে ডিজিটাল বৈষম্য হওয়ার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করছেন তিনি। শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে 'তরুণবান্ধব বাজেট' শীর্ষক ফেসবুক লাইভ আলোচনায় অংশ নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন প্রতিমন্ত্রী। ইউনিস্যাব ট্রাস্ট্রিবোর্ডের কো-চেয়ার ও ইয়াং বাংলার আহ্বায়ক নাহিম রাজ্জাক এমপি'র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সিরিজ আলোচনার প্রথম পর্বের আইসিটির একীভূতকরণ ও গুরুত্ব শীর্ষক আলোচনায় জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন,  গত ১০৩ দিনের জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং কর্মসংস্থানে ইন্টারনেট অর্থাৎ প্রযুক্তির গুরুত্ব আমরা লক্ষ্য করেছি। এই মুহূর্তে আমরা আমাদের আফটার স্কুল প্রোগ্রামে গুরুত্ব দিচ্ছি। কেননা শিক্ষাজীবন শেষে কেউ যখন কর্মজীবনে প্রবেশ করবে সে তখন নতুন একটি পৃথিবীর সঙ্গে পরিচিত হয়। তাই তাকে হাতে-কলমে শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে। সৃজনশীলতা, উদ্ভাবন, জটিল বিষয়ে চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের মানসিকতার জায়গায় উৎসাহ দিতে হবে। আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জানান, মধ্যম আয়ের দেশ হবার লক্ষ্য পূরণে কোভিড-১৯ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ‘আত্ম নির্ভরশীল ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে নিজেদের চাহিদা মেটানোর জন্য স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন করতে কাজ করছে আইসিটি বিভাগ। এর ফলে আগামী ৫ বছরের ই-কমার্স, হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার খাতে অন্তত নতুন করে আরো ১০ লাখ কর্মসংস্থান গড়ে উঠবে হবে। ২০-২১ অর্থ বছরে ই-কমার্স ও আইটি ফ্রিল্যান্সিংয়ে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। তিনি বলেছেন, অর্থ সংস্থানের চেয়ে বিশ্বে এখন উদ্ভাবনী চিন্তার মূল্য বেশি। শিক্ষা, বিদ্যুত, ইন্টারনেট ও যোগাযোগের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারলেই আমাদের তরুণরা অসাধ্য সাধন করতে পারবে। তার নজির আমাদের সামনেই রয়েছে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্টার্টআপ, সাড়ে ৬ লাখ আইটি ফ্রিল্যান্সার এর প্রমাণ। তাই শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে অ্যাকসেস টু লার্নিং সিস্টেম উন্নয়ন করতে হবে। পলক আরো বলেন, গত ১১ বছরের ধারাবাহিক ডিজিটাল অবকাঠামো প্রস্তুত থাকায় কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ স্থবির হয়নি। কাটিং এজ টেকনোলজি ব্যবহার করে এক কোটি মানুষকে কলসেন্টার থেকে সেবা দেয়া সম্ভব হয়েছে। অনুন্নত দেশ হয়েও উন্নত দেশের সুবিধা মিলছে। দেশে এখন ৩০ শতাংশ মোবাইল দেশেই উৎপাদন হচ্ছে। আলোচনায় ৪র্থ শিল্পবিপ্লবের যাত্রায় যে সময় কালটা আমরা পার করছি সেই সেই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে মানিয়ে নেয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে না পারলে ঝুঁকির মুখে পড়ার শঙ্কাও ব্যক্ত করেছেন আইসটি প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, গত ১০০ দিনে আমাদের দৈনন্দিন জীবন যাত্রায় যে পরিবর্তনগুলো হয়েছে এটা আগামী ৫-৭ বছর পরে হতো, কিন্তু বাধ্য হয়েই আমরা সেই পরিবর্তনের সঙ্গে বসবাস শুরু করেছি। অনুষ্ঠানে তার বক্তব্যের সঙ্গে সমান্তরাল মনোভাব ব্যক্ত করে কাজী আইটি সেন্টারের কান্ট্রি ডিরেক্টর জারা মাহবুব বলেন, আমাদের মানবসম্পদ চাহিদা রয়েছে। এই চাহিদা মেটাতে স্টার্টআপের বরাদ্দ বাড়াতে হবে। আগামীতে শিক্ষা কার্যক্রমকে ক্রাউড, মোবাইল, সোশ্যাল মিডিয়া ও বিগ ডেটা অ্যানালেটিক্স মুখী করতে হবে। একইসঙ্গে ইংরেজি ভাষা-কে একটি টুল হিসেবে বিবেচনা করে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। বক্তব্যে ২০২১ সালে ট্রেড কোর্স বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানান প্যানেল আলোচনায় অংশ নেয়া শিক্ষা উপ-মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। বক্তব্যে ভোকেশনাল ট্রেনিং এর একটি পর্যায়ে পৌঁছলে স্নাতক ও স্নাতকত্তোর মান দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি। দুই ঘণ্‌টাব্যাপী আলোচনায় দৈনিক ইত্তেফাকের প্রকাশক তারিন হোসেনের স্বাগত বক্তব্যের পর আলোচনায় অংশ নেন সেন্টার ফর রিসার্স অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) নির্বাহী পরিচালক সাব্বির বিন সাম্স, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ঢাকার (এমসিসিআই) সভাপতি নিহাদ কবির, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন সহ সভাপতি এ আর আমান। আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনিস্যাব ট্রাস্টি বোর্ড চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ শাইখ ইমতিয়াজ ও ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট গবেষক মোহাম্মাদ মামুন মিয়া।