৩৭ কোটি ডলারের জরিমানাতেও রক্ষা নেই: মেটার ব্যবসায় বড় পরিবর্তনের দাবি

৩৭ কোটি ডলারের জরিমানাতেও রক্ষা নেই: মেটার ব্যবসায় বড় পরিবর্তনের দাবি
৪ মে, ২০২৬ ২০:০০  

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিকানা প্রতিষ্ঠান মেটার জন্য আইনি লড়াইয়ের পথ আরও কঠিন হয়ে উঠছে। শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে মেটার বিরুদ্ধে যে মামলা চলছিল, তার দ্বিতীয় ধাপ সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে। প্রথম ধাপে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ (৩৭৫ মিলিয়ন) ডলার জরিমানা গুনা মেটা এখন আরও বড় ঝুঁকির মুখে। এবারের লড়াইটি মূলত অর্থ নিয়ে নয়, বরং মেটা কীভাবে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করবে—তা বদলে দেওয়া নিয়ে।

নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেজ আদালতের কাছে দাবি তুলেছেন যেন বিচারক মেটাকে নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসায়িক ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনতে বাধ্য করেন। এই তিন সপ্তাহের জন-উপদ্রব সংক্রান্ত বিচারে মেটার ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের ওপর বড় ধরনের বিধিনিষেধ আসতে পারে।

অ্যাটর্নি জেনারেলের কড়া দাবিগুলো
অ্যাটর্নি জেনারেল তোরেজ আদালতের কাছে যেসব পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, নিউ মেক্সিকোর ব্যবহারকারীদের জন্য কঠোরভাবে বয়স যাচাই করার ব্যবস্থা রাখা। এছাড়া ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য মেসেজিং অ্যাপে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন (গোপন বার্তা আদান-প্রদান প্রযুক্তি) নিষিদ্ধ করা।

কিশোর-কিশোরীদের জন্য মাসে ব্যবহারের সময় সর্বোচ্চ ৯০ ঘণ্টা নির্ধারণ করার পাশাপাশি ‘ইনফিনিটি স্ক্রল’ (সীমাহীন স্ক্রলিং) এবং ভিডিও ‘অটোপ্লে’-এর মতো ফিচারগুলো সীমিত করা ও শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্ট শনাক্ত করার হার অন্তত ৯৯ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

রাউল তোরেজ ‘দ্য ভার্জ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “৩৭ কোটি ডলারের জরিমানা মেটার মতো বড় একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে স্রেফ ‘ব্যবসার খরচ’ ছাড়া আর কিছুই নয়। আমাদের আসল উদ্দেশ্য হলো তাদের ব্যবসার ধরন বদলে দেওয়া।”

মেটার পাল্টা যুক্তি
মেটা এবং তাদের সমর্থিত বিভিন্ন সংস্থা এই দাবিগুলোকে ‘অযৌক্তিক’ এবং ‘বিপজ্জনক’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি:

১. এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন বন্ধ করলে ব্যবহারকারীরা ফেসবুক মেসেঞ্জার ছেড়ে অন্য অ্যাপে চলে যাবে, যা তাদের নিরাপত্তার জন্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
২. ৯৯ শতাংশ কন্টেন্ট শনাক্ত করার দাবিটি গাণিতিকভাবে অসম্ভব। কারণ, যা এখনো শনাক্তই করা যায়নি, তার কত শতাংশ ধরা পড়ল তা মেপে দেখার কোনো সঠিক পদ্ধতি নেই।
৩. মেটার মুখপাত্র ক্রিস গ্রো এক বিবৃতিতে বলেন, “নিউ মেক্সিকোর এই দাবিগুলো অভিভাবকদের অধিকার খর্ব করবে এবং মানুষের বাক-স্বাধীনতা রুদ্ধ করবে।”

পুরো টেক দুনিয়ায় পড়তে পারে প্রভাব
যদিও এই মামলাটি কেবল নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের জন্য, তবে বিচারক যদি বড় কোনো পরিবর্তনের আদেশ দেন, তবে মেটা সারা দেশেই বা বিশ্বজুড়ে সেই নিয়ম কার্যকর করতে বাধ্য হতে পারে। কারণ, একেক রাজ্যের জন্য আলাদা সফটওয়্যার সংস্করণ চালানো অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল। এছাড়া অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, মেটা হয়তো নিউ মেক্সিকোতে তাদের সেবা সাময়িকভাবে বন্ধও করে দিতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, তামাক বা ই-সিগারেট কোম্পানির বিরুদ্ধে যেভাবে এক সময় বড় ধরনের আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে পুরো শিল্পের নীতি বদলে দেওয়া হয়েছিল, মেটার এই মামলাটি সোশ্যাল মিডিয়া শিল্পের জন্য ঠিক তেমন একটি মাইলফলক হতে পারে।

ডিবিটেক/বিএমটি  ।   সূত্র: দ্য ভার্জ