ঠাকুরগাঁওয়ে বিনামূল্যের সিমে প্রতারণার ফাঁদ
অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেবে অপারটের
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিনামূল্যে সিম ও রিচার্জের প্রলোভন দেখিয়ে একটি প্রতারক চক্র সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলছে! তাদের কাছ থেকে রবি ও এয়ারটেল সিম নেওয়ার পর এখন বেশ কিছু পরিবার আইনি জটিলতায় পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের বেশিরভাগই নারী।
ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ জানান, একটি সিম নেওয়ার পর পরে জানতে পারেন তাদের নামে বহু সিম রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। এমনকি কারও কারও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে, যার কারণে তাদের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে আইনি ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে।
এই অভিযোগ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে রবি আজিয়াটা পিএলসি'র চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলেন, “এ ধরনের কোনো অভিযোগ এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেনি। বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী, একজন গ্রাহকের নামে সর্বোচ্চ ১০টি সিম নিবন্ধন করা যায়। গ্রাহক চাইলে যেকোনো সময় তার নামে নিবন্ধিত অপ্রয়োজনীয় সিম বাতিল করতে পারেন। এ বিষয়ে কোনো গ্রাহক সরাসরি অভিযোগ করলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।"
একইভাবে এনআইডি ব্যবহার করে একাধিক সিম নিবন্ধনের মাধ্যমে কেউ প্রতারণার শিকার হলে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার কার্যালয়।
আর ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খায়রুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তাদের নজরে আসায় এরইমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট টেলিকম কোম্পানির সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধান বের করার চেষ্টা করা হবে।
এদিকে সিম প্রতারণার শিকার হওয়ার বিষয় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজা, নুর নাহার বেগম এবং স্ত্রীদের পক্ষে একই এলাকার সাদিকুল ও সোলেমান। এদের মধ্য সাদকুল ও সোলেমানের স্ত্রীকে মামলার শিকার হয়ে ঢাকা ও কক্সবাজারে দৌড় ঝাপ করতে হয়েছে অভিযোগ রয়েছে।
আর ভুক্তভোগী সেলিম রেজার ভাষ্য, তার মা, ভাবি ও বোনকে বিনামূল্যে সিম ও রিচার্জের কথা বলে একটি সিম দিয়ে প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন। তার দাবি, একটি সিম নেওয়ার সুযোগে তাদের এনআইডি কার্ড ব্যবহার করে একাধিক সিম নিবন্ধন করা হয়েছে। ফলে তার পরিবারের এক সদস্যের এনআইডিতে এখন কয়েকটি সিম রেজিস্ট্রেশন করা আছে। বিষয়টি জানার পর তারা খুব আতঙ্কে আছেন।
তিনি বলেন, আমাদের এলাকার অনেক প্রতিবেশীও একইভাবে প্রতারণার শিকার হয়ে অজান্তেই বিভিন্ন মামলার আসামি হয়ে গেছেন। এতে করে আমরা সবাই খুব ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এনআইডি কার্ড ব্যবহার করে বিনামূল্যে একটি সিম দেওয়ার কথা বললেও একই পরিচয়পত্রে একাধিক সিম নিবন্ধন করে নেয় একটি চক্র। চক্রটি সাধারণত ফেরি করে বিভিন্ন স্থানে বসে এসব সিম বিক্রি করে। কিন্তু তখন অনেকের অজান্তেই তাদের এনআইডিতে ১৫ থেকে ৩০টি পর্যন্ত অতিরিক্ত সিম নিবন্ধিত হয়েছে। এসব সিম দেশের বিভিন্ন স্থানে অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় নিবন্ধিত ব্যক্তিরাই মামলার ঝুঁকিতে পড়ছেন।
ডিবিটেক/ডিপিআরএম/এমইউএম



