রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম
৮ মার্চ, ২০২৬ ১৬:০২  
৮ মার্চ, ২০২৬ ১৭:০৬  

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়–এর মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। ৮ মার্চ, রবিবার পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত প্রকল্প এলাকায় এ পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হয়।

পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রকল্প পরিচালক মন্ত্রী ও উপদেষ্টাকে প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখান এবং কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন।

মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হবে। তিনি আরও বলেন, সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে কাজ করছে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান বজায় রেখে প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, বড় প্রকৌশল প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত নানা চ্যালেঞ্জ থাকাই স্বাভাবিক। এসব চ্যালেঞ্জ দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করে ধাপে ধাপে প্রকল্প এগিয়ে নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, সমন্বিত টিমওয়ার্কের মাধ্যমে ঝুঁকি মোকাবিলা করে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা সরকার নিশ্চিত করবে।

এ সময় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, রূপপুর প্রকল্প বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে একটি মাইলফলক উদ্যোগ। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত অ্যালেক্সজেন্ডার গ্রেগোজিভ খজিন (Alexander Grigoryevich Khozin) বলেন, রাশিয়া বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে রাশিয়ান বিশেষজ্ঞদের পেশাদারিত্ব এবং বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের সঙ্গে যৌথ প্রচেষ্টা প্রকল্পটিকে সফলতার দিকে এগিয়ে নিচ্ছে। তিনি বলেন, কেন্দ্রটির প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

রাষ্ট্রদূত আরও জানান, এই প্রকল্প বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এবং ভবিষ্যতে এটি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের মালিকানায় পরিচালিত হবে।

পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডিবিটেক/এমজেডইউ/এমইউএম