৫ বছরে আইসিটি খাতে ২০ লাখ কর্মসংস্থান; ‘ইয়ুথ টেক ল্যাব’ স্থাপনের ঘোষণা জামায়াতের

৫ বছরে আইসিটি খাতে ২০ লাখ কর্মসংস্থান;  ‘ইয়ুথ টেক ল্যাব’ স্থাপনের ঘোষণা জামায়াতের
২০ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৪:৫৮  
২০ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:১০  

সরকার গঠনে গণরায় পেলে পাঁচ বছরের মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে ২০ লাখ যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা পরিকল্পনার কথা জানালো  বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। প্রতিটি উপজেলায় গ্র্যাজুয়েটদের জন্য ‘ইয়ুথ টেক ল্যাব’ স্থাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে একটি নতুন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। পাশাপাশি পাঁচ বছরে এক কোটি তরুণকে বাজারভিত্তিক স্কিল প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

৩০ জানুয়ারি মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেলে ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত  পলিসি সামিটে ‘ইয়ুথ এমপ্লয়মেন্ট’ বিষয়ক আলোচনায় এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়। সকাল ৯টায় শুরু হওয়া সামিটে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা, শিল্প, কৃষি, তরুণ উন্নয়ন ও আইসিটি খাতকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত নীতিগত রূপরেখা তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে আইসিটি খাতে সম্ভাব্য কর্মসংস্থান নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন থ্রাইভিং স্কিলস-এর প্রধান নির্বাহী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। তিনি বলেন, দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা গেলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। এ জন্য প্রয়োজন পরিকল্পিত বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংযোগ।

একই আলোচনায় জানানো হয়, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রতিটি জেলায় ‘জেলা জব ইয়ুথ ব্যাংক’ গঠন করে পাঁচ বছরে ৫০ লাখ জব এক্সেস নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।। আলোচকেরা বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য বেকারত্ব সমস্যা নিরসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য খাতভিত্তিক কর্মসংস্থান তৈরির একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা প্রয়োজন। 

পলিসি সামিটে বক্তারা আরও বলেন, তরুণদের কর্মসংস্থানে কার্যকর উদ্যোগ নের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। 

তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে নারী, তরুণ ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে প্রাধান্য দিয়ে পাঁচ লাখ উদ্যোক্তা তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। পাশাপাশি ডিজিটাল অর্থনীতিতে তরুণদের যুক্ত করতে ১৫ লাখ ফ্রিল্যান্সার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আইসিটি খাতে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হিসেবে ‘ভিশন ২০৪০’ ঘোষণা করা হয়। এর আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে ২ মিলিয়ন আইসিটি জব সৃষ্টি ও প্লেসমেন্ট, ফ্রিল্যান্সার ও ডিজিটাল রফতানির জন্য ন্যাশনাল পেমেন্ট গেটওয়ে স্থাপন এবং আইসিটি খাত থেকে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানি আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। একইসঙ্গে আইসিটি খাতে সরকারের ব্যয় থেকে দেড় বিলিয়ন মার্কিন ডলার সাশ্রয়ের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। ঘোষণায় স্বল্পশিক্ষিত যুবকদের জন্য উপযোগী স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম চালু করার কথা  বলা হয়। 

ঘোষিত পরিকল্পনার মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৬ থেকে ৮ শতাংশ বাজেট বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্ক নাগরিক ও পাঁচ বছরের নিচে শিশুদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবার ঘোষণা দেওয়া হয়। এ ছাড়া ৬৪ জেলায় ৬৪টি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। প্রসূতি নারী ও মায়েদের জন্য ‘ফার্স্ট হান্ড্রেড ডেইজ প্রোগ্রাম’-এর আওতায় বিনামূল্যে সেবা ও সহায়তা প্রদান করা হবে বলেও জানানো হয়।

সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে স্মার্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়, যেখানে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), টিআইএন, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা এক কার্ডের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি সকল শিশুর জন্য বিনামূল্যে খাদ্য সরবরাহের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়।

অর্থনীতি ও শিল্প খাতে ঘোষিত নীতিতে বলা হয়, নতুন শিল্পের বিকাশে প্রথম তিন বছরের জন্য সব শিল্পে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির চার্জ মওকুফ করা হবে। বন্ধ কলকারখানা পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে পুনরায় চালু করা হবে এবং এসব কারখানার ১০ শতাংশ মালিকানা শ্রমিকদের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে।

কৃষিখাতে কৃষকদের জন্য সুদবিহীন ঋণ সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিক্ষিত তরুণদের জন্য ৫ লাখ গ্রাজুয়েটকে দুই বছর মেয়াদি মাসিক ১০ হাজার টাকা করে সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া মেধাভিত্তিক এক লাখ শিক্ষার্থীর জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা সুদমুক্ত ঋণের ব্যবস্থার কথাও জানানো হয়। প্রতিবছর বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০০ শিক্ষার্থীকে সুদমুক্ত লোনে সরকারি উদ্যোগে প্রেরণের পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়।

পলিসি সামিটে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সম্পাদক ও সাংবাদিক নেতা, গবেষক, প্রফেশনালসসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। সামিটে আরও অংশ নিয়েছেন ডিস্টিংগুইসড ফেলো ও প্রথম নির্বাহী পরিচালক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শাহদীন মালিক এবং সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানসহ অন্যান্য বিশিষ্টজন।

আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, পাকিস্তান, কসোভো, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, ব্রুনাই, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, ডেনমার্ক, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, ইরান, কানাডা, ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান, লিবিয়া, আলজেরিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান, নরওয়ে, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, দক্ষিণ কোরিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, স্পেন, ব্রাজিল, জাতিসংঘ, ইউএনডিপি, আইআরআই সহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও কূটনীতিবিদরা উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠনের আমির নায়েবে আমির ডা. শফিকুর রহমান, ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের ও মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মা’ছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন ও মোবারক হোসাইন।

ডিবিটেক/এমইউএম/এসএস