মোবাইল-ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন উপকূলীয় এলাকা
প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘রিমাল’ তাণ্ডবে উপকূলীয় বিভিন্ন অঞ্চলে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গ্রাহকদের পাশে থাকতে মোবাইল অপারেটরগুলো আগে থেকেই ফ্রিনিট, এমার্জেন্সি ব্যালান্স সেবা এবং অ্যাপে আবহওয়ার আপডেট দিলেও কিন্তু বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং পাওয়ার ব্যাকআপ শেষ হওয়ায় রোববার রাত থেকে সেই সুযোগ নিতে পারছেন না গ্রাহকরা। কেননা, সোমবার বেলা বাড়ার আগেই দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বেশিরভাগ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানকারীরা মোবাইল যোগাযোগ নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।
মোবাইল, ইন্টারনেট কোনো মাধ্যমেই দুর্যোগের মুহূর্তে ফোনে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না উপকূলীয় অধিবাসীরা। সূত্রমতে, ওইসব এলাকার বেশ কয়েকটি সাইট (টাওয়ার) অচল হয়ে গেছে। একইভাবে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতাদের দুই শতাধিক পপ ডাউন রয়েছে। সবমিলিয়ে ডিজিটাল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে দেশের উপকূলীয় এলকাগুলো। জানাগেছে, প্রতিটি সাইটে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার ব্যাটারি ব্যাকআপ থাকে জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্যে। কিছু সাইটে জেনারটরও রাখা হয়। তবে ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে শনিবার সন্ধ্যা থেকেই দক্ষিণাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় বিশেষ ব্যবস্থাতেও নেটওয়ার্ক সচল রাখা যায়নি।
সবচেয়ে বেশি গ্রাহক নিয়ে সেবা দেয়া মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন জানিয়েছে, তারা দ্রুত সংযোগের আওতায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। অগ্রসরমান অপারেটর রবি জানিয়েছে, কিছু কিছু জায়গায় সমস্যা হলেও তার তাৎক্ষণিক সমাধানে মাঠ পর্যায়ে তৎপরতায় কোনো ঘাটতি নেই। তবে রাষ্ট্রায়ত্ব মোবাইল অপারেটর টেলিটক এবং বাংলালিংক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ নিয়ে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে গ্রামীণফোনের হেড অব কমিউনিকেশনস শারফুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রাখছি, সম্মিলিতভাবে কাজ করছি। এরই মধ্যে একটি ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম ও কন্ট্রোল রুম গঠন করা হয়েছে। সংযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকা দ্রুত সংযোগের আওতায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি।
রবি’র কমিউনিকেশন বিভাগ জানিয়েছে তারা ঘূর্ণিঝড় ‘রিমাল’ এর সময়ে গ্রাহকদের জন্য ফ্রি মিনিট এমার্জেন্সি ব্যালান্স এবং অ্যাপে ঘুর্ণিঝড়ের আপডেট দিচ্ছে। ঝড় চলমান থাকায় নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্নতা এবং ক্ষতির বিষয়টি এখনই বলা সম্ভব হচ্ছে না।
ক্যাবল কাটা পড়া ও বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উপকূলীয় এলাকার মধ্যে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর এলাকা পুরোপুরি ব্রডব্যান্ড সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন আইএসপিএবি সভাপতি ইমদাদুল হক। তিনি জানিয়েছেন, দুর্যোগের কারণে ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চলের ৯০ শতাংশ ব্রডব্যান্ড সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে ৬-৭ লাখ গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়েছেন। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী জোয়ার ও ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আগ পর্যন্ত সংযোগ পুণঃস্থাপন সম্ভব নয়।
এমন পরিস্থিতিতে মোবাইল গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বিটিএস সমূহের পাওয়ার ব্যাকআপের জন্য বিকল্প জেনারেটর চালু করা জরুরী। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী নিকট আত্মীয় এবং সরকারি সহায়তাকারী সংস্থা সমূহের সাথে যোগাযোগ করতে পারছে না। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসির জরুরী হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।
এদিকে সংযোগ সচল রাখতে সম্ভব সব ধরণের পদক্ষেপ নিতে অপারেটরদে তৎপর থাকার নির্দেশনা দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। ঘুর্ণিঝড়ে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক কেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাণ্ডব শেষে সে ব্যাপারে জানাবে সংস্থাটি।







