গেম ও এআই দিয়ে অটিজম শনাক্ত করে 

প্রথম ডিএনএ হেলথ হ্যাকাথনে সিলেটের সেরা ‘নিউরোনারচার'

প্রথম ডিএনএ হেলথ হ্যাকাথনে সিলেটের সেরা ‘নিউরোনারচার'
১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১০:৩৪  

প্রাথমিক বাছাইয়ের পর সিলেট বিভাগ দিয়ে  শুরু হলো স্বাস্থ্য বিষয়ক উদ্ভাবনী প্রতযোগিতা ডিএনএ হ্যাক ফর হ্যাকাথন ২০২৬। চিকিৎসা ও প্রযুক্তির অভিনব মেলবন্ধনে শুরু হওয়া প্রথম এই হ্যাকাথনে অটিজম চিকিৎসায় এআই-ভিত্তিক সলিউশন দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ‘নিউরোনারচার’ (NeuroNurture)। এছাড়াও প্রান্তিক পর্যায়ে মিডওয়াইফদের প্রশিক্ষণে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফাস্ট রানার-আপ হয়েছে ‘টিম স্টার’ (Team Star)। আর  জীবন রক্ষায় আইসিইউ বেড ও জরুরি ওষুধের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে একটি লাইভ লজিস্টিক অ্যাপ তৈরি করে সেকেন্ড রানার-আপ হয়েছে ‘মেডিলিঙ্ক’ (MediLink)।

নির্বাচনের পর বাকি সাতটি বিভাগের প্রতিযোগিতা শেষে আসছে জুনে বিজয়ী এই তিনটি তিনটি দলই  ঢাকায় অনুষ্ঠেয় ন্যাশনাল গ্র্যান্ড ফিনালেতে লড়বে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। 

এর আগে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে ১৬ জানুয়ারি, শুক্রবার অনুষ্ঠিত বিভাগীয় হ্যাকাথনে সিলেটের বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী। এসময় তিনি বলেন, “আমাদের মেডিকেল কলেজগুলোতে গবেষণা ও শিক্ষার ক্ষেত্রে কিছু কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবে বিএমডিসি (BMDC) এ বিষয়ে সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমানে ডব্লিউডিওএমএস (WDOMS) স্বীকৃতির প্রচেষ্টা চলছে, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে ইউএসএমএলই (USMLE)-এর মতো আন্তর্জাতিক সুযোগ এনে দেবে।”

তবে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন, গবেষণা সহায়তা ও ডিজিটাল এথিক্সের ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করে বলেন, এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার মাধ্যমেই টেকসই উদ্ভাবন সম্ভব। প্যানেল আলোচনার শেষে সকল বক্তা একমত হন যে, ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যখাত রক্ষায় চিকিৎসা, প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও নীতিনির্ধারণের সমন্বিত আন্তঃখাতভিত্তিক (intersectorial) উদ্যোগই একমাত্র কার্যকর পথ।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে ডিএনএ হেলথ কমিউনিকেশনের প্রতিষ্ঠাতা এসএমও নাওয়েদ বলেন, “এই হ্যাকথন মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য এমন এক সুযোগ তৈরি করল, যেখানে তারা প্রকৌশল ও ব্যবসায় শিক্ষার শিক্ষার্থীদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে পারছে।”

মেডিকেল শিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে এক নতুন দিগন্তের সূচনা উল্লেখ করে তিনি ‘দেশে চলমান সমস্ত স্বাস্থ্য গবেষণার তথ্য সংরক্ষণের জন্য একটি ‘সেন্ট্রাল ডেটা রিপোজিটরি’ বা কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার তৈরির জোরালো দাবি জানান। এতে করে হেলথকেয়ার এআই টুল তৈরিতে স্থানীয় মেধার এই উদ্ভাবনগুলো জাতীয় সম্পদে পরিণত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন নাওয়েদ। 

অপরদিকে ডিজিএইচএস/এমআইএস-এর সিনিয়র কনসালটেন্ট এবং ন্যাশনাল আইসিটি অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী মুহাম্মদ আসিফ আতিক বলেন, “ডিএনএ হ্যাক ফর হেলথ একটি অসাধারণ সফল উদ্যোগ, আলহামদুলিল্লাহ। মেডিকেল ডোমেইনে এটিই প্রথম আয়োজন হিসেবে অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতি ছিল সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রযুক্তির সংযোজন থেকে শুরু করে চিন্তাধারা এবং দিকনির্দেশনা—সব মিলিয়ে পুরো আয়োজনটি ছিল এক কথায় অনবদ্য।”

সিলেটে জ্বলে ওঠা এই উদ্ভাবনের মশাল খুব দ্রুতই ছড়িয়ে পড়বে সারা দেশে। ডিএনএ হেলথ কমিউনিকেশন ঘোষণা করেছে , চলতি বছর দেশের প্রতিটি বিভাগীয় মেডিকেল কলেজে এই হ্যাকথন অনুষ্ঠিত হবে। তবে আয়োজন শুধু প্রযুক্তিতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; স্বাস্থ্য সচেতনতা ও মানসিক প্রশান্তির লক্ষ্যে বছরজুড়ে থাকবে ওয়াকথন, ম্যারাথন, আর্ট ও ফটোগ্রাফি এক্সজিবিশন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বিশেষ স্ট্যান্ডআপ কমেডি শো। প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির এই মেলবন্ধনে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত দেখবে এক নতুন ভোরের স্বপ্ন।

ডিবিটেক/এনওবি/এইএমও