বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপতথ্য ছড়াতে এক্সে নতুন আইডি খোলার হার বেড়েছে ২১৪ শতাংশ

১৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:২৪  

বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনের অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে এক্স হ্যান্ডেলে। বলা চচ্ছে, বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরা আক্রমণের শিকার হচ্ছেন, ইসলামি শাসন কায়েম ও নিপীড়ন শুরু হয়েছে। অপতথ্য ছড়ানোর জন্য খোলা হয়েছে নতুন নতুন অ্যাকাউন্টও। অপতথ্য ছড়াতে এক্সে নতুন আইডি খোলার হার বেড়েছে ২১৪ শতাংশ।

এসব অ্যাকাউন্ট থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের ১১০ দিনে #সেভহিন্দুসইনবাংলাদেশ, #বাংলাদেশিহিন্দুজেনোসাইড হ্যাসট্যাগে ‘হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি বৈষম্য বা আক্রমণ’ শানানো হয়েছে। মোট অপতথ্যের  ২৭ শতাংশ ‘বাংলাদেশে হিন্দুদের গণহত্যা চলছে’ বলে দাবি করা হয়েছে। বিকৃত তথ্য উপস্থাপনের পরিমাণ ছিলো ২১ শতাংশ।

প্রযুক্তিগত অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। ১০ ডিসেম্বর ‘দ্য অ্যানাটমি অব ডিজইনফরমেশন অন এক্স’ শীর্ষক এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

এতে বলা হয়, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এক্স প্ল্যাটফর্মে এভাবে বাংলাদেশ নিয়ে অপতথ্য ছড়ানোর ক্ষেত্রে অনুসরণ করা হচ্ছে রাশিয়া ও চীনের কৌশল।

অ্যাকাউন্টগুলো ভারতভিত্তিক বা ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যবহারকারী এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতির সঙ্গে যুক্ত অ-ভারতীয়দের লক্ষ্য করে পোস্ট দিয়ে থাকে। এক্সে বাংলাদেশকে নিয়ে অপতথ্য ছড়ানোর এসব অ্যাকাউন্ট রাশিয়া, ইসরায়েল ও চীনের ট্রল ফার্ম এবং কি–বোর্ড আর্মিজের (অর্থের বিনিময়ে নিয়োগকর্তা বা সামাজিক যোগাযোমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের স্বার্থরক্ষাকারী গোষ্ঠী) কৌশল অনুসরণ করে সমন্বিতভাবে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালাচ্ছে।

বেশি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে নভেম্বর মাসে। অপতথ্যগুলোর ৭৭ শতাংশই এক্সে পাওয়া গেছে। ৩৫ শতাংশ অপতথ্য এক্স, ফেসবুক ও ইউটিউবে একসঙ্গে পোস্ট করা হয়েছে। এ ছাড়া ৭১ শতাংশ কনটেন্ট (আধেয়) বার্তা আদান–প্রদানের প্ল্যাটফর্ম ভাইবার, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার করা হয়েছে। আর এগুলো বেশিরভাগই হয়েছ নতুন খোলা ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে। তথ্য বলছে, অক্টোবর থেকে নভেম্বরে বেড়েছে ২১৪ শতাংশ নতুন অ্যাকাউন্ট। এর মধ্যে অনেক অ্যাকাউন্টই ভেরিফায়েড। এ অ্যাকাউন্টগুলোর ৭৪ শতাংশ ভুল তথ্যসংবলিত পোস্ট করেছে। অপ্রাসঙ্গিক তথ্য প্রকাশ করেছে ২৪ শতাংশ। আর পরিবর্তন ও সহিংসতার ডাক দেওয়া পোস্ট ছিল ১ শতাংশ।

অপতথ্য ছড়াতে অনেক ক্ষেত্রে ভেরিফায়েড মার্ক ব্যবহার করে সবাইকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। শীর্ষ ২০ হ্যাশট্যাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল #সেভহিন্দুসইনবাংলাদেশ এবং #বাংলাদেশিহিন্দুসজেনোসাইড।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং পলিসি ফেলো সাবহানাজ রশীদ দিয়া ফেসবুকে প্রতিবেদনটি শেয়ার করে লিখেছেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক অপতথ্য ‍ও উসকানি ছড়াতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার হয়েছে।

প্রতিবেদনে ভুল তথ্য ছড়ানোর কয়েকটি পন্থার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, রাশিয়া ও চীন এমন পন্থা অনুসরণ করে ভুয়া তথ্য ছড়ায়। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেলের একটি ঘটনার ছবি দিয়ে তথ্য ছড়ানো হয়, বাংলাদেশে শরিয়াহ আইন ঘোষণা করা হয়েছে। ইসলামিস্টরা ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীদের উৎপীড়ন করছেন।

বাংলাদেশের ফ্যাক্ট চেকাররা জানান, ছবির ব্যক্তিটির নাম জুবায়ের আলী। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং হিযবুত তাহরীরের কেউ না। পরে তাকে গ্রেপ্তারও করা হয়।

সংস্থাটি বলছে, ১৩ অক্টোবর রাধারমন দাস নামের আইডি থেকে দুই তরুণীর ছবি ছড়িয়ে দাবি করা হয়, বিজয়া দশমী থেকে ফেরার পথে দুই হিন্দু নারীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। পরে বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, পূজা বিশ্বাস ও রত্না সাহা নামে ফরিদপুরের দুই ছাত্রী পূজা উৎসব থেকে ফেরার পর বিষক্রিয়ায় (বিষাক্ত মদপান) মারা যান।

৫ নভেম্বর চট্টগ্রামের হাজারি গলির ঘটনা নিয়ে ৬ নভেম্বর বাবা বানারস আইডি থেকে কিছু ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হয়, জামায়াত এবং সেনাবাহিনীর হামলায় ৫০ হিন্দু হতাহত হয়েছেন। ফ্যাক্টচেকার প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানার জানায়, চট্টগ্রামে একটি বিক্ষোভে কয়েকজন আহত হয়েছেন। কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। এ ছাড়া তিন মাসে ২৭ হাজার হিন্দুকে হত্যার তথ্য ছড়ানো হলে সে তথ্য মিথ্যা বলে জানান ফ্যাক্ট চেকাররা।