নোবিপ্রবি:
ছাত্রী হলে পুরুষ স্টাফের তল্লাশিতে বিক্ষোভ; হল থেকে গাঁজা জব্দে ২ শিক্ষার্থী বহিষ্কার
পুরুষ কর্মচারীদের দিয়ে কক্ষে তল্লাশি চালানোর অভিযোগ এনে ১ জুলাই দিবাগত রাত সাড়ে ১১টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত বিক্ষোভ করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) হজরত বিবি খাদিজা হলের ছাত্রীরা। এছাড়াও আব্দুল মালেক উকিল হলের একটি কক্ষ থেকে গাঁজা জব্দ করে সংশ্লিষ্ট দুই শিক্ষার্থীকে তাৎক্ষণিক হল থেকে বহিষ্কার করেছে প্রশাসন। এসব ঘটনায় নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে থম থমে অবস্থা বিরাজ করছে।
জনাগেছে, সন্ধ্যায় ইলেকট্রনিক রান্না সামগ্রী উদ্ধারে তল্লাশি চালায় হল প্রশাসন। যেখানে ছাত্রীদের রুমে কোনও প্রকার অনুমতি ছাড়াই হলের পুরুষ স্টাফরা প্রবেশ করে। এ ঘটনায় হলে অবস্থানরত ছাত্রীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে হলে থাকা একাধিক ছাত্রী জানিয়েছেন, আমরা বুঝতেই পারিনি কী হচ্ছে। হঠাৎ কিছু পুরুষ স্টাফ আমাদের ফ্লোরে চলে আসে। আমরা ওড়না পড়ার ও সুযোগ পাই নাই এটা খুবই লজ্জাজনক এবং ভীতিকর ছিল।
এ বিষয়ৈ হল প্রভোস্ট আবদুল কাইয়ুম মাসুদ বলেছেন, গতকাল বিকেল থেকে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত ছাত্রী হলের শূন্য আসনের তালিকা তৈরি এবং রান্নার জন্য ব্যবহৃত অবৈধ বৈদ্যুতিক সামগ্রী উদ্ধারে হল প্রশাসন অভিযান চালায়। অভিযানের কারণে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত হল প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা হলে অবস্থান করেছেন। তখন পর্যন্ত কোনো ছাত্রীর কাছ থেকে অভিযোগ আসেনি। রাতে ছাত্রীরা বিভিন্ন দাবি নিয়ে আন্দোলন করেছেন। আর ছাত্রী হলে ছাত্রীদের কক্ষে কোনো পুরুষ কর্মচারী ঢোকার সুযোগ নেই। কেউ যদি ঢুকে থাকে, অবশ্যই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে সন্ধ্যা ৭টার দিকে নোবিপ্রবি আব্দুল মালেক উকিল হলের ২০৯ নম্বর কক্ষ থেকে তল্লাশি চালিয়ে দুইটি পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় গাঁজা জব্দ করা হয়েছে। এক আবাসিক শিক্ষার্থীর সিট সংক্রান্ত সমস্যাকে কেন্দ্র করে ওই কক্ষে গিয়ে এগুলো উদ্ধার করেছেন প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তসলীম মাহমুদ এবং সহকারী প্রভোস্টরা। পরে অভিযুক্তদের হল অফিসে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা জব্দ করা গাঁজা রাখার কথা স্বীকার করে। পরে তাদের কাছ থেকে লিখিত স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়। এরপর দোষী ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস (এমআইএস) বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের তানভীর সরকার ও উসাইং সি-কে বহিস্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।







