আইইবিতে রাইস ব্রাণ শিল্পের সম্ভাবনা ও কৌশল নিয়ে আলোচনা
অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক বাজার চাহিদার নিরিখে বাংলাদেশে ধানের কুঁড়া থেকে উৎপাদিত ভোজ্য তেলের যোগান সহজলভ্য করার বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) এর কৃষিকৌশল বিভাগরে উদ্যোগে ২৭ সেপ্টম্বর, শনিবার বিকেলে রাজধানী রমনার আইইবি সদর দফতরের শহীদ প্রকৌশলী ভবনের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত Rice Bran Oil- Potentiality in Bangladesh শীর্ষক সেমিনারে এই দাবি জানানো হয়।
এই দাবি শুনে সেমিনারে প্রধান অতিথি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের (ডিএই) মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. সাইফুল আলম বলেন, “ধান আমাদের প্রধান খাদ্যশস্য। এর ভুসি থেকে উৎপাদিত তেলের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারলে কৃষি ও শিল্প দুই খাতই উপকৃত হবে। সরকার কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে, জরপব ইৎধহ ঙরষ উৎপাদনকে এগিয়ে নিতে নীতি সহায়তা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে কৃষি প্রকৌশলীদের জন্য একটি কৃষি প্রকৌশল উইং বাস্তবায়নের কাজ চলমান যা খাদ্য প্রক্রিয়াজাত ও যান্ত্রিকীকরণে সহায়তা বৃদ্ধি করবে।” আমরা কৃষিতে টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ কৃষিতে সয়ংসম্পূর্ণ হবে আশা করছি।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইইবি‘র ভাইস-প্রেসিডেন্ট (এইচআরডি) প্রকৌশলী শেখ আল আমিন বলেন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) প্রকৌশলীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি জন্য কাজ করে থাকেন। রাচই ব্যান্ড তেল মানব দেহের জন্য ভালো হওয়ার পরও আমরা গ্রহণ না করে বিদেশে রপ্তানি করছি আর বিদেশ থেকে আমদানি করছি ক্ষতিকর তেলগুলো। রাচই ব্যান্ড তেলের উৎপাদন বৃদ্ধি ও সহজলভ্য করার জন্য আজকের সেমিনার থেকে প্রাপ্ত সুপারিশমালা স্ব স্ব সংস্থা, মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হবে।
অপর বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ ইডিবল ওয়েল লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (কিউএ এন্ড ইএমএস) মো. ইমতিয়াজ মাসুদ বলেছেন, বর্তমানে উৎপাদনকৃত রাইচ ব্যান্ড তেলের ৯০ শতাংশ ভারতে রপ্তানি করা হচ্ছে। রাইচ ব্যান্ড তেলের চাহিদা বাংলাদেশের বাজারে কম থাকায় বাহিরে রপ্তানি করা হচ্ছে। অন্য তেলের তুলনায় রাইচ ব্যান্ড তেলের দামি কিছু বেশি হওয়ায় সকলেই গ্রহণ করতে সক্ষম হচ্ছেন না। রাচই ব্যান্ড তেল সহজলভ্য করতে হলে সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। রাইচ ব্যান্ড তেলের মিলগুলো অটোমেশন করা হলে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি দামও কমে আসবে। রাইচ ব্যান্ড তেলের উৎপাদন বৃদ্ধি ও সহজলভ্য করার জন্য তিনি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
স্বাগত বক্তব্যে, খান, আইইবি সম্মানী সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. সাব্বির মোস্তফা বলেন, বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ হওয়ায় কৃষিবিদদের ভূমিকা অপরিসীম। আজকের সেমিনারের বিষয়বস্তু বর্তমান সময়োপযোগী। আজকের সেমিনার হতে প্রাপ্ত সুপারিশমালা বাস্তবায়নের জন্য স্ব স্ব সংস্থা, মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গাজীপুরের বিআরআরআই পরিচালক (এডমিন ও সিএস) (পিআরএল) ড. মো. আনোয়ারুল হক। তিনি বলেন, “ব্রি দীর্ঘদিন ধরে ধানের ভুসি নিয়ে গবেষণা করছে। সঠিক সময়ে ভুসি সংগ্রহ ও আধুনিক প্রক্রিয়াজাত প্রযুক্তি ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ মানের তেল উৎপাদন সম্ভব। এজন্য সরকার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে।”
আইইবি কৃষিকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী গোলাম মাওলার সভাপতিত্ব সেমিনারে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ভাইস-চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ সরোয়ার মাওলা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন আইইবি কৃষিকৌশল বিভাগের সম্পাদক প্রকৌশলী মোঃ বেলাল সিদ্দিকী।







