ঢাবিতে অনুষ্ঠিত হলো প্রথম বাংলাদেশ সায়েন্স এক্সপোজিয়াম

ঢাবিতে অনুষ্ঠিত হলো প্রথম বাংলাদেশ সায়েন্স এক্সপোজিয়াম
৮ নভেম্বর, ২০২৫ ২০:৫০  
৮ নভেম্বর, ২০২৫ ২২:৫৫  

শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা সৃষ্টি ও তাদেরকে উদ্ভাবনী চিন্তায় অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো “বাংলাদেশ সায়েন্স এক্সপোজিয়াম ২০২৫”। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে ৭ ও ৮ নভেম্বর; দু’দিন ধরে চলে বিজ্ঞান ভিত্তিক সমস্যা সমাধানের ধারণা ও উদ্ভাবনার প্রদর্শনী আর প্রতিযোগিতার এই আসর। 

বয়স ভিত্তিক এক্সপ্লোরার (৬ষ্ঠ–৮ম শ্রেণি); ইনোভেটরস (৯ম–১০ম শ্রেণি); পাইওনিয়ার্স (একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি) এবং স্কলার্স (স্নাতক ও স্নাতকোত্তর)- এই চার ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হয় এই এক্সপোজিয়াম।  প্রতিটি ক্যাটাগরির অংশগ্রহণকারীদের জন্য ছিল উপযোগী প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী, যেখানে তারা নিজেদের জ্ঞান, দক্ষতা ও সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ পেয়েছেন।

আয়োজনে মোট দশটি প্রতিযোগিতামূলক সেগমেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। সেগমেন্টগুলো হলো বাংলাদেশ সায়েন্স অলিম্পিয়াড — পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান, আইসিটি ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা; দলভিত্তিক লিখিত ও বাজার রাউন্ডের কুইজ প্রতিযোগিতা- ব্রেইন স্পার্ক; “বিজ্ঞান কীভাবে বাংলাদেশকে টেকসই উন্নয়নে সহায়তা করতে পারে” তা নিয়ে বিজ্ঞান বক্তৃতা প্রতিযোগিতা- ‘ভয়েস অব সায়েন্স’।

এছাড়াও অনুষ্ঠিত হয়েছে- দেয়ালিকা প্রতিযোগিতা- ওয়াল অব সায়েন্স; বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শনী; পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন প্রতিযোগিতা; রুবিক’স কিউব প্রতিযোগিতা; বৈজ্ঞানিক পোস্টার প্রদর্শনী; ট্রেজার হান্ট প্রতিযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীদের জন্য ব্যবহারিক কর্মশালা।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে দেয়া হয়েছে একটি করে সার্টিফিকেট, কলম এবং রিফ্রেশমেন্ট স্ন্যাকস। ইভেন্টটির পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রতিটি সেগমেন্ট ও ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ তিনজন বা দলকে সম্মাননা ও বিশেষ স্মারক প্রদান করা হবে। 

বিজ্ঞান উৎসবের সমাপনীতে সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ ও ওয়াদুদ ময়মুন্নেসা ফাউন্ডেশনের কোষাধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট এ. কে. এম. বদরুদ্দোজা  এবং ঢাকা ইউনিভার্সিটি সায়েন্স সোসাইটি  মডারেটর ও ঢাবি’র  জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুশতাক ইবনে আয়ুব বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। 

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মাইলস্টোন কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল আলম সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ।

এক্সপোজিয়ামের উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে ঢাকা ইউনিভার্সিটি সায়েন্স সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রাগিব মুত্তাকী বলেন, “বাংলাদেশ সায়েন্স এক্সপোজিয়াম ২০২৫ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; এটি বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষার্থীদের জন্য বিজ্ঞানচিন্তা ও উদ্ভাবনের এক মুক্ত মঞ্চ। আমাদের লক্ষ্য ভবিষ্যৎ গবেষক ও উদ্ভাবকদের জন্য একটি টেকসই প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা।”

আয়োজকদের মতে, দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও উদ্ভাবনী মনোভাবের বিকাশ এবং বাস্তবমুখী দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলাই এই এক্সপোজিয়ামের মূল লক্ষ্য। এসব কার্যক্রম তরুণদের যুক্তিবোধ, দলগত কাজ, সৃজনশীলতা ও বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তাভাবনার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ইভেন্টে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে আয়োজনটিকে বৈচিত্র্যময় করে তোলে। তাদের উদ্ভাবনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ভূমিকম্প-প্রতিরোধী ভবন, কৃষিক্ষেত্রে বন্যার পানি ব্যবহারের অভিনব কৌশল, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও এআই-চালিত স্যাটেলাইট কৃষি ব্যবস্থাপনা, রোবোটিক্স, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য সেন্সর, ভূমিকম্প-পরবর্তী মানবহীন রেসকিউ যান, আধুনিক সফটওয়্যার সিস্টেমসহ আরও বহু উদ্ভাবন। এছাড়া বিজ্ঞান বক্তৃতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা টেকসই উন্নয়নে বিজ্ঞানের ভূমিকা নিয়ে মতামত তুলে ধরে; কুইজ প্রতিযোগিতায় তাদের বৈজ্ঞানিক জ্ঞান প্রদর্শন করে; এবং প্রেজেন্টেশনে প্রতিযোগিতায় ছিল বিজ্ঞান কীভাবে জলবায়ু পরিবর্তনকে রিভার্স করতে পারে, যা তাদের সায়েন্স কমিউনিকেশন দক্ষতা তুলে ধরে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এ আয়োজনে নিরলসভাবে কাজ করেছেন ঢাকা ইউনিভার্সিটি সায়েন্স সোসাইটি ও বেস্টক্যাড কর্প-এর সদস্যবৃন্দসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের স্বেচ্ছাসেবকরা, যাদের নিবেদিত অংশগ্রহণেই এই সফল আয়োজন সম্ভব হয়েছে।

যৌথভাবে এ আয়োজনের উদ্যোগ নেয় ঢাকা ইউনিভার্সিটি সায়েন্স সোসাইটি (ডিইউএসএস), ওয়াদুদ ময়মুন্নেসা ফাউন্ডেশন এবং বেস্টক্যাড কর্প। আয়োজনে পৃষ্ঠপোষকতা করে ট্র্যান্সকম গ্রুপ।

ডিবিটেক/আরএম/ইক