তোমার কাজই বাঁচিয়ে রাখবে তোমাকে যুগ-যুগ, মহাকাল
রাজধানীর বনানী কবরস্থানে মায়ের কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত দেশের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মরহুম এডভোকেট সাহারা খাতুন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়েরও মন্ত্রী ছিলেন তিনি। সেই সময়ে নানা রকম উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। সেই সব উদ্যোগের একটি সংক্ষিপ্তসার তুলে ধরেছেন তার ওই সময়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শেফায়েত হোসেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনার্মাণ যাত্রায় সত্তুর্ধ্ব এই মহিয়সী নারীর ভূমিকার কথাই এখানে তুলে ধরা হলো।
(ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী হিসেবে সাহারা খাতুনের ভূমিকা)
*মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে ২০১০ সালে গৃহীত উদ্যোগ বাস্তবায়নে অংশগ্রহণ।
* ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম প্রধান অবকাঠামো হিসেবে ন্যাশনাল আইপি ব্যাকবোন তৈরীর কার্যক্রম বাস্তবায়ন ।
*ইন্টারনেট ডেনসিটি শতকরা ৩ ভাগ হতে বৃদ্ধি পেয়ে শতকরা প্রায় ২০ ভাগে উন্নীত।
* ব্যান্ডউইডথ ৭ জিবিপিএস থেকে ২০০ জিবিপিএস-এ উন্নীত । ব্যান্ডউইডথ চার্জ ২৭ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে মাএ ৮হাজার টাকায় নির্ধারণ। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সার্ভিস এর মাসিক সর্বনিম্ন চার্জ ৩০০/= (তিনশত) টাকা নির্ধারণ।
* প্রায় এক হাজার ভিএসপি লাইসেন্স প্রদান।
*থ্রি-জি মোবাইল নেটওয়ার্কের লাইসেন্স প্রদান উল্লেখযোগ্য।
*টেলিযোগাযোগ সার্ভিসের মান উন্নয়নের লক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জেলাকে অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে।
*এর মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাথে সারাদেশের বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসকের অফিসসমূহকে উচ্চগতিসম্পন্ন নেটওয়ার্কে সংযুক্ত করণ
*তাছাড়া সাব-মেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সার্ভিস নিরবচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার অপটিক্যাল ফাইবার লিংক চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ
*ডাক বিভাগের কার্যপ্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয়করণ করা ।
*২৭৫০টি ডাকঘরে মোবাইল মানি অর্ডার সার্ভিস চালু করা হয়েছে। ফলে একস্থান থেকে অন্য স্থানে ১ মিনিটে গ্রাহকগণ অল্প খরচে অর্থ আদান প্রদান করতে পারেন।
*বাংলাদেশের সকল জেলা শহর ও ঢাকা, চট্রগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট বিভাগের অধীন ৫৯৮ টি ডাকঘরে পোস্টাল ক্যাশকার্ড কার্যক্রম চালু হয়েছে ।
*অধিদপ্তরের প্রচলিত আইন-কানুন সংশোধন করা হয়েছে । দেশের প্রায় ৮৫০০গ্রামীন ডাকঘরেক ই ডাকঘরে রূপান্তর কার্যক্রম চলছে। টেলিটকের
অর্জনসমূহ:
সরকার ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে বেশ কিছু যুগান্তকারী কর্মসূচিতে অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছে টেলিটক। এই নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে বেশ কিছু সেবা চালু করেন তিনি।
* ৩২টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ৪০০ কলেজ এবং ৭০ টি মেডিকেল কলেজসহ মোট ৫০২টি প্রতিষ্ঠানের ১৪,০০,০০০ ছাত্র -ছাত্রী এসএমএস পদ্ধতিতে শুধুমাত্র ২০১২ সালেই প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ফরম পূরণ ও ফি প্রদান করেন।
* অনলাইনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত আইবিএ এর এমবিএ প্রোগ্রামের ভর্তি আবেদন গ্রহণ এবং এসএমএস এর মাধ্যমে ফি গ্রহণ করা হয়েছে।
