অব্যবহৃতই থাকছে বিএসিসিপিএলসি’র অর্ধেকের বেশি ব্যান্ডইউথ?

অব্যবহৃতই থাকছে বিএসিসিপিএলসি’র অর্ধেকের বেশি ব্যান্ডইউথ?
৫ মে, ২০২৬ ১৩:৫২  

দেশের ডিজিটাল সংযোগ ও নাগরিক সেবা আধুনিকায়নে একগুচ্ছ নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। তথ্যপ্রযুক্তির সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বিমানবন্দর ও রেলওয়ে স্টেশনে ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবা চালু করার পাশাপাশি ট্রেনের অভ্যন্তরীণ ইন্টারনেটে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পরীক্ষামূলকভাবে স্টারলিংক সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। দেশের সামগ্রিক ইন্টারনেট সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাবমেরিনে ৭২২০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ আমদানি করা হলেও ৩ হাজার ১২০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথই পড়ে রয়েছে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি’র (বিএসিসিপিএলসি)।

মন্ত্রণালয়ভিত্তিক সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি ও অর্জন বিষয়ে ৫ মে, মঙ্গলবার তথ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে প্রকাশ করা ৪ মে পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য থেকে এমনটাই জানাগেছে। 

ব্রিফিংয়ে চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনগুলো আয়োজন করতে ১০ মাস থেকে এক বছর সময় লাগবে। নির্বাচন শুরু হবে এ বছরের শেষের দিকে। কিছু প্রস্তুতির প্রয়োজন আছে সেটাও ইনফ্যাক্ট ওই মন্ত্রণালয় থেকে আগে জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা আবদাল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।  

ইন্টারনেট ও নেটওয়ার্ক অবকাঠামো:
দেশের ৫টি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর ও ৪টি রেলওয়ে স্টেশনে বর্তমানে ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার, ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-রাজশাহী রুটের ৪টি ট্রেনে পরীক্ষামূলকভাবে উচ্চগতির ‘স্টারলিংক’ ইন্টারনেট সেবা চালু হয়েছে। দেশের সামগ্রিক ইন্টারনেট সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসিসিপিএলসি) বড় ভূমিকা রাখছে; যার সক্ষমতা বর্তমানে বেড়ে ৭২২০ জিবিপিএস-এ দাঁড়িয়েছে। গ্রাম পর্যায়ে সংযোগ বাড়াতে টেলিটকের আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ৪০টি নতুন বিটিএস সাইট চালু করা হয়েছে এবং জেলা পর্যায়ে ৩,৮০২টি নতুন উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড (GPON) সংযোগ স্থাপিত হয়েছে। 

সূত্রমতে, বর্তমানে বিএসিসিপিএলসি ৪ হাজার ১০০জিবিপিএস ব্যবহৃত হচ্ছে। এই অংশটি বাংলাদেশে মোট চাহিদা বা ১০ জিবিপিএস এর ৪ শতাংশ। বাকি ৬০ শতাংশ ব্যান্ডউইথ প্রতিবেশী দেশ ভারতে থেকে স্থল পথে। সাশ্রয়ী মূল্যে গ্রাহক চাহিদা মেটাতে ইন্টারনেট সেবাদাতার এই পথেই বেশি ব্যান্ডউইথ আমদানিতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন।  

তবে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলের অভিমত, প্রতিষ্ঠানটি সিঙ্গাপুর দিয়ে রিয়েল ইন্টারনেট সরবারহ করেন। কিন্তু ভারত থেকে যে ইন্টারনেট আসে তা  হচ্ছে সিডিএন। বাংলাদেশেও গুগল, ফেসবুক ও আকামাই এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর ডেটাসেন্টার স্থাপন করা গেলে বাংলাদেশ ব্যান্ডউইথে স্বনির্ভরতা অর্জন করবে। 

এদিকে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, ক্লাউড ফার্সট প্রযুক্তির আওতায় ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাস স্থাপন করে সরকারি-বেসরকারি উভয় সেবাকে নিরাপদ, দ্রুত ও স্কেলযোগ্য ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। বাংলাদেশকে গুগল, ফেসবুক, অ্যামাজন ও মাইক্রেসফটের মতো প্রতিষ্ঠানের ‘এজ ডেটা সেন্টার হাব’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। 

ফুয়েল পাস সিস্টেমের আপডেট:
জ্বালানি ব্যবস্থাপনা ডিজিটালাইজেশনে ‘ফুয়েল পাস’ সিস্টেমে নতুন করে ‘ভ’ (BHA - ২০০০ সিসি উর্ধ্ব মোটরকার) এবং ‘চ’ (CHA - প্রাইভেট মাইক্রোবাস) সিরিজের গাড়ি নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত মোটরসাইকেলসহ মোট ৯টি সিরিজের গাড়ির জন্য এই প্ল্যাটফর্ম উন্মুক্ত করা হয়েছে এবং ৩ লক্ষাধিক গ্রাহক নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। ঢাকা মেট্রোর ১১১টি ফিলিং স্টেশনের সবগুলোই এখন ফুয়েল পাস অ্যাপের আওতায় এসেছে।

বাধ্যতামূলক ব্যবহারের নির্দেশনা:
সরকার ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার ৬৮টি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলে এবং ১৮টি স্টেশনে প্রাইভেট কারে জ্বালানি গ্রহণের ক্ষেত্রে ‘Fuel Pass’ অ্যাপের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে। এই উদ্যোগটি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুতই ঢাকা মেট্রোপলিটনের সকল ফিলিং স্টেশনে কার্যকর করা হবে। গ্রাহকদের নির্বিঘ্ন সেবা নিশ্চিতে নির্দিষ্ট স্টেশনে যাওয়ার আগে অ্যাপে নিবন্ধন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গণপরিবহন সংস্কার ও বৈদ্যুতিক বাসে শুল্ক ছাড়ের বড় উদ্যোগ: 

ঢাকা: রাজধানী ঢাকার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত স্মার্ট ব্যবস্থাপনা এবং 'বাস রুট রেশনালাইজেশন' প্রকল্পের কাজ জোরালোভাবে শুরু করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ঢাকার বর্তমান অসংখ্য বাস রুটকে অল্প কয়েকটি প্রধান রুটে বিন্যস্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মূলত জনভোগান্তি কমাতে এবং যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করতে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

জ্বালানি নির্ভরতা কমাতে এবং পরিবেশবান্ধব যাতায়াত নিশ্চিত করতে সরকার এবার বিদ্যুৎ চালিত বাস (EV) চালুর দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে। এই পরিকল্পনার প্রথম ধাপ হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য আমদানিকৃত বৈদ্যুতিক স্কুল বাসের শুল্ক শূন্যে নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন স্কুল বাসের সংখ্যা বাড়বে, অন্যদিকে তেলের ব্যবহার ও পরিবেশ দূষণ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে যাতায়াত আরও দ্রুত ও ঝামেলামুক্ত করতে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ETC) সিস্টেম চালু করা হয়েছে। আধুনিক এই প্রযুক্তির ফলে এক্সপ্রেসওয়ের গেটগুলোতে টোল প্রদানের জন্য আর দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হবে না; স্বয়ংক্রিয়ভাবেই টোল পরিশোধ সম্পন্ন হবে। ডিজিটাল পেমেন্ট ও স্মার্ট কানেক্টিভিটির এই মেলবন্ধন ঢাকার যানজট নিরসনে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

ডিবিটেক/এসএম,/ইকে