দেশে নারীদের প্রথম ই-স্পোর্টস প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন টিম সেলেস্টিয়ালস
চলছে ফাগুন। কৃষ্ণচূড়ার আগুন রাঙা এই সময়ে দেশের ই-স্পোটর্সে প্রথমবারের মতো পুরুষ গেমারদের পাশাপাশি স্বতন্ত্রভাবে টুর্নামেন্ট খেললো নারী গেমাররাও। রাজধানীর অদূরে পূর্বাচলে বেসিস সফটএক্সপো’র ১৭তম আসরে গেমিং টেন্টে কি-বোর্ড-জয়স্টিকে ঝড় তুলেছেন ৫৫০ ই-স্পোর্টস ম্যান। এর মধ্যে ৫০জনই ছিলেন ওমেন। ভ্যালোরেন্ট গেইমে ৮টি টিমে অংশ নিয়ে রবিবার গ্রান্ড ফিনালেতে নেমেছিলো তিনটি দলের ১৮ নারী খেলোয়াড়।
এদের মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে টিম সেলেস্টিয়ালস। প্রথম রানার্স আপ হয়েছে ওয়াসাবি সাইরেন এবং সেকেন্ড রানার্স আপ টিম জেটস অফ।
টুর্নামেন্টে ভ্যালোরেন্ট পিজি গেইম জয় করে ছয় নারী গেমার জিতে নিয়েছেন ট্রফির পাশাপাশি ১ লাখ টাকা। এই ম্যাচে সেরা খেলোয়াড় উজিবুজি পেয়েছেন ১০ হাজার টাকার ডামি চেক।
পাশাপাশি পুরুষদের প্রায় ৮০টি টিমের ৫০০ জন এই খেলায় অংশ নিয়েছে। ভ্যালোরেন্ট, সিএসগো, এমএলবিবি এবং ফিফা গেমে অংশ নেয় তারা। পুরুষদের ভ্যালোরেন্ট গেমে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে টিম এক্সেজেলিস স্পোর্টস। পেয়েছে দেড় লাখ টাকা। সেরা খেলোয়াড় হয়েছে বিজয়ী দলের হারমিওনি। খেলায় রানার্স আপ হয়েছে টিম হেড হান্টার্স। তারা পেয়েছে ৭৫ হাজার টাকা।
অন্যান্য ক্যাটাগরি মিলিয়ে মোট ৬ লাখ টাকার পুরস্কার দেওয়া হয়েছে এই টুর্নামেন্টে।
অন্যদিকে সিএসগো গেমে ই-স্পোর্টস চ্যাম্পিয়নশিপে বিজয়ী হয়েছে টিম গ্রেড বাইবারস, রানার্সআপ হয়েছে ম্যান আই লাভ ফিশিং। এর মধ্যে দুইটি খেলায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে টিম গ্রেড বাইবারস দল। অন্য খেলাটি হলো মোবাইল লিজেন্স ব্যাং ব্যাং। এই খেলায় রানার্স আপ হয়েছে ভেনম ডমিনেটরস।
আর সেরা খেলোয়াড় হয়েছে এই দলের আরভি ফেইথ।
অপরদিকে আসরে ফিফায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মোহাম্মাদ আবরার আদর; রানার্সআপ সাফওয়ান নূর ওয়ালিদ এবং তৃতীয় হয়েছেন সাজিদ। কসপ্লে কার্নিভালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে লাবিবা বিনতে আলম এবং রানার্স আপ হয়েছে অনির্বাণ অর্ঘ।
চারদিনের গেমিং উৎসবে টেকনোগ্রামের পক্ষ থেকে কুইজে অংশ নিয়ে বেসিস সফট এক্সপো ই-স্পোর্টস- এবার পিএস ৫ জিতেছেন কাউসার ইকবাল সজীব।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেসিস পরিচালক একেএম আহমেদুল ইসলাম বাবু ও তানভীর হোসেন খান। অচিরেই বেসিস থেকে একটি গেমিং এক্সপো হবে বলে জানান তানভীর। তিনি বলেন, গেমারদের অংশগ্রহণে গেমিং আয়োজনটা বেশ সুন্দর হয়েছে। এইটাকে আরও স্কিলফুল করতে হবে। এখানে যারা জয়লাভ করেছে তাদের বিশ্বমঞ্চের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।
ই-স্পোর্টস চ্যাম্পিয়নশিপের মূল আয়োজক অ্যাঙ্গুলার ই-স্পোর্টস লিমিটেড। পিসি স্পন্সর গিগাবাইট এবং অরাস। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অ্যাঙ্গুলার ই-স্পোর্টস লিমিটেডের পক্ষে কো-ফাউন্ডার ও সিইও শাহরিয়ার অনিম এবং গিগাবাইটের পক্ষে মঞ্চে ছিলেন গাজী রহমান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অ্যাঙ্গুলার ই-স্পোর্টস সহপ্রতিষ্ঠাতা সোলাইমান হাসান এবং গিগাবাইট বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ আনাস খান।
অ্যাঙ্গুলার ই-স্পোর্টস লিমিটেড কো-ফাউন্ডার সোলাইমান হাসান বলেন, প্রচুর সাড়া পেয়েছি গত ৪ দিন। ই-স্পোর্টসের এই ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার পেছনে একটি বড় কারণ হচ্ছে প্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের বিস্তৃতি। দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ আমাদেরকে ভার্চ্যুয়ালি একে অন্যের সাথে যুক্ত থাকতে সাহায্য করছে, যার ফলে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া আরও সহজ হয়ে উঠছে। পাশপাশি ভালোমানের গেমিং সরঞ্জাম ও কম্পিউটার আগের চেয়ে সহজলভ্য হয়েছে, যার ফলে আরও বেশি মানুষ ই-স্পোর্টসের সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
গেমে অংশ নেওয়া আরিফুর রহমান জানান, বেসিস ই-স্পোর্টস চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৩ ইভেন্ট হলো আমার জন্য একটি অসাধারণ অভিজ্ঞতা। এই ইভেন্টে বিভিন্ন ধরনের গেম খেলা গিয়েছে। ভ্যালোরেন্ট, মোবাইল লেজেন্ড, ব্যাং ব্যাং থেকে শুরু করে সিএসগো এবং ফিফা গেমের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে ভ্যালোরেন্ট সব থেকে ভালো লেগেছে, কারণ এই গেমটি বিশ্বব্যাপী খুবই জনপ্রিয়।
প্রতিনিয়ত গেমার বৃদ্ধি পাওয়ায় আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার দিকে এগুচ্ছে ই-স্পোর্টস। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনলাইন কিংবা অফলাইন মাধ্যমে প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণে যে প্রতিযোগিতামূলক ভিডিও গেমস খেলা হয়, সাধারণত তাকেই ইলেকট্রনিক স্পোর্টস বলা হয়। নিছক বিনোদনের পাশাপাশি অনেক সময় বাণিজ্যিক পরিসরেও ই-স্পোর্টস টুর্নামেন্ট আয়োজিত হয়ে থাকে।