*অনলাইন এবং এসএমএস এর মাধ্যমে প্রায় ২১টি সরকারি এবং ৪৯টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজসমূহের আবেদন ও ফি গ্রহণ করা হয়েছে।
*এছাড়া অনলাইনে প্রবেশ পত্র বিতরণ, এসএমএস এর মাধ্যমে আসন বিন্যাস এবং ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
*শুধু এসএমএস এর মাধ্যমে প্রায় ২৯টি কলেজের আবেদন ও ফি গ্রহণ করা হয়েছে। *ডিপার্টমেন্ট অব টেক্সটাইল এর অন্তর্ভুক্ত ৬টি প্রতিষ্ঠানে বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে শুধু এসএমএস এর মাধ্যমে ভর্তিও আবেদন ও ফি গ্রহণ করা হয়।
* শুধু এসএমএস এর মাধ্যমে প্রায় ৪৯টি সরকারি পলিটেকনিক্যাল কলেজে ভর্তি ফি এবং আবেদন ফি গ্রহণ করা হয়েছে এবং এসএমএস এর মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
* প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা ও সমমান পর্যায়ের পরীক্ষার ফলাফল প্রদান
*টিবিএল প্রি-পেইড মোবাইল ফোন দিয়ে দর্শনার্থীগণ ২ দিনের অগ্রিম টিকিট ক্রয় করতে পারেন।
সাবমেরিন
* সাবমেরিন কেবলের ব্যান্ডউইড্থ এর ব্যবহার ৭ জিবিপিএস হতে প্রায় ৩২ জিপিবিএস অতিক্রম করেছে।
*বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল এর কক্সবাজারস্থ ল্যান্ডিং স্টেশনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ৩ এপ্রিল ২০১১ তারিখে ব্যান্ডউইড্থ সম্প্রসারণ প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করেন। এর ফলে সেপ্টেম্বর ২০১২ নাগাদ দেশের জাতীয় ব্যান্ডউইড্থ এর গড় মান দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০০ জিবিপিএস।
*বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল সিমিউই-৫ কনসোর্টিয়ামে যোগদান করে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে এবং সিমিউই-৫ সাবমেরিন কেবল তথা দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলে সংযুক্ত হয়ে বিদ্যমান কেবলে দৈব দুর্বিপাক সংক্রান্ত সংকট নিরসনের প্রক্রিয়া শুরু করে। এই কনসোর্টিয়ামের অধীনে নির্মিতব্য সাবমেরিন কেবলটি ২০১৪ সালের দিকে অপারেশন এ যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। টেলিফোন কপার কেবল উৎপাদন, সরবরাহ ।
*বর্তমান ও মোবাইল ইন্টারনেট যুগে বিশ্ব টেলিফোন কপার কেবল চাহিদা উল্লেখযোগ্য ভাবে হ্রাস পেলেও দেশের বিদ্যমান অবকাঠামোতে নেটওয়ার্ক সমপ্রসারণে বিগত চার বছরেরও কম সময়ে এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১৮৫১কিলোমিটার কেবল সরবরাহ করা হয়েছে।
টেশিস
*বর্তমান সরকার ক্ষমতাগ্রহনের আগে নানা অব্যবস্থাপনায় টেশিস রুগ্ন শিল্পে পরিনত হয়।
*বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পণ্যবহুমুখিকরণসহ নানামুখী বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহনের মাধ্যমে টেশিসের কার্যক্রম সচল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এরই অংশ হিসেবে ল্যাপটপ ছাড়াও কলার টেলিফোন সেট,কর্ডলেস টেলিফোনসেট এবং কলার আইডি স্টেনো টেলিফোন সেট সংযোজন এবং মোবাইল ব্যাটারি ,ব্যাটারি চার্জার ,মেইনটেনেন্স ফ্রি ব্যাটারি,ডিজিটাল ইলেকট্রিক মিটার,সিংগেল ফেজ মিটার এবং প্রি-পেইড মিটার ও সিঙ্গেল ফেজ মাল্টিফাংশন প্রোগ্রামেবল মিটার উৎপাদন কার্যক্রম চালু করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠে।
দ্রষ্টব্য: অভিমত-এ প্রকাশিত পুরো মতামত লেখকের নিজের। এর সঙ্গে ডিজিটাল বাংলা মিডিয়া কর্তৃপক্ষের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বহুমতের প্রতিফলন গণমাধ্যমের অন্যতম সূচক হিসেবে নীতিগত কোনো সম্পাদনা ছাড়াই এই লেখা প্রকাশ করা হয়। এতে কেউ সংক্ষুব্ধ বা উত্তেজিত হলে তা তার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়।