বিদেশে বাড়লেও ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন কমেছে দেশে
মার্চ মাসের তুলনায় এপ্রিল মাসে বাংলাদেশিদের বিদেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যয় বেড়েছে প্রায় ২৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ। তবে একইসমেয় দেশে লেনদেন কমেছে ১৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, দেশে ১১টি খাতে সবচেয়ে বেশি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার হয়ে থাকে, যার মধ্যে রয়েছে ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, ইউটিলিটি বিল, খুচরা কেনাকাটা, নগদ উত্তোলন, ফার্মেসি, অর্থ স্থানান্তর, পরিবহন, ব্যবসায়িক ও সরকারি সেবার বিল পরিশোধ। এসব খাতের বেশিরভাগেই এপ্রিল মাসে খরচ কমেছে। মার্চে যেখানে মোট লেনদেন ছিল ৩ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা, এপ্রিলে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৬ কোটি টাকায়।
বর্তমানে দেশে এবং বিদেশে ক্রেডিট কার্ড লেনদেনের ৭৫ শতাংশ সম্পন্ন হচ্ছে ভিসা কার্ডের মাধ্যমে। এরপর রয়েছে মাস্টারকার্ড (১৫ শতাংশ) এবং অ্যামেক্স (৯ শতাংশ)।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৬২টি তফসিলি ব্যাংক ও ৩৫টি এনবিএফআই’র মধ্যে ৫৬টি ব্যাংক ও মাত্র একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের জন্য ক্রেডিট কার্ড সেবা দিচ্ছে। তাদের তথ্যের ভিত্তিতেই প্রতিবেদনটি তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে এ প্রবণতা আরও বাড়তে পারে, যদি ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক না হয়। পাশাপাশি বিশ্বে বাংলাদেশি অভিবাসী, শিক্ষার্থী ও পর্যটকদের গন্তব্য বৈচিত্র্যময় হওয়ায় ক্রেডিট কার্ডের বৈদেশিক লেনদেন ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে।
অপরদিকে বিদেশে ভ্রমণ, চিকিৎসা ও শিক্ষাসহ নানা প্রয়োজনে বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ডে খরচ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়ার মতো দেশে। একসময় শীর্ষ অবস্থানে থাকা প্রতিবেশী দেশ ভারত এখন তালিকার ৬ নম্বরে নেমে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত ‘ক্রেডিট কার্ড লেনদেন প্রতিবেদন (এপ্রিল ২০২৫)’ অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশিদের বিদেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪৬৮ কোটি টাকায়। যা আগের মাস মার্চের (৩৬১ কোটি) তুলনায় প্রায় ২৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেশি। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ১৪৫ কোটি টাকা কম। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে এই ব্যয় ছিল ৫০৬ কোটি টাকা।
এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন হয়েছে ৬৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর আগে মার্চে এই খরচ ছিল ৫৭ কোটি ৪০ লাখ এবং ফেব্রুয়ারিতে ৫২ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে থাইল্যান্ড, যেখানে এপ্রিল মাসে খরচ হয়েছে ৪৭ কোটি টাকা। এরপর রয়েছে সিঙ্গাপুর (৪৫ কোটি ৬০ লাখ), যুক্তরাজ্য (৪৩ কোটি ৩০ লাখ) ও মালয়েশিয়া (৪৩ কোটি টাকা)।
আর একসময় শীর্ষে থাকা ভারতে এপ্রিলে বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ড খরচ কমে এসেছে মাত্র ৩১ কোটি টাকায়, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ কম। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে এ খরচ ছিল ৯৮ কোটি টাকা।







