ওয়ারীতে কমমূল্যে পণ্য বিক্রি করছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো

২০ জুলাই, ২০২০ ১৪:৪০  
গত ৪ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে দক্ষিণ সিটির ৪১ নং ওয়ার্ড ওয়ারীতে ২১ দিনের লকডাউন। ২৪ তারিখে এই মেয়াদ শেষ হবে। এরমধ্যে লকডাউন এলাকায় জনগনের গমনাগমন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও জরুরী পণ্যসেবা দিচ্ছে ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর ২৩টি প্রতিষ্ঠান। ঢাকা শহরের জন্য ৭০টি প্রতিষ্ঠানকে লকডাউন এলাকার জন্য প্রস্তুত রাখলেও জনসংখ্যার বিবেচনায় ২৩ টি প্রতিষ্ঠান সেবা দিয়ে আসছে ওয়ারীতে। দক্ষিণ সিটি মেয়র ব্যরিষ্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ও কাউন্সিলর সারোয়ার হোসেন আলোর অনুরোধে ই-ক্যাবের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো ন্যায্যমূল্যে কেউ কেউ পাইকারী দামে এমনকি ভুর্তুকি দিয়ে পণ্যসেবা জনগনের দোরগোড়ার পৌঁছে দিচ্ছে। পুরো বিষয়টি সহযোগিতায় রয়েছে এটুআই। গত ১৬ জুলাই নগর ভবনে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় মেয়র ই-কমার্স কোম্পানীসমূহের সেবা, পন্যের মান, দাম ও বিধি মানার ব্যাপারে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এলাকায় সংক্রমণের হার না কমায় উক্ত সমন্বয় সভায় সেখানকার এটিএম বুথ, পোস্ট অফিস, ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানীর অফিস ও তিনটি সুপারশপের দুটি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন। মেয়র বলেন, শুরু থেকে যেভাবে ন্যায্যমূল্যে সেবা দিয়ে আসলে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো তাতে তাদের দায়িত্বশীলতা ফুটে উঠেছে। আশাকরি তারা শেষ পর্যন্ত এই সেবা অব্যাহত রাখবেন। ইতোমধ্যে মানসম্পন্ন সেবা সময়মত পৌঁছে দিয়ে রাজাবাজারের মতো ওয়ারীতেও ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে চালডাল ডট কম। চারদিনের প্রস্তুতির সময় পাওয়াতে এখানকার বহুলোক অন্যত্র সরে যায়। যারা এলাকায় অবস্থায় করছে তাদের মধ্যে অনেকে ২১ দিনের জন্য খাদ্য সামগ্রী মজুদ করেছেন। তাই খুব বেশী টাহিদা না থাকলেও এখানকার বাসিন্দাদের জন্য ফ্যাক্টরীমূল্যে তেল, লবণ, আটা, ময়দা সুজি ইত্যাদি পণ্য বিক্রি করছে টিকে গ্রুপ। বিক্রি যাই হোক প্রতিদিন গাড়ি নিয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত মানুষের ঘরের সামনে হাজির হচ্ছে অথবা ডট কম এর গাড়ি। মাছ মাংসের চাহিদা পূরণ করতে প্রতিদিন ফ্রিজার ভ্যান নিয়ে টহল দিচ্ছে ডাউরেক্ট ফ্রেস ও বেঙ্গল মিট মিট এর ফ্রিজারভ্যান। খুব কম দামে মানসম্পন্ন সবজি বিক্রি করছে সবজিবাজার ডট কম নামে একটি প্রতিষ্ঠান। ফল নিয়ে মানুষের পাশে রয়েছে এরিয়া সেভেনটিওয়ান, প্রতিদিন শিশুদের জন্য দুধ নিয়ে আসে মিল্কভিটা এবং ফার্মফ্রেশ। মেডিসিন নিয়ে ডায়বেটিক স্টোর, রেডিফুড নিয়ে ফুডপান্ডা, হাংরিনাকি, সহজ, উবার তৎপর।   মেডিসিন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডায়বেটিক স্টোরের স্বত্তাধিকারী সাহাব উদ্দীন শিপন বলেন, আমরা সবসময় দুজন কর্মীকে ওয়ারীতে জরুরী অর্ডার সরবরাহের জন্য রেখেছি। অর্ডার আসামাত্র তারা সরবরাহে তৎপর থাকে। চালডালের সিইও জনাব জিয়া আশরাফ বলেন, আসলে লকডাউন এলাকাগুলোতে আমরা যে সেবা দিচ্ছি সেটাকে বাণিজ্যিক কার্যক্রম না বলাই ভাল। বলতে পারেন এক ধরনের সামাজিক দায়বদ্ধতা। সবজিবাজারের সিইও মোহাম্মদ শাহীন বলেন, আক্ষরিক অর্থেই হাজার হাজার টাকা লোকসান দিয়ে আমরা সেবা দিচ্ছি। শুধু মানুষকে সাহস দেয়া যে, আপনারা হতাশ হবেন না। আমরা আপনাদের পাশে রয়েছি। মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ এর সিনিয়র ব্র্যা্ন্ড ম্যানেজার, মোঃ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, প্রতি দুটি পরিবারের একটি পরিবার কোন না কোন "ফ্রেশ" ব্র্যা্ন্ডের পন্য ব্যবহার করেন। দেশের এই দুঃসময়ে দেশের মানুষের পাশে থাকার ছোট্ট একটি প্রয়াস আমাদের। ইভ্যালীর সরবরাহকারী শামসুদ্দিন ওমর বলেন, আমরা এতকম মূল্যে পণ্য বিক্রি করছি যে ক্রেতারা প্রথমে বিশ্বাস করছিলনা। শুধু কম মূল্য নয়। মানের ব্যাপারেও কোনো আপোষ নেই। আমরা ২টার মধ্যে সবজি বিক্রি শেষ করি। যেগুলো থাকে সেগুলো আমরা বস্তিবাসীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ করি। বেঙ্গল মিটের হেড অব রিটেইল জনাব আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা সারাবছর এখানকার অধিবাসীদের সেবা দিয়েছি। তাই এই দু:সময়েও তাদের পাশে থাকতে চাই। আমারদের আউটলেট বন্ধ তবুও আমরা ফ্রিজার ভ্যান নিয়ে আমাদের ক্রেতাদের ঘরের সামনে গিয়ে তাদের চাহিদা পূরণ করার চেষ্টা করছি। অথবা ডটকম এর সহকারী ব্যবস্থাপক কজী কাওছার সুইট বলেন, চলমান সংকটে মানুষকে সেবা দিতে অথবা ডটকম বদ্ধপরিকর। লকডাউনে আটকে পড়া এই এলাকার বাসিন্দাদের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি মাথায় নিয়েই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। ডাউরেক্ট ফ্রেস এর তানভির সিফাত বলেন, আমরা ওয়ারীতে জনসাধারণের জন্য কমমূল্যে মানসম্পন্ন নিত্যপণ্য সরবরাহ করছি। আমরা মনে করি এই সময়ে ব্যবসার চেয়ে সেবাটাই বড়ো। তাই ই-ক্যাবের সাথে আমরা মানুষের পাশে দাড়িয়েছি। শাম্মী আক্তার নামে ওয়ারীর একজন বাসিন্দা জানান, আসলে আমাদের মধ্যে কিছুটা টেনশন কাজ করছিল। লকডাউন হলে কি খাব কি করব? কিন্তু বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেভাবে বিভিন্ন পন্য সাজিয়ে গাড়ি নিয়ে বাসার সামনে হাজির হয়েছে। তাতে বেশ ভালো লেগেছে। আমরা ভাবিনি যে, এসব অনলাইন প্রতিষ্ঠান এত কমমূল্যে শাকসবজি ও নিত্যপণ্য বিক্রি করবে। সরোজ কুমার সরকার নামে আরেকজন অধিবাসী জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় কোনো পন্যের সমস্যা হয়নি। কর্মজীবি লোকেরা এলাকা থেকে বের হতে না পারলেও প্রয়োজনীয় সবকিছু হাতের কাছে পাওয়া গেছে। পণ্য দাম এবং মান নিয়েও সবাই সন্তুষ্ট। আজ পর্যন্ত এই বিষয়ে কাউকে অভিযোগ করতে শুনিনি। এছাড়া ইতোমধ্যে ই-ক্যাবের মানবসেবা প্রকল্পের উদ্যোগে ৫০টি পরিবারকে ১৪ দিনের খাবার সামগ্রী উপহার স্বরুপ দেয়া হয়েছে। সিন্দবাদ ডট কম ও ডায়বেটিক স্টোরের পক্ষ থেকে ২০০ স্বেচ্চাসেবকের জন্য মাস্ক ও হ্যান্ডস্যানিজার দেয়া হয়। এটুআই ও ই-ক্যাবের যৌথ উদ্যোগে বসানো হয় ডিসইনফেক্ট ফটক। আরো কিছু পরিবারের জন্য সাহায্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ প্রসঙ্গে ই-ক্যাবের প্রেসিডেন্ট শমী কায়সার বলেন, আসলে এখানে ব্যবসা করার কোনো সুযোগ নেই। মানুষের পাশে থাকার জন্যই আমাদের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো ওয়ারীতে ভূর্তুকি দিয়ে পণ্যসেবা অব্যাহত রেখেছে। তিনি সদস্য কোম্পানীসমূহকে ধন্যবাদ জানান। এটুআইএর ই-কমার্স প্রধান রেজওয়ানুল হক জামি বলেন, প্রতিদিন কি পরিমাণ পণ্য সেবা ওয়ারীতে যাচ্ছে। আমাদের কাছে তার সম্পূর্ণ রিপোর্ট রয়েছে। আমরা এর উপর ভিত্তি করে বৃহত্তর এলাকায় লকডাউন পরিস্থিতি তৈরী হলে কেমন চাহিদা তৈরী হবে বা আমাদের করনীয় কি হবে তা ঠিক করতে পারব। সকলের সহযোগিতায় এই কঠিন কাজটাও সহজ হয়েছে জানিয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর আইনশৃংখলাবাহিনী ও স্বেচ্চাসেবকদের তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ তমাল।