৪৬তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ
প্রতিযোগিতায় এগিয়ে মফস্বল ও মেয়েরা!
রাজধানীর আগারগাঁওস্থ জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্সে বর্ণাঢ্য আয়োজন ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শেষ হয়েছে ৪৬তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিলো শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শনী, বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড, কুইজ, বিজ্ঞান নাটিকা সায়েন্স শো। অনুষ্ঠিত এ মেলায় ১৮০টি স্টলে উপস্থাপনকৃত নির্বাচিত প্রকল্পসমূহ পরিদর্শন করেন সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ।
সমাপনী দিনে ২০ জুন (শুক্রবার) বিজ্ঞান মেলার প্রকল্পে সিনিয়র, জুনিয়র ও বিশেষ গ্রুপে মোট ২৪ জন, বিজ্ঞানভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতায় ৯ জন এবং বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ১০জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিজয়ীদের প্রায় সবাই ঢাকার বাইরের প্রতিযোগী। গড় সফলাতায় এগিয়ে আছে মেয়েরা।
বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে ছোটদের গ্রুপে খুলনা জেলা স্কুলের শিক্ষার্থী খান রাফিউল ইসলাম লিয়ন প্রথম, ফরিদপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শুমাইয়া তাসনিম তিতলি দ্বিতী, শরিয়তপুরের পালং তুলাসার গুরুদাস সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের রাফিন আহমেদ তৃতীয়, পাবনা জিলা স্কুলের নাবিল হাসান চতুর্থ এবং কুমিল্লা জেলা স্কুলের রাজিন শাহরিয়ার পঞ্চম হয়েছেন।
বড়দের গ্রুপে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের তাসলিমা তাসনিম লামিয়া প্রথম, চট্টগ্রাম ক্যান্ডনমেন্ট পাবলিক কলেজের রাইসা ফাবিহা জান্নাত দ্বিতীয় এবং চাঁদপুরের লাউতলী ডা রশীদ আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী মেহেরিন নাজনিন পপি তৃতীয় হয়েছেন। এই ক্যাটাগরিতে চতুর্থ ও পঞ্চম হয়েছেন যথাক্রমে- বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের মোঃ সাকিবুর হাসান ও চাঁপাইনবাগঞ্জের নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল সাজিদ।
কুইজ প্রতিযোগিতায় নেত্রকণা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অর্নিশা সরকার সেঁজুতি, পর্ণ চক্রবর্তী ও ফাইজার জারিন প্রথম, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ সরকারি মডেল পাইলট হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের শেখ নূরজাহান আক্তার, আয়শা মাখনুন ও মোঃ আল আমিন দ্বিতীয় এবং খুলনা জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী খান রাফিউল ইসলাম লিয়ান, এস এম তাওহীদ রেজা আসিব এবং অর্ণব সাহা তৃতীয় হয়েছেন।
এবারের জাতীয় বিজ্ঞান সপ্তাহে প্রকল্প উপস্থাপনায় ছোটদের গ্রেপে মোট আটটি প্রকল্পকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। এই গ্রুপে প্রথম হয়েছে খুলনার জাহানাবাদ ইংলিশ স্কুলের শিক্ষার্থী শেখ সামিউল আলম তাজের ভয়েস কমান্ডে পরিচালিত স্মার্ট হোম অটোমেশন প্রকল্প। দ্বিতীয় হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মোঃ আব্দুস সিয়াম ও মোঃ নাফিস মাহফুজের নিরাপদে গাড়ি চালানোর সেইফ গার্ড এবং পিরোজপুর থেকে অংশ নেয়া রেনেবল সিটি হয়েছে তৃতীয়।
বড়দের গ্রুপে ময়মনসিংহের সরকারি আনন্দমোহন কলেজের মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল টিটু এবং শেখ আল আমিনের ফ্যাবস্যাট ২.০ প্রথম, গাইবান্ধার আহম্মদ উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আব্দুল্লাহ আল জোবায়ের ও জাহিন আব্দুল্লাহ দিগন্তের স্মার্ট ফার্টিলাইজিং দ্বিতীয় এবং গাজীপুর ক্যান্টঃ পাবলিক স্কুলের মোঃ ইমতিয়াজ আহমেদ নাহিদের প্রকল্প মাধ্যম তৃতীয় হয়েছে।
এছাড়াও ক্লাব পর্যায়ে নরসিংদী সায়েন্স অ্যান্ড রোবটিকস ক্লাবের মিসাইল সিস্টেম মেলিটিারি ড্রোন প্রথম। এই ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা আমিরুল ইসলাম এবং প্রধান নির্বাহী রাফি হোসাইন, আইকন আইটি সলিউশনের জুনাইদ আজিজ ফারুকির সিএনসি ড্রয়িং মেশিন দ্বিতীয় এবং বোসন সায়েন্স ক্লাবের জান্নাতুল ফেরদৌস সাগরের ইমপ্রুভড বিট রুট পাউডার তৃতীয় হয়েছে।
বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা থেকে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে ৭ শতাধিক প্রতিযোগী গত ৩ দিন ধরে কেন্দ্রীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। শিক্ষার্থী, তরুণ বিজ্ঞানী, উদ্ভাবক, শিক্ষক ও অভিভাবক মিলে প্রায় সহস্রাধিক অতিথির পদচারণায় মুখরিত ছিল জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্স ভবন।
সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জনাব আবু সাঈদ মো: কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ মোকাব্বির হোসেন বলেছেন, “বর্তমানের উন্নত বিশ্ব এবং আধুনিক জীবনব্যবস্থার মূলে রয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অবদান। আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এখন বিজ্ঞান চর্চা বাড়ছে এবং পূর্বের চেয়ে বর্তমানে তারা অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। এ আত্ববিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের সৃজনশীলতার পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারলে এ তরুণ প্রজন্মই বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় একসময় বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিবে। এক্ষেত্রে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা দিতে প্রস্তুত”।
৪৬তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং বিজ্ঞান মেলা ২০২৫ এর সার্বিক আয়োজন সম্পর্কে বিজ্ঞান জাদুঘরের পরিচালক ড. মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, “১৯৬৭ সালের ২৬ এপ্রিল থেকে প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ ৬০ বছরের পথ পরিক্রমায় বিজ্ঞান জাদুঘর সমগ্র দেশজুড়ে এর কার্যক্রমের বিস্তার ঘটিয়েছে। প্রতি বছর দেশের ৬৪টি জেলার তৃণমূল পর্যায় থেকে অর্থাৎ উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের আওতায় বিজ্ঞান মেলা, বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড, বিজ্ঞান বিষয়ক কুইজ ও নানাবিধ বিজ্ঞান বিষয়ক অনুষ্ঠান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে নিয়মিতভাবে বিজ্ঞান বিষয়ক সভা ও সেমিনারের আয়োজন করা হয়ে থাকে।”







