টয়লেট থেকে টেকনোলজি: র্যাম সংকটে ত্রাতা হয়ে আসছে জাপানি ‘টোটো’
যারা মনে করেন একটি কোম্পানিকে কেবল তাদের মূল পণ্য নিয়ে পড়ে থাকা উচিত, তাদের ধারণা বদলে দিতে পারে জাপানি প্রতিষ্ঠান ‘টোটো’। বিশ্বজুড়ে উন্নত মানের বিডেট বা ‘ওয়াশলেট’ টয়লেটের জন্য বিখ্যাত এই কোম্পানিটি এখন বিশ্ববাজারের র্যাম বা মেমোরি চিপ সংকটে বড় ভূমিকা রাখছে। অবাক করার মতো বিষয় হলেও সত্য যে, মেমোরি চিপ তৈরির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি যন্ত্রাংশ সরবরাহের মাধ্যমে টোটো তাদের আয়ের বড় অংশ অর্জন করছে।
শুক্রবার (১ মে) এনগ্যাজেটের এক প্রতিবেদনে এই চমকপ্রদ তথ্য জানানো হয়েছে।
টয়লেট কোম্পানির হাতে মেমোরি চিপের চাবিকাঠি?
টোটোর একটি ‘অ্যাডভান্সড সিরামিকস’ বিভাগ রয়েছে, যারা ন্যান্ড মেমোরি চিপ তৈরিতে ব্যবহৃত বিশেষ যন্ত্রাংশ উৎপাদন করে।
ই-চাকস: টোটো বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ‘ইলেক্ট্রোস্ট্যাটিক চাকস’ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। এটি চিপ তৈরির সময় সিলিকন ওয়েফারগুলোকে স্থির রাখতে ব্যবহৃত হয়।
মুনাফা: চলতি বছরে টোটোর সিরামিকস বিভাগের আয় গত বছরের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেড়েছে। মজার ব্যাপার হলো, কোম্পানিটির মোট ৩৪ কোটি ৩৫ লাখ ডলার অপারেটিং প্রফিটের ৫৫ শতাংশই এসেছে এই সিরামিকস বিভাগ থেকে—টয়লেট বিক্রি থেকে নয়!
বিনিয়োগ: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চিপের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে টোটো আগামী অর্থবছরে আরও ১৯ কোটি ২০ লাখ ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।
জাপানের অন্যান্য ‘অপ্রত্যাশিত’ টেক জায়ান্ট
টোটো একা নয়, জাপানের আরও কিছু বিচিত্র কোম্পানি বর্তমানে সেমিকন্ডাক্টর খাতে দাপট দেখাচ্ছে:
কাও: মূলত প্রসাধনী তৈরির জন্য পরিচিত হলেও তাদের একটি বিভাগ সেমিকন্ডাক্টর পরিষ্কার করার বিশেষ এজেন্ট তৈরি করছে।
আজিনোমোটো: বিশ্বখ্যাত এই টেস্টিং সল্ট বা এমএসজি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি মাদারবোর্ডে ব্যবহৃত বিশেষ ‘ইনসুলেটিং ফিল্ম’ তৈরিতে প্রায় ১৬ কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে।
এআই বিপ্লব ও নতুন সম্ভাবনা
এনভিডিয়ার মতো বড় চিপ নির্মাতাদের হাত ধরে যে এআই জোয়ার শুরু হয়েছে, তা এখন টোটো বা আজিনোমোটোর মতো অপ্রাসঙ্গিক মনে হওয়া কোম্পানিগুলোকেও বদলে দিচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এআই খাতের এই অতিরিক্ত বাড়বাড়ন্ত যদি ‘বাবল’ বা বুদবুদে পরিণত হয়, তবে এই কোম্পানিগুলোও বড় ধরনের অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
আপাতত মেমোরি চিপের বৈশ্বিক সংকট কাটাতে জাপানি এই ‘টয়লেট মাস্টার’ কোম্পানিটি যে বড় ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: এনগ্যাজেট



