বাংলাদেশে সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে দেশের প্রথম ক্রাউডসোর্সড বাগ বাউন্টি (Bug Bounty) ও ভালনারেবিলিটি ডিসক্লোজার (VDP) প্ল্যাটফর্ম ‘জিরো-ডে টেস্ট’ (ZeroDay Test)। একটি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ১ মে, শনিবার রাতে প্ল্যাটফর্মটির উদ্বোধন করা হয়, যেখানে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, আইটি বিশেষজ্ঞ, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং বিনিয়োগকারীরা অংশগ্রহণ করেন।
আইএসও ২৭০০১ (ISO 27001) স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বাইট ক্যাপসুল আইটি-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই প্ল্যাটফর্মটি মূলত দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে। বর্তমান সময়ে সাইবার হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় এককালীন নিরাপত্তা পরীক্ষার পরিবর্তে এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সারা বছর ধরে যাচাইকৃত এথিক্যাল হ্যাকারদের সহায়তায় ডিজিটাল অবকাঠামো তদারকি করা সম্ভব হবে. জিরো-ডে টেস্ট-এ এথিক্যাল হ্যাকাররা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট বা অ্যাপ্লিকেশনের ত্রুটি খুঁজে বের করবেন এবং তার বিনিময়ে তাদের পুরস্কৃত করা হবে।
প্ল্যাটফর্মটির কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিস্তারিত তুলে ধরেন এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী সাকিব হক জিসান. তিনি জানান, জিরো-ডে টেস্ট আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পরিচালিত একটি পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেম, যেখানে একটি দক্ষ ট্রায়াজার (Triage) টিম হ্যাকারদের জমা দেওয়া রিপোর্টগুলো যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছে দেবে. এছাড়া ডাটা নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষায় বাংলাদেশের প্রচলিত সাইবার আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী শক্তিশালী এনডিএ (NDA) এবং ট্রাস্ট পলিসি যুক্ত করা হয়েছে, যা ব্যবহারকারীর তথ্যের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।
আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে জানানো হয় যে, হ্যাকার বা গবেষকদের প্রাপ্ত পুরস্কার বা বাউন্টি থেকে কোনো অর্থ কাটা হবে না। পরিবর্তে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত পুরস্কারের ওপর অতিরিক্ত ১৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জ প্ল্যাটফর্মকে প্রদান করবে. এটি মূলত একটি বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্ম হলেও এর মাধ্যমে দেশীয় সাইবার নিরাপত্তা কর্মীদের আয়ের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি করপোরেট খাতের সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে এটি প্রাথমিক পর্যায়ে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে এবং আগামী বছর থেকে দেশজুড়ে বাগ হান্টিং প্রতিযোগিতা ও দক্ষতা উন্নয়নের নানা উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে. সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, স্থানীয় মেধাকে কাজে লাগিয়ে এই প্ল্যাটফর্মটি বাংলাদেশের ডিজিটাল ভবিষ্যৎকে আরও নিরাপদ করে তুলবে।
ডিবিটেক/এনএ/ইকে