জিরো টলারেন্সেও ছড়াচ্ছে ‘গুজব’

৫ জুলাই, ২০২৩ ১৯:৩৬  

সরকারের জিরো টলারেন্সের মধ্যেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে থেমে নেই অপপ্রচার ও উসকানি। সত্য-মিথ্যের প্রলেপে ফেসবুক আর ইউটিউবে ‘গুজব’ কন্টেন্ট ছড়াচ্ছে নামে-বেনামে। এমনই একজনের বিষয়ে পর্যবেক্ষণ শুরু করছে পুলিশের সাইবার ইউনিট।

জনৈক মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান আইডি থেকে কয়েকদিন ধরেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের নামে লাগাতার মিথ্যা তথ্য, অশ্লীল ও কুৎসা রটিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া রাষ্ট্রবিরোধী এবং ধর্মীয় উসকানিমূলক পোস্ট গোচরে এসেছে নেটিজেনদের।

‘শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের লুটপাট ফাঁস, মায়ের সহযোগিতায় ছেলের দুর্নীতি, জোচ্চুরি, কমিশন বাণিজ্য, ব্যাংক ডাকাত’- এমন অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ, মিথ্যা, ষড়যন্ত্রমূলক শিরোনামে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবি ব্যবহার করে বানানো ভিডিও শেয়ার করছেন তিনি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বাংলাদেশের মানুষের আবেগের জায়গা ধানমণ্ডি-৩২ নম্বর বাড়ি নিয়েও অপপ্রচার ও জঘন্য কুৎসা রটানোর ভিডিও শেয়ার দিয়ে ছড়িয়েছে এই হাফিজ, যে ভিডিওতে বলা হয়েছে ‘ধানমণ্ডি-৩২ নম্বর বাড়ি শেখ মুজিবুর রহমান ঘুস হিসাবে নিয়েছিলেন’।

এমনকি তিনি প্রধানমন্ত্রী, জয় এবং সরকারবিরোধী অন্যদের পোস্টও নিজের আইডিতে শেয়ার দেন। প্রধানমন্ত্রীর সফল রাষ্ট্রীয় সফরকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে কলঙ্কিত করার একটি রাষ্ট্রবিরোধী পোস্টও শেয়ার দিয়ে ছড়াচ্ছে হাফিজ।

গণভবন বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন করার মতো সন্ত্রাসীমূলক কর্মকাণ্ডের ঘোষণার একটি ভিডিও পোস্টও তার ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার দিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে সমর্থন ও অংশগ্রহণের অপপ্রচার করেছে।

‘জঙ্গি হাফিজ’ হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তি বাংলাদেশের পুলিশের বিরুদ্ধেও অশালীন মন্তব্যের পোস্ট শেয়ার দিয়ে ছড়াচ্ছেন। পুলিশ ও সরকারকে জড়িয়ে বানোয়াট, মিথ্যা অপপ্রচারের একটি ভিডিও পোস্টও তিনি শেয়ার দিয়ে ছড়াচ্ছেন। অপপ্রচারে বাদ যায়নি ছাত্রলীগের নামও। তার ফেসবুক ওয়ালে রয়েছে এ সংক্রান্ত পোস্টও।

প্রশ্ন উঠেছে, ফেসবুকে লাগাতার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের নামে মিথ্যা, অশ্লীল-কুৎসা রটানো এবং পুলিশের নামে গুজব, ধর্মীয় উসকানিমূলক ও রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচারে জড়িত থাকা ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা এড়িয়ে কীভাবে এভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

সূত্রমতে, হাফিজুর রহমানের বাড়ি খুলনার পাইকগাছার গড়ইখালিতে। বয়স আনুমানিক ৪০। তার বাবার নাম আবদুল গনি সরদার। হাফিজ ঢাকায় কুলি বা লেবার পেশার ছদ্মবেশে থাকে। মালপত্র পরিবহনের আড়ালে সে বাসাবাড়ি-অফিসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় যায়।

এ বিষয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) মো. মনজুর রহমান জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব এবং উসকানিমূলক ও আপত্তিকর কনটেন্টের বিষয়ে পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগ সবসময়ই তৎপর রয়েছে। সাইবার ইউনিট এ সংক্রান্ত বিষয় সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে। এরই মধ্যে গুজব এবং উসকানি ছড়ানোতে দায়ী অনেককেই পুলিশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা আইনের আওতায় এনেছে। আগামীতেও এ কর্মতৎপরতা অব্যাহত থাকবে।