নিলাম গড়াচ্ছে বরাদ্দে; কপাল খুলেছে জিপি'র 

নিলাম গড়াচ্ছে বরাদ্দে; কপাল খুলেছে জিপি'র 
৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১১:৫৪  

দেশের টেলিকম খাতের বহুল প্রতীক্ষিত ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গ নিলামের সময়সীমা এক মাস বাড়ানোর অনুরোধ জানালেও শেষ পর্যন্ত এ থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত দ্বিতীয় বৃহত্তম অপারেটর রবি আজিয়াটা। একইসঙ্গে এই নিলামে নেই তিন বেসরকারি মোবাইল কোম্পানির অপর অপারেটর বাংলালিংক এবং রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিটকও। 

এমন পরিস্থিতিতে স্পেকট্রাম গ্রহণের সর্বোচ্চ সীমা ১৫ মেগাহার্টজ থেকে কমিয়ে ১০ মেগাহার্টজ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গের ভিত্তিমূল্য ১০ শতাংশ হ্রাস করেছে। ১৫ বছর মেয়াদী লাইসেন্সের জন্য প্রতি মেগাহার্টজ তরঙ্গের দাম ২৬৩ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ২৩৭ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।  

সঙ্গত কারণে আগামী ২১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নিলামে অংশগ্রহণকারী হিসেবে টিকে রইল গ্রামীণফোন। এসএমপি ইস্যুতে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার পর নতুন বছরটিতে যেন দারুণ ওয়াক ওভার পেতে যাচ্ছে দেশের শীর্ষ মোবাইল অপারেটরটি। এখন দেখার বিষয়, একক অংশগ্রহণকারী হিসেবে গ্রামীণফোন কতটুকু তরঙ্গ সংগ্রহ করে এবং এটি দেশের ফাইভ-জি বা উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবায় কী প্রভাব ফেলে।

এদিকে নিলামে অংশ না নেয়া বিষয়ে রবির চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার শাহেদ আলম এক বিবৃতিতে জানান, কৌশলগত ও কারিগরি পর্যালোচনার পর তারা বর্তমান নিলাম প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও এই ব্যান্ডটি নেটওয়ার্কের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে রবির বর্তমান অগ্রাধিকার এবং বাজার পরিস্থিতির সাথে এই নিলামের সময়টি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে কোম্পানিটি মনে করছে।

নিলামে অংশ নিতে গ্রামীণফোন ও রবি শুরুতে আবেদন করলেও তৃতীয় বৃহত্তম অপারেটর বাংলালিংক এবং  কোনো আবেদন জমা দেয়নি। অংশ না নেয়া বিষয়ে বাংলালিংক এর চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, এখন বিনিয়োগ করার অবস্থায় নেই আমরা। কারিগরি প্রতিবন্ধকতাও আছে। আশা করছি, ৮০০ মেগাহার্জে তরঙ্গ পাবো।   

বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী রবির সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ২০২৪ সাল থেকে চলমান প্রস্তুতির কারণে বিটিআরসি পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী নিলাম কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। রবি আজিয়াটা বর্তমানে অন্য একটি ব্যান্ড থেকে তরঙ্গের জন্য আবেদন করেছে, যা কমিশন বিবেচনা করতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

সূত্র মতে, ছোট অপারেটরদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় রাখতেই তরঙ্গের দাম ও পরিমাণ কমানো হয়েছে। তবে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড নিয়ে জটিলতা শুধু এখানেই শেষ নয়; ২০০৭ সালে ‘অলওয়েজ অন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ লিমিটেড’-কে দেওয়া একটি বরাদ্দের কারণে এই ব্যান্ডের ২০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ বর্তমানে দীর্ঘস্থায়ী আইনি বিরোধে আটকে আছে।
ডিবিটেক/এসবিও/ইকে