তারেক রহমানকে ফেসবুকে কটূক্তির অভিযোগে গ্রেফতার ব্যক্তির মুক্তি দাবি 

সাইবার নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা চায় এইচআরএসএস

সাইবার নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা চায় এইচআরএসএস
২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:১৭  
২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:৫০  

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কটূক্তির অভিযোগে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের গোলাম মোস্তফাকে সাইবার নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। সংগঠনটি অবিলম্বে আটক ব্যক্তির মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে সাইবার নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে। 

২২ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এইচআরএসএস-এর নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম এই দাবি জানান।  

বিবৃতিতে জানানো হয়, গত ২০ জানুয়ারি দিবাগত রাতে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের একটি স্থানীয় বাজার থেকে পুলিশ গোলাম মোস্তফাকে গ্রেফতার করে। তারেক রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে ‘অশ্লীল, সহিংসতা, ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক তথ্য প্রচারের’ অভিযোগে স্থানীয় বিএনপি নেতা তৌফিকুল ইসলাম তপু তার বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলাটি দায়ের করেন। গ্রেফতার গোলাম মোস্তফা উপজেলার মোল্লাপাড়া গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে। 

সংস্থাটি বলেছে, “বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা, শেখ পরিবার, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, দলীয় নেতৃবৃন্দ বা সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে সরাসরি কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি ও মতপ্রকাশের কারণে ডিজিটাল ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের ব্যাপক অপব্যবহার করে যেভাবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে, একই ধারাবাহিকতা বর্তমান সময়েও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।” 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে বিশেষ ব্যক্তিকে নিয়ে সমালোচনা, নিন্দা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের কারণে মামলা দায়ের কিংবা বিচার প্রক্রিয়ায় নেওয়া সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের শামিল। এতে প্রতীয়মান হয়, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনও অতীতের সেই ধারাবাহিকতা থেকে পুরোপুরি বের হতে পারেনি। 

সংগঠনটি মনে করে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে সাইবার নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগ এখনও চলমান রয়েছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। 

ডিবিটেক/বিটিএন/ইকে