সহিংস ও-উস্কানিমূলক কনটেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মেটাকে বিটিআরসির আহ্বান

সহিংস ও-উস্কানিমূলক কনটেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মেটাকে বিটিআরসির আহ্বান
১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ২০:২১  

সোশ্যাল হ্যান্ডেল ফেসবুক-এ প্রকাশিত সহিংস কন্টেন্ট অপসারণ ও ব্লক করতে সময় বেশি নেয়ায় শরিফ ওসমান হাদি’র মৃত্যু পরবর্তী সময়ে দেশে সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে প্লাটফর্মটির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মেটা’র কাছে লিখিত উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এতে ‘বড় আকারের সহিংসতা, ভয় দেখানো এবং আসন্ন নির্বাচনকে ব্যাহত করার আহ্বান জানানোর জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে’ বলে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ-কে অভিযুক্ত করে সহিংস ও-উস্কানিমূলক কনটেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। 

১৯ ডিসেম্বর, শুক্রবার জরুরি ই-মেইল বার্তায় এই উদ্বেগ প্রকাশ ও অভিযোগ করা হয়। মেইলে ১৮ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার রাতের সহিংস ঘটনার বরাত দিয়ে দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে সামাজিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে মেটাকে নিজেদের প্ল্যাটফর্মগুলোর অপব্যবহার রোধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিষয়টি ‘জাতীয় গুরুত্বের বিষয়’ উল্লেখ করে চিঠিতে ‘আসন্ন নির্বাচন নাগরিকদের জীবন, গণতান্ত্রিক অধিকার, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার সাথে গভীরভাবে জড়িত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফেসবুকের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিসহ মেটার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে বিটিআরসি বলেছে, গণঅভ্যুত্থানের পর সহিংসতা কবলিত একটি সংকটপূর্ণ সময় পার করছে দেশ। গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ একটি ভঙ্গুর রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে এবং বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর উল্লেখ করে বিটিআরসি বলেছে, জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম সারির সংগঠন ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডের পর বিভিন্ন কন্টেন্টের জেরে বাস্তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়, সেইসঙ্গে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলাও হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে কিছু ব্যক্তি ভিন্ন মতাদর্শের সাথে যুক্ত হয়ে প্রকাশ্যে এই মৃত্যুকে সমর্থন জানিয়েছে, আবার কেউ কেউ প্রকাশ্যে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান জানিয়েছে।’

বিটিআরসি জানায়, এই পদক্ষেপগুলো সরাসরি বেশ কয়েকটি স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের আগে ঘটেছিল, যার মধ্যে দুটি গণমাধ্যমও ছিল- দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো। এই হামলা ব্যাপক ভীতি সৃষ্টি করেছে এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বলছে, ‘সহিংস কন্টেন্ট অপসারণ বা ব্লকের ক্ষেত্রে মেটাকে ব্যবস্থা নিতে যে পরিমাণ সময় লাগছে... তা ওই অ্যাকাউন্টগুলোর মাধ্যমে আরও সহিংসতা ও গণজমায়েতকে উৎসাহিত করার সুযোগ তৈরি করছে।’

চিঠিতে সতর্ক করা হয়েছে যে সহিংসতা সৃষ্টিকারী বিষয়বস্তুর অবাধ প্রচার জাতীয় স্থিতিশীলতা, সামাজিক সম্প্রীতি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর জীবন ও সুরক্ষার জন্য সরাসরি হুমকি। এতে আরও বলা হয়েছে যে মেটার ভূমিকা কেবল প্রযুক্তিগত নয়; এটি জনদায়িত্বের বিষয়ও।

‘বাংলাদেশে মেটার কোনো স্থানীয় কার্যালয় নেই’ উল্লেখ করে বিটিআরসি বলেছে, ‘এসব আনুষ্ঠানিক মাধ্যমে পাঠানো একাধিক জরুরি অনুরোধের সময় মতো সাড়া পাওয়া যায়নি, যেখানে সহিংস বিষয়বস্তু ব্যাপকভাবে প্রচারিত হতে থাকে।’

চিঠির এক পর্যায়ে মেটাকে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছে নিয়ন্ত্রক কমিশন। এর মধ্যে ‘বাংলাদেশের কন্টেন্টের জন্য আরও কঠোর, দ্রুত এবং আরও প্রাসঙ্গিক উপায়ে কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড প্রয়োগ করা’; ‘বাংলা ভাষার মডারেশন জোরদার করা’ এবং ‘সহিংসতা সৃষ্টিকারী বিষয়বস্তু সম্পর্কে রিপোর্ট পাওয়ার সাথে সাথেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ’ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

এছাড়াও, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের বিষয়বস্তুর ওপর কঠোর নজরদারি রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ডিবিটেক/আইএইচ/ওআর