হজের পূর্ণ সওয়াব লাভে যে দোয়াগুলো নিয়মিত পড়া সুন্নত

ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম হলো হজ। আল্লাহর মেহমান হয়ে যারা পবিত্র মক্কায় যান, তাদের জন্য প্রতিটি কদমেই রয়েছে বরকত। হজের প্রতিটি ধাপ ও আমলের জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দিষ্ট কিছু দোয়া শিখিয়েছেন। হজযাত্রীদের সুবিধার্থে হজের প্রধান প্রধান আমল ও কোরআনি দোয়াগুলো নিচে তুলে ধরা হলো… গুরুত্বপূর্ণ ১০ দোয়া… তালবিয়া: ইহরাম বাঁধার পর উচ্চারণ: লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা […] The post হজের পূর্ণ সওয়াব লাভে যে দোয়াগুলো নিয়মিত পড়া সুন্নত first appeared on সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং

হজের পূর্ণ সওয়াব লাভে যে দোয়াগুলো নিয়মিত পড়া সুন্নত
৯ মে, ২০২৬ ১৯:০০  

ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম হলো হজ। আল্লাহর মেহমান হয়ে যারা পবিত্র মক্কায় যান, তাদের জন্য প্রতিটি কদমেই রয়েছে বরকত। হজের প্রতিটি ধাপ ও আমলের জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দিষ্ট কিছু দোয়া শিখিয়েছেন। হজযাত্রীদের সুবিধার্থে হজের প্রধান প্রধান আমল ও কোরআনি দোয়াগুলো নিচে তুলে ধরা হলো…

গুরুত্বপূর্ণ ১০ দোয়া…

তালবিয়া: ইহরাম বাঁধার পর

উচ্চারণ: লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্নিমাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক।

অর্থ: আমি হাজির হে আল্লাহ, আমি হাজির। তোমার কোনো শরিক নেই, আমি হাজির। নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা, নেয়ামত ও রাজত্ব তোমারই- তোমার কোনো শরিক নেই।

ইহরামের পর থেকে শুরু করে কাবার দিকে রওনা হওয়া পর্যন্ত এই দোআ পড়ুন।

মসজিদুল হারামে প্রবেশের দোয়া

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি ওয়াসসালাতু ওয়াস্সালামু আলা রাসূলিল্লাহ, আল্লাহুম্মাফতাহলী আবওয়াবা রাহমাতিকা।

অর্থ: আল্লাহর নামে (প্রবেশ করছি), আল্লাহর রাসুলের উপর দরুদ ও সালাম। হে আল্লাহ, আমার জন্য তোমার রহমতের দরজা খুলে দাও।

তাওয়াফে রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদের মাঝে

উচ্চারণ: রব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাহ, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ, ওয়া ক্বিনা আযাবান্নার।

অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দাও, আখিরাতেও কল্যাণ দাও এবং জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করো।
তাওয়াফের প্রতিটি চক্করে এই দোয়া পড়া উত্তম।

তাওয়াফ শেষে মাকামে ইবরাহিমে

উচ্চারণ: ওয়াত্তাখিজু মিম মাক্বামি ইবরাহীমা মুসাল্লা।

অর্থ: তোমরা মাকামে ইবরাহিমকে নামাজের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো। (কোরআন)
তাওয়াফ শেষে মাকামে ইবরাহিমের পেছনে দুই রাকাত নামাজ আদায় করুন।

সাঈ শুরুর দোয়া

উচ্চারণ: ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শাআয়িরিল্লাহ, আবদাউ বিমা বাদাআল্লাহু বিহি।

অর্থ: নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আমি সেটা দিয়ে শুরু করছি যা দিয়ে আল্লাহ শুরু করেছেন।

সাফা পাহাড়ে উঠে কাবার দিকে মুখ করে এই দোয়া পড়ুন।

সাফা-মারওয়া পাহাড়ে দোয়া

উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ইয়ুহয়ী ওয়া ইউমীতু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িং কাদির। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু আনজাযা ওয়াদাহু ওয়া নাসারা আবদাহু ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহু।

অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; তিনি একক, তার কোনো শরিক নেই। রাজত্ব ও প্রশংসা তারই। তিনি জীবন দেন ও মৃত্যু দেন এবং সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। তিনি তার ওয়াদা পূর্ণ করেছেন, তার বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই সকল দলকে পরাজিত করেছেন।

প্রতিটি পাহাড়ে তিনবার এই দোয়া পড়া সুন্নত।

আরাফাতের ময়দানে সর্বোত্তম দোয়া

উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িং কাদির।

অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনি একক, তার কোনো শরিক নেই। রাজত্ব ও প্রশংসা তারই এবং তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।

হাদিসে বলা হয়েছে- ‘আরাফার দিনের সর্বোত্তম দোয়া হলো এই দোয়া।’ তাই দোয়াটি বারবার পড়তে থাকুন।

তাকবিরে তাশরিক: ৯ জিলহজ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আছর পর্যন্ত

উচ্চারণ: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।

অর্থ: আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান; আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান; সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই।

প্রতিটি ফরজ নামাজের পর এই তাকবির পড়া ওয়াজিব।

কঙ্কর নিক্ষেপের সময়

উচ্চারণ: আল্লাহু আকবার।

অর্থ: আল্লাহ মহান।

প্রতিটি কঙ্কর ছুঁড়ে দেওয়ার সময় এই তাকবির বলুন।

মসজিদুল হারাম থেকে বের হওয়ার সময়

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি ওয়াস্সালাতু ওয়াস্সালামু আলা রাসূলিল্লাহ, আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন ফাদলিকা।

অর্থ: আল্লাহর নামে (বের হচ্ছি), আল্লাহর রাসূলের উপর দরুদ ও সালাম। হে আল্লাহ, আমি তোমার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি।

অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ দোয়াসমূহ…

কাবা শরিফ প্রথম দেখার সময়

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা যিদ হাযাল বাইতা তাশরীফান ওয়া তাযীমান ওয়া তাকরীমান ওয়া মাহাবাতান, ওয়া যিদ মান শাররাফাহু ওয়া কাররামাহু মিম্মান হাজ্জাহু আওয়ি’তামারাহু তাশরীফান ওয়া তাকরীমান ওয়া তাযীমান ওয়া বিররান।

অর্থ: হে আল্লাহ! এই ঘরের সম্মান, মর্যাদা, শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রতিপত্তি আরও বাড়িয়ে দাও এবং যারা এখানে হজ বা উমরা করতে আসে তাদের সম্মান ও মর্যাদা আরও বাড়িয়ে দাও।

কাবার দিকে তাকানো মাত্রই এই দোয়া পড়ুন।

মুলতাজামে দোয়া

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নী ওয়াকাফতু বিবাবিকা ওয়ালতাযামতু বিআতাবিকা আরযু রাহমাতাকা ওয়া আখশা মিন আযাবিকা। আল্লাহুম্মা হাররীম শারী ওয়া জাসাদী আলান্নার।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার দরজায় দাঁড়িয়েছি এবং তোমার দেহলিজ আঁকড়ে ধরেছি- তোমার রহমতের আশায় এবং তোমার আজাবের ভয়ে। হে আল্লাহ! আমার চুল ও শরীরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করো।

হাজরে আসওয়াদ ও কাবার দরজার মাঝের অংশে বুক লাগিয়ে দুই হাত কাবার দেয়ালে রেখে পড়ুন।

জমজমের পানি পান করার সময়

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইলমান নাফিআ ওয়া রিযকান ওয়াসিয়া ওয়া শিফাআম মিন কুল্লি দা-ইন।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে উপকারী ইলম, প্রশস্ত রিজিক এবং সমস্ত রোগ থেকে আরোগ্য চাই।

কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে তিন নিঃশ্বাসে পানি পান করুন।

মুজদালিফায় দোয়া

উচ্চারণ: আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু।

অর্থ: আল্লাহ মহান। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; তিনি একক, তার কোনো শরিক নেই।

মুজদালিফায় রাতে বেশি বেশি ইস্তেগফার ও তাসবিহও পড়ুন।

হজ থেকে ফেরার সময়

উচ্চারণ: আল্লাহু আকবার (তিনবার), লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির। আয়িবুনা তায়িবুনা সাজিদুনা লিরাব্বিনা হামিদুনা। সাদাকাল্লাহু ওয়াদাহু ওয়া নাসারা আবদাহু ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহু।

অর্থ: আল্লাহ মহান (তিনবার)। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আমরা ফিরে আসছি, তওবাকারী হয়ে, সিজদাকারী হয়ে আমাদের রবের প্রশংসা করতে করতে। আল্লাহ তার ওয়াদা পূরণ করেছেন।

কোরআনের বিশেষ দোয়াসমূহ…

ক্ষমা ও রহমতের দোয়া

উচ্চারণ: রব্বানা যালামনা আনফুসানা, ওয়া ইল্লাম তাগফির লানা ওয়া তারহামনা লানাকূনান্না মিনাল খাসিরীন।

অর্থ: হে আমাদের রব! আমরা নিজেদের উপর অত্যাচার করেছি; যদি তুমি আমাদের ক্ষমা না করো এবং রহম না করো তাহলে আমরা নিশ্চয়ই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।

হজরত আদম ও হাওয়া (আ.)-এর দোয়া এটি।

বংশধরদের জন্য দোয়া

উচ্চারণ: রব্বিজআলনী মুকীমাস সালাতি ওয়া মিন যুররিইয়াতী, রব্বানা ওয়া তাক্বাব্বাল দুআ। রব্বানাগফির লী ওয়া লিওয়ালিদাইয়া ওয়া লিলমুমিনীনা ইয়াওমা ইয়াকূমুল হিসাব।

অর্থ: হে আমার রব! আমাকে ও আমার বংশধরদেরকে নামাজ কায়েমকারী বানাও। হে আমাদের রব! আমার দোয়া কবুল করো। হে আমাদের রব! বিচার দিনে আমাকে, আমার পিতামাতাকে ও সকল মুমিনকে ক্ষমা করো।

হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর দোয়া।

সবর ও মুসলিম অবস্থায় মৃত্যুর দোয়া

উচ্চারণ: রব্বানা আফরিগ আলাইনা সাবরান, ওয়া তাওয়াফফানা মুসলিমীন।

অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদের উপর ধৈর্য ঢেলে দাও এবং আমাদেরকে মুসলিম হিসেবে মৃত্যু দাও।

অক্ষমতা ও ক্ষমার দোয়া

উচ্চারণ: রব্বানা লা তুআখিযনা ইন নাসীনা আও আখতানা, রব্বানা ওয়া লা তাহমিল আলাইনা ইসরান কামা হামালতাহু আলাল্লাযীনা মিন কাবলিনা, রব্বানা ওয়া লা তুহাম্মিলনা মা লা তাক্বাতা লানা বিহি, ওয়াফু আন্না ওয়াগফির লানা ওয়ারহামনা।

অর্থ: হে আমাদের রব! আমরা ভুলে গেলে বা ভুল করলে আমাদেরকে পাকড়াও করো না। আমাদের উপর এমন বোঝা চাপিও না যা আমরা বহন করতে পারব না। আমাদেরকে ক্ষমা করো, রহম করো।

The post হজের পূর্ণ সওয়াব লাভে যে দোয়াগুলো নিয়মিত পড়া সুন্নত first appeared on সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net.