শিক্ষার গণতন্ত্রীকরণে প্রযুক্তির শক্তির সঙ্গে পরিচয় করালেন সালমান খান
শিক্ষার গণতন্ত্রীকরণে প্রযুক্তির রূপান্তরকারী শক্তির গুরুত্ব তুলে ধরলেন অনলাইনভিত্তিক অলাভজনক শিক্ষামূলক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম খান একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সালমান খান । 'শ্রেণিকক্ষ থেকে ক্যারিয়ার: বাংলাদেশের ভবিষ্যতকে সমৃদ্ধিকরণ' শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি বললেন, শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা দেওয়ার সুযোগ এবং শিক্ষকদের স্বাধীনতা ও উপকরণ দিলে শিক্ষায় আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব।
পডকাস্টে শিক্ষাক্ষেত্রে এআইয়ের ঝুঁকি, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সালমান খান জানান, এআইনির্ভর টুল প্রচলিত শিক্ষাপদ্ধতির তুলনায় শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি পূরণে কার্যকর হতে পারে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় মানসম্পন্ন শিক্ষকের অভাব রয়েছে, সেখানে এআই শিক্ষার্থীদের বড় ধরনের সহায়তা করতে পারে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ব্যক্তিগত শিক্ষকের সুবিধা ভোগ করেছে কেবল সচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরা। এআই সে বৈষম্য দূর করতে পারে। মানসম্পন্ন ব্যক্তিগত শিক্ষকের সহায়তা যদি সবার কাছে পৌঁছানো যায়, তাহলে দীর্ঘদিনের শিক্ষাগত বৈষম্য অনেকটাই কমে আসবে।
বুধবার ২২ অক্টোবর রাজধানীর একটি হোটেলে সাজেদা ফাউন্ডেশন আয়োজিত এই সেমিনারে দেশে আরও উৎপাদনশীল কর্মশক্তি গড়ে তোলা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো এবং মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যকার ব্যবধান দূর করার জন্য সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান খাত সংশ্লিষ্টরা।
সভাপতির বক্তেব্যে সাজেদা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক কূটনীতিক ফারুক সোবহান বলেন, শুধুমাত্র শিক্ষার নিম্নমানের কারণে বাংলাদেশ অনেক দেশের চেয়ে পিছিয়ে পড়েছে অথচ একসময় সেসব দেশের অর্থনীতি বাংলাদেশের তুলনায় দুর্বল ছিল।
তিনি আরও বলেন, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনাম-এশিয়ার এই চারটি দেশ একসময় বাংলাদেশের পেছনে ছিল, এখন সবাই এগিয়ে গেছে। এর মূল কারণ তাদের মানসম্মত ও সমান সুযোগসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা। বাংলাদেশেও এটি সম্ভব, তবে এজন্য আমাদের মানসিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে।
সাজেদা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাহিদা ফিজ্জা কবির বলেন, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠী নিয়ে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। এই জনশক্তিকে দক্ষতা ও মানসিকতা দিয়ে প্রস্তুত করতে না পারলে, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড (জনমিতি লভ্যাংশ) আমাদের বোঝায় পরিণত হতে পারে।
সাজেদা ফাউন্ডেশনের শিক্ষা বিভাগের স্ট্র্যাটেজি লিড আজওয়া নাঈম বলেন, শিক্ষকেরা এখন তথ্যভিত্তিক পদ্ধতিতে শিক্ষাদান করছেন, যা শিক্ষার্থীর শেখার মানে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
গোলটেবিল আলোচনায় ৩১টি পাইলট স্কুল ও ৫ হাজার ৩৪২ শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত খান একাডেমির একটি পাইলট প্রকল্পের অগ্রগতি উপস্থাপন করা হয়। এতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের শেখার দক্ষতা বেড়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশনের নির্বাহী পরিচালক এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী, ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সোহেল আর কে হুসেইন, গ্রিন ডেলটা ইনস্যুরেন্সের এমডি ফারজানা চৌধুরী, প্রাইম ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) নাজিম চৌধুরী, আইডিএলসি ফাইন্যান্সের অতিরিক্ত এমডি আসিফ সাদ বিন শামস, কমার্শিয়াল ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাজিথ মিওয়ানেজ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাদিয়া রশিদ, খান একাডেমির ব্যবস্থাপক এমিলি গোল্ডম্যান, কাজী ফার্মসের পরিচালক জাহিন হাসান, নেসলের মানবসম্পদ পরিচালক হোসনে আরা লোমা, সরকারের এলএআইএসই প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক শিপন কুমার দাস, আগামী এডুটেকের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর দিলরুবা চৌধুরী, আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচেম) নির্বাহী পরিচালক চৌধুরী মোহাম্মদ রিয়াদ এবং সাজিদা ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা শেহজাদ মুনিম ও ডেপুটি সিইও মো. ফজলুল হক।
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, তরুণ প্রজন্ম যাতে শুধু জ্ঞান নিয়েই নয়, বরং দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে কর্মজগতে প্রবেশ করতে পারে। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যকার ব্যবধান দূর করতে কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা জরুরি। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি খাত থেকে উদ্ভাবনী তহবিল এবং আনুষঙ্গিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।



