স্টারলিংক হবে সাধারণের নাগালের বাইরে!

১৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:৪৭  

'বাংলাদেশে নন-জিওস্টেশনারি অরবিট (এনজিএসও) স্যাটেলাইট’ এর খসড়া নির্দেশিকায় বিদেশি স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাইসেন্সের অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এই রেগুলেটরি ও লাইসেন্সিং গাইডলাইনসের বদৌলতে বাংলাদেশে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা দেওয়ার পথ খুলছে ইলন মাস্কের স্টারলিংকসহ এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর। অপরদিকে স্টারলিংকের বাংলাদেশে অপারেশন শুরুর প্রস্তুতিতে বেশ আগ্রহী বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। তার মতে, কমিউনিটি ব্যবহারের জন্য আমরা স্টারলিংকের মতো ডিভাইস ব্যবহার করতে পারি। কুড়িগ্রামের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলেরর প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে স্টারলিংক রাউটারে যুক্ত হলে সেখানে তরুণরা সহজেই ফ্রিল্যান্সর হতে পারবে।

তবে বাস্তবে এমন স্বপ্নও হতে পারে অলীক। অলির মতোই সেবা নেয়ার পর গ্রাহককে হুল ফোঁটাতে পারে স্টারলিংকও। কেননা, এই স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের মানে বাধ সাধতে পারে প্রকৃতিক ও মানবিক কিছু বাধা। এই যেমন ঘনমেঘ, বিস্তৃ গাছের সারি কিংবা ইথারে বাধা সৃষ্টিকারী বস্তুর সমারোহ ব্লক করে দিতে পারে ডিশ সিগন্যাল। ভারী বৃষ্টি, দমকা বাতাসে এই ইন্টারনেটের গতি ধীর করে দেয়। এমনটি আউটেজেরও ঝুঁকি থাকে।

এছাড়াও স্টারলিংকের রাউটারগুলো যদি কাছা-কাছি থাকে কিংবা কোনো বস্তু দিয়ে ঢাকা থাকে তবে সিগন্যাল ধপাস হতে সময় নেয় না। ত্রুটিযুক্ত কিংবা সেকেলে কোনো ডিভাইস ব্যবহার করলেও দ্রুত ইন্টারনেটের গতি মেলা ভার। একইভাবে নেট শেয়ারে পিয়ার টু পিয়ারেও গতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আবার ডিভাইসে ম্যালওয়্যারও ব্যান্ডউইথে ভাগ বসায়। পিকআওয়ারে ব্যান্ডউইথের টুটি চেপে ধরতে পারে ইন্টারনেট সেবাদাতারা। স্টারলিংক প্লানের সঙ্গে না গেলে অনেক কাজই করা যাবে না এই ইন্টারনেট সংযোগে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো মোবাইল সার্ভিসে স্টারলিংক ইন্টারনেট ব্যবহার মোটেই সুখকর নয়।

এমন দুরবস্থার শিকার হলে স্বভাবতই গ্রাহককে তার চুল ছিঁড়তে ইচ্ছে হবে। এমন পরিস্থিতিতে করণীয় নিয়ে ব্যবহারের আগেই কিছু টোটকা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ব্যবহারের আগেই যেখান থেকে ব্যবহার করবেন সেখানে স্টারলিংক অ্যাপটি কাজ করছে কি না তা চেক করতে হবে। রাউটার ও স্টারলিংবের পাওয়ার সাইকেল করতে হবে। ডিভাইসে তৃতীয় পক্ষের কোনো হার্ডওয়্যার সংযুক্ত থাকলে তা বিদায় করতে হবে।

স্বাচ্ছন্দ্যে এই সংযোগ ব্যবহার করতে হলে অবশ্যই কঠীন কোনো বস্তু, ফ্লুরোসেন্ট লাইট এবং অন্যান্য ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক এগিয়ে চলতে হবে। বাধা সৃষ্টি করতে পারে এমন স্থান থেকে ২০ ফুট দূরত্বে রাউটার স্থাপন করতে হবে। ব্যবহৃত ডিভাইসকে ২.৪ গিগাহার্জ ব্যান্ডে সমর্থিত হবে। মেশ মোডে রাউটারকে ক্যাবেলে সংযুক্ত করতে হবে। এক্ষেত্রে ক্যাট৬ ইথারনেট ক্যাবল ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ। সর্বোপরি ডিশটি কিছুটা এদিক-ওদিক ঘুরিয়ে দেখতে হবে কোনো পজিশনে ভালো ফল দিচ্ছে।

এসব বিষয়ে আগে থেকেই সচেতন না থাকলে আমাদের আকাশ-বাতাসের ইন্টারনেট কল্পনার পরীর ডানা কেটে আকাশ-পাতাল স্বপ্ন ভঙ্গে রূপ নিতে পারে।

কেননা, স্টারলিংকের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়, এই প্রতিষ্ঠানের সেবা বাসায় নিতে প্রতিমাসে প্রায় ১২০ ডলার দিতে হবে। প্রাথমিকভাবে ৩৫০ থেকে ৫৯৯ ডলার খরচ করতে হবে বিভিন্ন হার্ডওয়্যার স্থাপন করতে। অথচ বাংলাদেশের স্থানীয় ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারীরা প্রতি মাসে ৫০০ টাকায় পাঁচ এমবিপিএস গতির ব্রডব্যান্ড সেবা দিয়ে থাকে। মোবাইল ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে ৩০ জিবি ডেটার জন্য খরচ হয় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা (প্রায় চার ডলার)।