এনইআইআর নিয়ে অপতথ্য যাচাইয়ের আহ্বান এমআইওবি'র
এনইআইআর বাস্তবায়ন না হলে দেশের রফতানিমুখী মোবাইল ফোন খাতের অপমৃত্য ঘটবে। আর বাস্তবায়ন হলে দাম বাড়বে না বলে ফের কথা দিয়েছেন স্থানীয় উৎপাদকেরা। একই সঙ্গে এ বিষয়ে বাজারে চালু 'অপতথ্য' যাচাইয়ে সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
৮ ডিসেম্বর, সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল ইসলাম মিলনায়তনে মোবাইলফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এমআইওবি) অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানানো হয়। তারা জানান, এনইআইআর বাস্তবায়ন হলে দেশে উৎপাদন বাড়বে, দাম কমবে।
অনুষ্ঠানে মোবাইল ফোন ডিস্ট্রিবিউটররাও উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এমআইওবি সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, শিগগিরই ২০১৯ সালে ৫৭ শতাংশ ভ্যাট কমাতে সরকার কাজ করছে।
ডিস্ট্রিবিশন অ্যাসোসিয়েশন রাহুল কাপুরিয়া বলেন, বিপনন ব্যবস্থায় বৃহৎ জনগোষ্ঠী কাজ করে। এসআর থেকে সেলসম্যান দেশের ৯৫ শতাংশই বৈধ ফোনের ব্যবসায় করছেন। অথচ মিথ্যা তথ্য ও ন্যারেটিভ তৈরি করে আবেগ পুঁজি করে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছ।
'স্থানীয় উৎপাদকদের সুরক্ষায় কর কাঠামো উৎপাদন ও আমদানিতে এক হয় না' উল্লেখ করে এমআইওবি সভাপতি জাকারিয়া শহীদ বলেন, ভোক্তা সুরাক্ষা ও চোরাই মোবাইলের মাধ্যমে অপরাধ কমাতে এনইআইআর এর ফলে কোনে প্রবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
শাওমি'র বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়া উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আজ যারা কর ফাঁকি বা সিন্ডিকেটের অভিযোগ করছেন ঘটনা তার উল্টো। অথচ আমরা আগামীর সম্ভাবনাময় রফতানি খাত হিসবে গড়ে তুলছি। কিন্তু এখন যা হচ্ছে তাতে এ শিল্পের মৃত্যু ঘটাবে।
স্বাগত বক্তব্যে এমআইওবি কোষাধ্যক্ষ ও বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, মিস ও ডিস ইনফরমেশনের কবলে ব্যবসায়ীরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো তথ্য এখন যাচাই করা দরকার।
এমআইওবি জানায়, গ্রে আমদানি বন্ধ হলে অফিসিয়াল পিআই মূল্যের চেয়ে কম দামে প্রিমিয়াম মডেল কিনতে পারবেন। যারা এখন আন্দোলন করছে চাইলে ১০ শতাংশ কমিশনে তাদের ব্যবসায়ের সুরক্ষা দেয়া যেতে পারে। দেশে এখন ১২ হাজার মোবাইল দোকান আছে যেখানে স্মার্টফোন ব্যবহার করা হয়। এদের ৯০ শতাংশ আমাদের সঙ্গে ব্যবসা করেন। আন্দোলনে বসুন্ধরা সিটি মার্কেট ও যমুনা ফিউচার পার্ক ছাড়া সব মোবাইলের দোকান খোলা আছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ভিভো বাংলাদেশের প্রতিনিধি ইমাম উদ্দীন, স্যামসাং ফোন উৎপাদক প্রতিষ্ঠান এক্সেল টেলিকমের সেলস হেড মো সাইফুদ্দিন টিপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র পক্ষ থেকে বলা হয়, অর্থনীতির ভাষায়, বাংলাদেশের স্মার্টফোন বাজার পারফেক্টলি কম্পিটিটিভ। এখানে বহু প্রতিষ্ঠান, উন্মুক্ত বাজার প্রবেশাধিকার এবং শক্তিশালী প্রতিযোগিতা বিদ্যমান। তাই একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বা সিন্ডিকেশনের অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দেশের মোবাইল শিল্প বর্তমানে ১৮টি উৎপাদনকারী কারখানার সমন্বয়ে শক্তিশালী একটি খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানে তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি বিদেশি ও দেশি বিনিয়োগ এবং ৫০ হাজার দক্ষ শ্রমিকের সরাসরি; পাশাপাশি ডিলার, ডিএসআর, সার্ভিস ও খুচরা বিক্রয়সহ ৫০ হাজার মানুষের পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এ খাতে প্রায় ৩০ শতাংশ নারী শ্রমিক সক্রিয়ভাবে যুক্ত।দেশের মাসিক উৎপাদন সক্ষমতা ১৫ লাখ স্মার্টফোন ও ২৫ লাখ ফিচার ফোন, যদিও গ্রে মার্কেটের চাপের কারণে এখনও ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ সক্ষমতা অব্যবহৃত রয়ে গেছে। বর্তমানে বাজারের আকার প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা, যেখানে রয়েছে ২০ হাজার রিটেইল পয়েন্ট এবং ৫ হাজার শীর্ষ রিটেইলার। শিল্পটি বছরে দুই হাজার কোটি টাকার বেশি কর, ৫শ কোটি টাকার মজুরি এবং ৪শ কোটি টাকার ইউটিলিটি বিল প্রদান করে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সংবাদ সম্মেলনে দর্শক সারিতে উপস্থিত বসুন্ধরা মার্কেটের একজন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, গুটিকয়েক ব্যবসায়ীর জন্য নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের মার্কেট বন্ধ রাখতে হয়েছে। এতে তারা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে পড়ছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। ফলে ঢাকার দুই-একটি মার্কেট ছাড়া সারা দেশের মোবাইল মার্কেটের কোনো ধর্মঘট হচ্ছে না।
ডিবিটেক/ডিইউ/ইকে







