এবার শেরপুরে শপিং কমপ্লেক্সের স্ক্রিনে ভেসে উঠল ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’
শেরপুর পৌর টাউনহল সংলগ্ন ‘রাজ ক্রোকারিজ এন্ড গিফট শপ’র বিলবোর্ডের এলইডি স্ক্রিনে ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ লেখা ভেসে ওঠে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও কর্মচারীসহ দুইজনকে আটক করে পুলিশ দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা।
আটককৃতরা হলেন-প্রতিষ্ঠানটির মালিক সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের আব্দুল মালেকের ছেলে রাজু মিয়া এবং প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারী একই এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে কাউসার আহমেদ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৮ জানুয়ারি) রাত রাত সাড়ে আটটার দিকে হঠাৎ শপিং কমপ্লেক্সটির ডিজিটাল বোর্ডে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এবং জয় বাংলা স্লোগান ভেসে উঠা দেখেন স্থানীয়রা। পরবর্তীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং শেরপুর পৌর ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দসহ পথচারী ও স্থানীয়রা জড়ো হয়। ছাত্রলীগের স্লোগান ভেসে ওঠায় স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। এরপর প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও এক কর্মচারীকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা।
ঘটনাস্থলে থাকা শেরপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব খালিকুজ্জামান সিদ্দিকী আসিফ বলেন, নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্র সংগঠন ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’ প্রকাশ্যে বিচরণ করতে ভয় পায়। এজন্য তারা আত্মগোপনে থেকে বিভিন্ন ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছে। তার অংশ হিসেবেই গোপনে আঁতাত করে এমন কর্মকাণ্ড করেছে। এভাবে কাপুরুষের মতো রাজনীতি হয় না। রাজনীতি করতে হলে মাঠে আসতে হবে। আমরা শেরপুর পৌর ছাত্রদল নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্র সংগঠনকে প্রতিহত করতে প্রস্তুত।
জানতে চাইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শেরপুর জেলা কমিটির সংগঠক আরাফাত রহমান বলেন, নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্র সংগঠনের স্লোগান ডিজিটাল স্ক্রিনে চালানোর ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এটা অবশ্যই একটি পরিকল্পিত ঘটনা। ফ্যাসিবাদী যে চক্রটি ছাত্রদের ওপর নির্মমভাবে গুলি করেছে তারাই এই কাজটি করেছে। আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে শেরপুর সদর থানার ওসি মো. জুবায়দুল আলম বলেন, ‘আমি ঘটনাটি শুনে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ পাঠিয়েছি। জনতা দুইজনকে আটক করে পুলিশের হেফাজতে দিয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
এর আগে গত ২৮ অক্টোবর কমলাপুর রেলস্টেশনের প্রবেশপথের মনিটরে ‘আওয়ামী লীগ জিন্দাবাদ’ স্ক্রল উঠেছিল। সেই ঘটনার পর ডিসপ্লে বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং একজন অপারেটরকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।
এরপর গত ১৪ ডিসেম্বর খুলনা রেলস্টেশনে ‘শেখ হাসিনা আবার ফিরে আসবে’ এমন লেখা প্রদর্শন করা হয়েছিল।







