উধাও ফ্লাইটএক্সপার্ট?
অনলাইনে উড়োজাহাজ টিকিট কাটার প্ল্যাটফর্ম ফ্লাইট এক্সপার্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) খোঁজে অফিসে ভীড় করছেন সেবাগ্রহীতারা। তবে এমন পরিস্থিতিতে ২ আগস্ট, শনিবার দুপুরে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ওটিএ প্ল্যাটফর্ম ফ্লাইট এক্সপার্টের ওয়েবসাইটে ঢুকতে না পেরে প্রতিষ্ঠানটির মতিঝিলের সিটি সেন্টারের কার্যালয়ে ভিড় করেছে শত শত ট্রাভেল এজেন্ট ও হজযাত্রীরা। সেখানে ফ্লাইট এক্সপার্টের কয়েকজন কর্মচারীও আটকা আছেন।
ফ্লাইট এক্সপার্টের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে গিয়ে দেখা গেছে, তাদের সবশেষ পোস্ট ছিল হজ নিয়ে। সেই পোস্টে হজ্ব-২০২৬ এর রেজিস্ট্রেশন শুরু জানিয়ে হজ প্যাকেজের মূল্য ছাড়া হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই যেসব ট্রাভেল এজেন্সি ও হজ এজেন্সি ফ্লাইট এক্সপার্ট থেকে টিকিট কিনে বিক্রি করত, তারাও ফ্লাইট এক্সপার্টের ওয়েবসাইটে ঢুকতে পারছেন না। তারা নিজেদের টিকিট এবং ওয়ালেটে জমা টাকার পরিমাণও দেখতে পারছে না।
এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুঞ্জন উঠেছে, প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে গেছে, প্রতিষ্ঠানের মালিক টিকিটের টাকা নিয়ে পালিয়েছেন। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গুঞ্জন উঠেছে গ্রাহকদের শতকোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন ফ্লাইট এক্সপার্ট। বর্তমানে তাদের ওয়েবসাইটের পাশাপাশি টেলিফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট থানায় ভিড় করছেন গ্রাহকেরা।
ফ্লাইট এক্সপার্টের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিইও সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম।
সহকর্মীদের উদ্দেশে তিনি লিখেছেন, আপনাদের সঙ্গে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেয়ার করতে চাই। সম্প্রতি একটি পরিকল্পিত বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়েছি। সাঈদ হোসেন ও সাকিব এ ঘটনার পেছনে ছিলেন। গত বৃহস্পতিবারের মিটিংয়ে তারা সমন্বিতভাবে সমস্ত দায় আমার ওপর চাপিয়ে দেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমাকে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগও দেওয়া হয়নি। আজ সকালে তারা প্রায় ৩ কোটি টাকা তুলে নেন এবং নিজেদের কাছে রেখে দেন। এরপর থেকেই কোম্পানির কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। দায় চাপানো ও হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে আমি শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তার জন্য ছুটিতে যেতে বাধ্য হয়েছি। এভাবে সরে যাওয়া আমার উদ্দেশ্য ছিল না– আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।
সন্ধ্যায় মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন বলেন, বিকেল থেকে অনেকেই বলছেন ফ্লাইট এক্সপার্টের এমডিসহ ঊর্ধ্বতনরা পালিয়ে গেছেন। বিষয়টি জানার জন্য তাদের অফিসে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে। ফ্লাইট এক্সপার্টের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেশ কিছুদিন ধরে তাদের এমডি অফিস করছেন না। ওয়েবসাইটিও পাওয়া যাচ্ছে না। পুরো বিষয়টি এখনো অস্পষ্ট রয়েছে। এ নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। এর মধ্যে আবার অনেক গ্রাহক মতিঝিল থানায় জিডি করতে আসছেন।
প্রসঙ্গত, ফ্লাইট এক্সপার্ট ২০১৭ সালের মার্চ থেকে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। পরে তারা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের টিকিট বুকিং, হোটেল রিজারভেশন, ট্যুর প্যাকেজ ও ভিসা প্রক্রিয়াকরণের মতো নানা ধরনের সেবা দিত। বিশেষ করে সাশ্রয়ী মূল্যে ফ্লাইট টিকিট বুক করার সহজ সুবিধার কারণে এটি গ্রাহকদের কাছে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। গ্রাহকদের জন্য বিভিন্ন আকর্ষণীয় অফার, ডিসকাউন্ট ও সহজে পেমেন্টের ব্যবস্থা থাকায় এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।







