স্মরণ 

প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সিদ্দিক এখন দ্বিগুণ প্রাসঙ্গিকঃ হোসেন জিল্লুর রহমান

প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সিদ্দিক এখন দ্বিগুণ প্রাসঙ্গিকঃ হোসেন জিল্লুর রহমান
২০ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৯:১৭  
২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৪:১৫  

আজ ২০ জানুয়ারি। ১৯৪৫ সালের এই দিনে কুষ্টিয়ার জন্ম গ্রহণ করেন তিনি। জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালনের সময়েই ঝাঁপিয়ে পড়েন দেশ স্বাধীনের যুদ্ধে। বিজয়ের পর আর্থ-সামাজিক মুক্তির লক্ষ্যে প্রৌকশল উন্নয়নে নিবেদিত থেকে গড়ে তোলেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। বিশ্বব্যাংক, জাইকা’র মতো দাতা সংস্থাগুলোকে বশে এনে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে হয়ে ওঠেন গ্রাম-বাংলার অবকাঠামো উন্নয়নের রূপকার। যেই রূপরেখা পরিবেশ উন্নয়ন, সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, আন্তর্জাতিক নদীর পানি হিস্যায় দেশের ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠা থেকে লাভবান হবার কৌশল নির্ধারণ; আধুনিক, পরিচ্ছন্ন গতিশীল ঢাকা মহানগরী গড়তে মেট্রো ও পাতাল রেল; নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ বাণিজ্যিক জ্বালানী সরবরাহে নবায়নযোগ্য জ্বলানী অবকাঠামোর মতো অগ্রজ ভূমিকা রেখে গেছেন ক্ষণজন্মা এই পুরুষ। তিনি কামরুল ইসলাম সিদ্দিক।  

আজকের এই দিনে তাঁর মতো ‘অনন্য ব্যক্তিত্বের’ জীবন কর্ম নিয়ে দ্বিগুণ আলোচনার প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। এই সৃজনশীল ব্যক্তিত্বের ৮১তম জন্ম দিনে তাঁর কর্ম ও জীবন দর্শনের আলাপ দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানালেন বেসরকারি সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান ব্র্যাকের এই চেয়ারম্যান

তার ভাষায়, ফলাফলের চেয়ে তোষামদি-ফাইল চালাচালির যে জাতীয় রোগ মহামারি রূপ নিয়েছে, তার চিকিৎসায় কামরুল ইসলাম সিদ্দিকের মতো পেশাদারিত্ব গুণের ব্যক্তির জীবন নিয়ে আলোচনা দ্বিগুণ-চারগুণ প্রয়োজন। সঙ্গত কারণেই আজও এমন প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না পাওয়ায় আমি বিস্মিত নই। কেননা, এখন মর্যাদাগুলোর এমন অবমূল্যায়ণ হয়েছে, সেখানে উনি না থাকাটাই বাস্তবতা। তবে ওনার মর্যাদা ইতিহাসে থাকবে। ওনার যোগ্যতা, পোশাদারিত্ব ও দৃঢ় মানসিকতা ও মানবিকতাকে রাষ্ট্রের স্বার্থেই লালন করতে হবে। তা না হলে আমাদের ভাবমর্যাদাই প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

‘‍উনি আনুষ্ঠানিকতাকে গুরুত্ব দিতেন না। তার ফোকাস ছিলো পেশাদারিত্বে। আর আজকের দিনে এই বিশেষ গুণটির অনুপস্থিতি প্রকট আকার ধারণ করেছে। পেশাদারিত্ব এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ মিলে তার কর্মময় জীবনে ব্যতিক্রমী ফোকাস ছিলো। উনি সমাধানমুখী চিন্তাকে প্রধান্য দিতেন’ -যোগ করেন হোসেন জিল্লুর রহমান।

স্মৃতি হাতড়ে কক্সবাজারে রাবার ড্যাম স্থাপনের বিষয়ে কামরুল ইসলাম সিদ্দিকের অনন্য ভূমিকা স্মরণ করে এই শিক্ষাবিদ অর্থনীতিবিদ বললেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড যখন কক্সবারে রাবার ড্যাম স্থাপনে পাত্তা দিচ্ছিলো না। তখন তার দেশপ্রেম ও দুরদর্শীতায় এই কাজে এলজিইডিকে সম্পৃক্ত করা হয়। এর ফলে ওই অঞ্চলের বন্যা ও খরা উভয় ‘অভিশাপই’ তিনি দূর করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

প্রকৌশলী হলেও কামরুল ইসলাম সিদ্দিকের প্রকৃতি প্রেম বিষয়ে আলোকপাত করে হোসেন জিল্লুর রহমান বললেন, প্রকৃতির প্রতি ছিলো তাঁর নিবিঢ় ভালোবাসা। সৌন্দর্যবোধকে তিনি গুরুত্ব দিতেন। এলজিইডি ভবন করার সময় গাছ রক্ষা করে নকশা করা ছিলো এর অন্যতম। এছাড়া এলজিইডি’র প্রতিটি অফিসেই তিনি একটি করে বাগান করেছিলেন। ওই সময় থেকেই তিনি ছিলেন জলবায়ু ও পরিবেশ সচেতন।  

এতো দিনেও অনুল্লেখিত প্রথা ভাঙ্গা এই প্রধান প্রকৌশলীর তিনটি গুণকে তুলে ধরলেন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বললেন, কর্মজীবনে কামরুল ইসলাম সিদ্দিক নারী ও দরিদ্রদের মতো পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সমাজের উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতেন। আমার মনে পড়ে দরিদ্র নারীদের এলজিইডি’র নানা কাজে সম্পৃক্ত করতে তিনি লেবার কন্ট্রাক্টিং সোসাইটি (এলসিএস) তৈরি করেছিলেন। এইএলসিএস রাস্তার পাশে বনায়নের মতো কাজ করতো। তাই এমন পেশাদার ব্যক্তিত্বের উদাহরণ আরও বেশি স্মরণ করা দরকার। 

 ডিবিটেক/আইএইচ/এমইউএম