‘বঙ্গবন্ধু বিশ্বের সকল নিপীড়িত-নিগৃহিত মানুষের মুক্তির প্রতীক’

১২ নভেম্বর, ২০২১ ২৩:২৫  
বিশ্ব প্রযুক্তির অলিম্পিক ডব্লিউসিআইটিতে নানা মাত্রিকতায় উদযাপন করা হলো জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী।  বর্তমান প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধুর দর্শনের বাস্তবতা ও প্রতিপালনে বর্ণনায় তাকে স্মরণ; শ্রদ্ধা নিবেদন আর সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় নতুন প্রজন্মের মাঝে তা সঞ্চারের মাধ্যমে পালিত হলো ব্যতিক্রমী এই আয়াজন। শুক্রবার রাতে আয়োজনের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক ডাক্তার আব্দুল মান্নান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান এ কে এম রহমতুল্লাহ। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে চলা মানুষেকে হত্যা করা যায়, কিন্তু তার স্বপ্ন ও দর্শনকে দাবিয়ে দেয়া যায় না’ মন্তব্য করে তিনি বলেন,  আজকে তারই উত্তরসূরি দেশত্ন শেখ হাসিনা একটি সুখী সমৃদ্ধ এবং জ্ঞান ভিত্তিক ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি ঘোষণা দেন।  ঘোষণায় বলা হয় ২০২১ সালে স্বাধীনতা ৫০ বছরে বাংলাদেশ পরিণত হবে  ডিজিটাল বাংলাদেশে। ২০২১ সালের এই দিনে আজ আমরা বলতে পারি বাংলাদেশ আজ একটি সুন্দর ডিজিটাল বাংলাদেশ। কাজেই একসময় যারা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেছে, তারা আজ চুপ হয়ে গেছে। ডিজটাল বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, ইনশাআল্লাহ এগিয়ে যাবে। ’ তিনি আরো বলেন,  বঙ্গবন্ধু কেবল দল, রাষ্ট্র বা জাতীয় কাঠামোতে সীমিত নন, তিনি সকল নিপীড়িত-নিগৃহিত মানুষের মুক্তির প্রতীক। তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তার নেতৃত্ব বিশ্বে অনুকরণীয়। আর  ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা, ২০৪১ সাল নাগাদ একটি জ্ঞান ভিত্তিক উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে ইনশাআল্লাহ। আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে  বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন লিবারেশন ওয়ার মিউজিয়ামের সহ প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি মফিদুল হক। উপস্থিত ছিলেন সোমালিয়ার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী আবদে শেখ আহমেদ এবং মালদ্বীপের পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রী মোহাম্মাদ শরিফ। অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, চীনের প্রধানমন্ত্রী শি জিনপিং,জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইউসিজিদে সুগা, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি সোনিয়া গান্ধী, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার আধুনিক রূপ উল্লেখ করে পলক বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ আর রূপকল্প নয়। বাস্তবতা। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল এখন মোবাইল নেটওয়ার্কের অধীন। ১৭ কোটি মোবাইল ব্যবহারকারীর ১২ কাটি মানুষ ইন্টারনেটে যুক্ত। ৩৮০০ ইউনিয়নে পৌঁছেছে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট। কোনো অর্থ ব্যয় না করে দেশের প্রকৌশলীদের মাধ্যমে তৈরি সুরক্ষা অ্যাপে ৭ কোটি মানুষ নিবন্ধন করে কোভিড টিকা নেয়ার জন্য নাম নিবন্ধন করেছেন। দ্রারিদ্র সীমার নিচের অবস্থান করা মানুষের সংখ্যা ৪২ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। মাথাপিছু আয় এক দশক ব্যবধানে তিন গুণ বেড়েছে। এভাবেই ডিজিটাল রূপান্তরে আর্থ-সমাজিক অবস্থার উন্নতি ঘটেছে। অডিও ভিজ্যুয়ালে তুলে ধরা হয় বঙ্গবন্ধুর জীবন-কর্ম-কীর্তি। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে কোরিও ক্যাফিক নৃত্য, শব্দ দ্যোতনা আরো আলোক বিচ্ছুরণে উপস্থাপন করা হয় মহাকালের তর্জনী। স্বাধীনতার ডাক থেকে বিজয় অর্জন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর অদমিত অবস্থান ফুটিয়ে তোলা হয় এই কোরিয়গ্রাফিতে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইসিটি বিভাগের সচিব এন এম জিয়াউল আলম ও বিসিএস সভাপতি শাহিদ উল মুনির।