সবুজ প্রযুক্তি ব্যবহারে সবুজ কারখানার সনদ পেল আরও ৪ পোশাক কারখানা

৩ মে, ২০২৬ ১১:১৫  

তৈরি পোশাক খাতে সবুজ প্রযুক্তি, জ্বালানি দক্ষতা ও পরিবেশগতভাবে টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা নিশ্চিত করায় বাংলাদেশের আরও চারটি পোশাক কারখানাকে পরিবেশবান্ধব ‘সবুজ কারখানা’র স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনাইটেড স্টেটস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি)।

এ নিয়ে দেশে সবুজ কারখানার সনদ পাওয়া মোট পোশাক কারখানার সংখ্যা দাঁড়াল ২৮৪টিতে। এর মধ্যে ‘প্লাটিনাম’ মানের কারখানা ১২১টি এবং গোল্ড মানের ১৪৪টি। অর্থাৎ বাংলাদেশের এই কারখানাগুলো সর্বোচ্চ মানের পরিবেশবান্ধব কারখানার শর্ত পূরণ করতে পারছে।

বাকি ১৯টি কারখানার মধ্যে ‘সিলভার’ সনদপ্রাপ্ত কারখানা ১৫টি এবং সার্টিফায়েড সনদপ্রাপ্ত কারখানা চারটি।

এখন বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি সর্বোচ্চ রেটিংপ্রাপ্ত সবুজ কারখানার মধ্যে ৫২টিই বাংলাদেশের।

পরিবেশবান্ধব সনদ পাওয়া নতুন কারখানা চারটি হল—চট্টগ্রামের পাহাড়তলী টেক্সটাইলস লিমিটেড, ইউনিট-২, গাজীপুরের ওয়েলডান অ্যাপারেল লিমিটেড, সাভারের এভারব্রাইট সোয়েটার লিমিটেড এবং গাজীপুরের সিয়াম কম্পিউটারাইজড ইলাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

পাহাড়তলী টেক্সটাইলস লিমিটেড, ইউনিট-২ ৮৬ নম্বর পেয়ে প্ল্যাটিনাম সনদ অর্জন করেছে। এভারব্রাইট সোয়েটার ৮৩ নম্বর পেয়ে প্ল্যাটিনাম সনদ পেয়েছে। সিয়াম কম্পিউটারাইজড ইলাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ প্ল্যাটিনাম সনদ অর্জন করেছে ৮৪ নম্বর পেয়ে। এছাড়া ওয়েলডান অ্যাপারেল ৭৫ নম্বর পেয়ে গোল্ড সনদ অর্জন করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) থেকে এই পরিবেশবান্ধব সনদ পেয়েছে এই চার কারখানা। 

পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তা সাজ্জাদুর রহমান মৃধার হাত ধরে ২০১২ সালে প্রথম পরিবেশবান্ধব কারখানার যাত্রা শুরু হয় বাংলাদেশে। পাবনার ঈশ্বরদী ইপিজেডে তিনি স্থাপন করেন ভিনটেজ ডেনিম স্টুডিও। তার দেখানো পথ ধরেই দেশে একটার পর একটা পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানা গড়ে উঠছে। উজ্জ্বল হচ্ছে দেশের ভাবমূর্তি।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসের পর পরিবেশবান্ধব সবুজ কারখানা স্থাপনে আগ্রহী হয়ে ওঠেন দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা। ২০১৪ সালে সবুজ কারখানা স্থাপন করা হয় তিনটি। ২০১৫ সালে হয় ১১টি। ২০১৬, ২০১৭ এবং ২০১৮ সালে স্থাপন করা হয় যথাক্রমে ১৬, ১৮ ও ২৪টি।

২০১৯ সালে আরও ২৮টি সবুজ পোশাক কারখানা স্থাপন করেন পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা। ২০২০ ও ২০২১ সালে ২৪টি করে আরও ৪৮টি কারখানা গড়ে উঠেছে দেশে।

২০২২ সালে আরও ৩০টি সবুজ পোশাক কারখানা স্থাপন করেন পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা। ২০২৩ সালে ২৪টি ‘গ্রিন’ কারখানা গড়ে ওঠে দেশে। ২০২৪ সালে আরও ২৬টি সবুজ পোশাক কারখানা স্থাপন করেন উদ্যোক্তারা।

২০২৫ সালে সবুজ কারখানার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হয় দেশের সর্বোচ্চ সংখ্যক ৩৮টি কারখানা।

আর এভাবেই সব মিলিয়ে দেশে মোট পরিবেশবান্ধব সবুজ পোশাক কারখানার সংখ্যা এখন ২৮৪টিতে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া ৫০০টি পোশাক কারখানা পরিবেশবান্ধব সবুজ কারখানার সনদ পেতে ইউএসজিবিসির অধীনে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মহিউদ্দিন রুবেল।

সাধারণত অন্যান্য স্থাপনার চেয়ে পরিবেশবান্ধব স্থাপনায় ৫-২০ শতাংশ খরচ বেশি হয়। তবে বাড়তি খরচ করলেও দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে পরিবেশবান্ধব স্থাপনায় ২৪-৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ, ৩৩-৩৯ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ এবং ৪০ শতাংশ পানি ব্যবহার কমানো সম্ভব হয়।
ডিবিটেক/বিজেও/ইকে