ডিজিটালি দ্বৈচয়ন পদ্ধতিতে ১৫৪০০ ফাইল বাছাই করেছে এনবিআর
রাজস্ব আহরণে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নীরিক্ষার জন্য ডিজিটালি দ্বৈচয়ন পদ্ধতিতে ১৫ হাজার ৪০০ ফাইল বাছাই করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এনবিআরে অটোমেশনের জোর দেয়ার অংশ হিসেবে এমন উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
রাজস্ব আহরণে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মেশিনের ব্যবহার বাড়ানোর উপর জোর দিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেছেন, অনেক সফটওয়্যার এবং ডেটা কালেকটিভ এজেন্সি আছে, যেগুলোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে কোন পণ্যের কত দাম, তা খুব সহজে জানা সম্ভব। ব্যাংকগুলো এলসি (ঋণপত্র) খোলার সময় কত দামে এলসি খুলছে, আর আন্তর্জাতিক বাজারে ওই পণ্যের দাম কত, একটু দেখে নিলেই তা জানতে পারে। ওভার ইনভয়েসিং ও আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের ক্ষেত্রে ব্যাংক ও কাস্টমস বিভাগের রেগুলেশনের ফেইলিউর আছে। আন্ডার ইনভয়েসিং প্রতিরোধে এনবিআর মিনিমাম ট্যারিফ ভ্যালু নির্ধারণ করে থাকে। কিন্তু এতে সৎ করদাতারা ক্ষতিগ্রস্ত হন।
আমদানি-রফতানিতে আন্ডার-ওভার ইনভয়েসিং নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মত দেন তিনি। আর বিগত সময়ে এটা না করতে পারাকে ব্যাংক ও কাস্টমসের সামষ্টিক ব্যর্থতা বলে মন্তব্য করে এনবিআর চেয়ারম্যান।
২৬ জুলাই, শনিবার রাজধানীর কাওরানবাজারস্থ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) ‘ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’ আয়োজিত ‘কর ব্যবস্থাপনায় সংস্কার’ নিয়ে অনুষ্ঠিত ছায়া সংসদে এমন মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বর্তমান যুগে পণ্যের দাম পৃথিবীর কোন প্রান্তে কত তা বোতাম টিপলেই জানা যায়। ঋণপত্র খোলার সময় ব্যাংকগুলো এবং কাস্টমস এই বিষয়টি পরীক্ষা ও যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে দাম সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারে। যদি প্রকৃত মূল্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি করা না হয়, তাহলে কমপ্লায়েন্ট প্রতিষ্ঠান ও প্রকৃত করদাতারা ক্ষতিগ্রস্ত হন।
প্রসঙ্গক্রমে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, শুধু রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে আলাদা বিভাগ করলেই রাজস্ব আহরণ বাড়বে না। এজন্য কর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। আর শুধু সংস্কার কমিটি করলেই হবে না। সংস্কারের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা না হলে রাজস্ব আহরণে সুফল আসবে না। পলিসি বাস্তবায়নে এনবিআরের ঘাটতি রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকলে কর ব্যবস্থাপনায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা কঠিন। এখন প্রধান উপদেষ্টাসহ সরকারের নীতি-নির্ধারকদের কাছ থেকে পূর্ণ স্বাধীনতা পাওয়ার কারণেই বিভিন্ন বোল্ড (সাহসী) সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
রাজস্ব আহরণে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মেশিনের ব্যবহার বাড়ানোর উপর জোর দিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, সম্প্রতি আমরা ডিজিটালি র্যানডম পদ্ধতিতে ১৫ হাজার ৪০০ ফাইল অডিটের জন্য বাছাই করেছি। এনবিআর এখন অটোমেশনের ওপর জোর দিচ্ছে। বাংলাদেশ ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডোতে অনলাইনে আবেদন করে এক ঘণ্টার কম সময়ে ৫ লাখের বেশি আবেদনকারী সেবা পেয়েছেন। গত বছর ১৭ দশমিক ১২ লাখ টিআইএনধারী অনলাইনে রিটার্ন সাবমিট করেছেন। এ বছর সবার জন্য অনলাইনে রিটার্ন সাবমিট বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহামেদ চৌধুরী কিরণের সঞ্চালনায় বিতর্ক অনুষ্ঠানে সংস্কারের পক্ষে সরকারি দল হিসেবে অংশ নেয় ‘গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’ এবং বিপক্ষে বিরোধী দল হিসেবে অংশ নেয় ‘চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজ’। বিচারকদের রায়ে সরকারি দল জয়লাভ করে।
সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, এনবিআর বিলুপ্ত করে করনীতি ও কর ব্যবস্থাপনা এই দুইভাগে বিভক্ত করা নিয়ে যে প্রতিবাদ হচ্ছিল আন্দোলনকারীরা তা বন্ধ করায় ভালো হয়েছে। রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যৌক্তিক দাবি থাকলে সরকার সেটা বিবেচনায় নেবে বলে আশা করছি। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে এনবিআরকে করনীতি ও কর ব্যবস্থাপনা দুভাগে বিভক্ত করলে সুফল পাওয়া যাবে।
তিনি আরো বলেন, এনবিআরের সংস্কারের ফলে রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তারা ভাবছেন এনবিআর দুই ভাগে বিভক্ত হলে তারা এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। একই সঙ্গে প্রশাসন ক্যাডারের আধিপত্য বাড়বে। তাই রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের আশঙ্কা দূরীকরণে এনবিআর বিভক্ত হলে প্রস্তাবিত বিভাগদ্বয়ের অর্গানোগ্রাম কেমন হবে তার ধারণা দেওয়া উচিত। তাছাড়া কর ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা, বৈষম্য, দুর্নীতি ও অন্যায্যতা বহাল রেখে রাজস্ব আহরণে ভালো ফল দেয় না। যা আমাদের কর ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান। সাধারণ করদাতা থেকে আরম্ভ করে উচ্চ করদাতা পর্যন্ত বেশিরভাগই কর আহরণকারীদের দ্বারা হয়রানির শিকার হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।







